Beta
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

বসন্তের বৃষ্টিতে ক্ষেতেই আলু পচার শঙ্কা  

বগুড়ার কাহালু উপজেলার সরাই গ্রামে বৃষ্টিতে ভেজা ক্ষেত থেকে আগে উঠানো আলু তুলে আনছেন কৃষকরা।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার সরাই গ্রামে বৃষ্টিতে ভেজা ক্ষেত থেকে আগে উঠানো আলু তুলে আনছেন কৃষকরা।
Picture of আসাফ-উদ-দৌলা নিওন

আসাফ-উদ-দৌলা নিওন

আলু উঠে আসার শেষ সময়ে বসন্তের বৃষ্টিতে ফসলটি পচে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। 

কৃষকরা বলছেন, আলু পরিপক্ক হতে অন্তত ৮০ দিনের মতো মাটিতে রাখতে হয়। বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে আরও কিছু দিন থাকে। কিন্তু এই সময়ে বৃষ্টি পেলে আলুতে রস ধরে। এ কারণে এসব আলু বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। তবে পানি না জমলে আর রোদ পেলে সেই সংকট থাকে না।  

গত শনিবার রাত থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে বগুড়ার অনেক এলাকায় আলুর ক্ষেতে জমে যায় পানি, এতে ফসলটি পচার আশঙ্কায় হা-হুতাশ করছেন কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টি হলেও জমিতে পানি জমেনি, ফলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। 

বগুড়া আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, তা মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি।   

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের তথ্যমতে, এবার বগুড়ায় ৫৫ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ শতাংশ আলু উঠিয়েছেন কৃষকরা। 

বাকি জমিতে থাকা ফসলে ক্ষতির শঙ্কা করছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, অসময়ের বৃষ্টির কারণে আলু ওঠানো যাচ্ছে না।    

বগুড়ার কাহালু উপজেলার সরাই গ্রামের কৃষক আইয়ুব প্রামানিক বলেন, “আমি দুই একদিনের মধ্যে আলু তুলে বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হুট করে গত রাতে বৃষ্টি হয়ে জমিতে পানি জমে গেছে। পানি না শুকানো পর্যন্ত আলু ওঠাতে পারছি না। তাছাড়া পানি জমে যাওয়ায় আলু পচে যেতে পারে, এই আলু আর সংরক্ষণ করতে পারব না।” 

বৃষ্টির পর আলু ক্ষেতে পানি জমে আছে।

একই উপজেলার এরুল গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলামের আড়াই বিঘা জমিতে স্টিক জাতের আলু তোলার সময় হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে সাময়িক সমস্যা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে শৈত্যপ্রবাহে আলুতে মড়ক লাগে। অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। তাই এবার বৃষ্টি দেখে প্রথমে ভয় লেগেছিল। কিন্তু মাটিতে সব পানি টেনে গেছে। জমে থাকলে ক্ষতি হতো। 

শিবগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর নয়াপাড়ার আলু চাষী আজমল হোসেনের একই কথা। তিনি বলেন, আমাদের এখানকার মাটিতে পানি জমে না। তবে বৃষ্টি দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হলে আলুর জন্য খারাপ হতো। কারণ এখন সবাই মাঠ থেকে আলু তুলছে। আবার যারা আগেই তুলে ফেলেছে তাদের জন্য এখন বৃষ্টিপাত খুবই দরকার। কারণ তারা ধানের আবাদ করছেন।

দুপচাঁচিয়া উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় সেখানেও বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে উপজেলার বেশিরভাগ এলাকার মাটি দোঁআশ, বেলে দোঁআশ হওয়ায় বৃষ্টির পানি মাটিতেই শুকিয়ে গেছে। 

চামরুল ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের এমদাদ হোসেন বলেন, “প্রতি বছর তিন বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করি। আলু আজই (সোমবার) উত্তোলনের কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় আরও এক বা দুই দিন মাঠে রাখব। পানি যেহেতু জমেনি। তাই আশা করছি, আলুতে পচন ধরবে না।”

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকার বলেন, এই উপজেলার মাটি ভালো। এখানে সাধারণত পানি জমে না। জেলার মধ্যে শিবগঞ্জে যেহেতু বেশি আলু চাষ হয়। তাই বৃষ্টির পরপরই আমরা খোঁজ নিয়েছি। কোথাও পানি জমেনি। আর উপজেলায় তেমন বৃষ্টিপাতও হয়নি। ফলে আলু নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।

বৃষ্টিতে জেলায় আলুর ক্ষতির শঙ্কা নিয়ে কথা হয় বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মতলবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “জেলার সব এলাকায় একই অনুপাতে বৃষ্টি হয়নি।”

বৃষ্টি আর না হলে আলুর ক্ষতির শঙ্কা নেই বলে মনে করেন তিনি।

বৃষ্টিতে ভেজা ক্ষেতে পড়ে আছে আগে তোলা আলু।

এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো বাতাস, বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। এতে বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় গড় বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছিল ২৮ মিলিমিটার। ওই সময় অধিকাংশ এলাকার আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

গত মৌসুমে জেলায় আলুর আবাদ হয়েছিল ৫৩ হাজার ২১৫ হেক্টর। আর উৎপাদন হয় ১২ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। এবার ১৩ লাখ ২০ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত জেলা ধরা হয় বগুড়াকে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ৪২টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা হয়। এসব হিমাগারে অন্তত সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করতে পারেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত