Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

বডিবিল্ডার ফারুকের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এমএসএফ

কারা হেফাজতে মারা গেছেন ফারুক হোসেন। পরিবারের দাবি, পুলিশের নির্যাতনই তার মৃত্যুর কারণ।

এক সময়ের ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ফারুক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তার মৃত্যুর ঘটনায় গভীর ক্ষোভ এবং উদ্বেগও প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

ফারুকের স্ত্রী ঈমা আক্তার হ্যাপীর অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে কারা হেফাজতে মারা গেছেন তার স্বামী। পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছেন তিনি।

নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত চলছে বলে এনিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বডিবিল্ডার ফারুক হোসেনকে, এমন দাবি করে তার বিরুদ্ধে মামলাও করে পুলিশ।

৫৪ বছর বয়সী ফারুক পুরান ঢাকার চকবাজার থানার খাজে দেওয়ান সড়কে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে থাকতেন। গত ১২ জানুয়ারি রাতে বাসা থেকে বেরিয়ে বংশাল থানার কয়েতটুলী ফাঁড়ির পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

অসুস্থ অবস্থায় ১৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে সেদিনই মারা যান তিনি। সিটি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শোয়েবের সাবেক দেহরক্ষী ফারুক সর্বশেষ ইস্টার্ন ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং ওয়ার্কস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

আলোচিত এই ঘটনা নিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ‘হেফাজতে ফারুকের মৃত্যু : প্রশ্নবিদ্ধ সাক্ষী, বের হচ্ছে অসঙ্গতি’ এই শিরনামে সকাল সন্ধ্যা একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ফারুককে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা করেন বংশাল থানার এসআই ইমদাদুল হক, যিনি কয়েতটুলী ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিলেন।

সেই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এক মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য বিক্রি করছে- গোপন সূত্রে পাওয়া এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১২ জানুয়ারি রাত ১১টা ২০ মিনিটে নাজিমউদ্দিন রোডের হাসিনা মঞ্জিলের সামনে অভিযানে যান এসআই ইমদাদুল হক, এএসআই মাসুদ রানা ও এএসআই বুলবুল আহমেদ।

“এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে ওই মাদক ব্যবসায়ী (ফারুক)। এক পর্যায়ে সঙ্গীয় অফিসারদের সহায়তায় ওই আসামিকে আটক করেন ইমদাদুল হক।”

এমএসএফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফারুক হোসেন বাসা থেকে বের হয়ে এক ঘণ্টা পর স্ত্রী হ্যাপীকে ফোন দিয়ে জানান, তাকে সন্দেহজনকভাবে কায়েতটুলী ফাঁড়ির কতিপয় পুলিশ ধরে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করছে। স্ত্রী হ্যাপী সেখানে গিয়ে দেখতে পান তার স্বামীকে হাতকড়া লাগিয়ে চেয়ারে বেঁধে অমানুষিকভাবে মারধর করছে।

এমএফএস বলছে, সে সময় ফাঁড়িতে উপস্থিত এসআই ইমদাদুল হক, মাসুদ রানা, বুলবুল আহমেদসহ অন্যদের পা ধরে তার স্বামীকে ছেড়ে দিতে আকুতি জানান। এসআই ইমদাদুল হক বলেন, ফারুক অনেক বড় ক্রিমিনাল ওকে ছাড়তে হলে এক লাখ টাকা লাগবে। হ্যাপী এত টাকা দিতে পারবে না জানালে, তারা ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এ ক্ষেত্রে অপারগতা প্রকাশ করলে, তাকে তাদের সঙ্গে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয় ও তাদেরকে খুশি করা হলে তার স্বামীকে ছেড়ে দেবে বলে জানায়। রাজি না হওয়ায় ফাঁড়ির পুলিশ বডিবিল্ডার ফারুককে বংশাল থানায় নিয়ে হাজতখানাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় ব্যাপক মারধর করা হয়। এরপর ১৫ জানুয়ারি সকালে ফারকের স্ত্রী হাসপাতাল ফোন করে জানতে পারেন যে তার স্বামী মারা গেছে এবং তার লাশ মর্গে রয়েছে।

এমএসএফ এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বেপরোয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রীর প্রতি যে আচরণ করেছে তা ন্যাক্কারজনক ও অমার্জনীয় অপরাধ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমএসএফ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু ও নারীকে কূপ্রস্তাব দেওয়ার মতো অবমাননাকর আচরণের অভিযোগটি তদন্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন এবং সত্যতা সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist