Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

১০ বছর আগে কেন অভিমানে মাঠ ছেড়েছিলেন বিউটি

বাংলাদেশের নিভু নিভু অ্যাথলেটিকসে জ্বলজ্বলে তারকা সাবেক দ্রুততম মানবী নাজমুন নাহার বিউটি।  রবিবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। ছবি: সকাল সন্ধ্যা।
বাংলাদেশের নিভু নিভু অ্যাথলেটিকসে জ্বলজ্বলে তারকা সাবেক দ্রুততম মানবী নাজমুন নাহার বিউটি। রবিবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। ছবি: সকাল সন্ধ্যা।
Picture of ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মাথায় গোলাপী হিজাব। গায়ে চেক ওভারকোট। প্রথম দেখায় নাজমুন নাহার বিউটিকে চেনা দায়! বাংলাদেশের নিভু নিভু অ্যাথলেটিকসের জ্বলজ্বলে তারকা। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রয়েছে একাধিক পদক। অংশ নিয়েছেন এসএ গেমস, এশিয়ান গেমস, এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ, অলিম্পিক গেমসে। মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের সবচেয়ে বেশি ১৭ বারের দ্রুততম মানবী।

শনিবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শেষ হওয়া ৪৭তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসে সেই বিউটিকেই দেখা গেল বিচারকের ভূমিকায়। এর আগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী দিনে পোল ভল্টার শরিফুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন।

যে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি সময় কেটেছে, সেখানেই প্রায় ১০ বছর পর ফিরেছেন। কেন এতদিন ফেডারেশনে আসেননি? প্রশ্নটা করতেই বিউটির অভিমানী উত্তর, “ কেন আসবো? এই মাঠ থেকেই আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল একদিন।”

২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমসের ঘটনা। সেদিন নোয়াখালীর এক অ্যাথলেটের ফল নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। মাঠে দাঁড়িয়ে ওই অ্যাথলেটের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। সে জন্যই তাকে ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন। সেই যে মাঠ ছেড়েছিলেন, এরপর আর কোনও দিন মাঠমুখী হননি!

বিউটি যখন ট্র্যাক মাতাতেন। ছবি: সংগৃহীত।

আবারও প্রিয় স্টেডিয়ামে এসে চেনামুখগুলো দেখতে পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত বিউটি। মূলত বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিবের অনুরোধেই এসেছেন বলে জানালেন, “মন্টু ভাইকে (আবদুর রকিব) জিজ্ঞাসা করেছিলাম এখানে কি ওই কর্মকর্তা আছেন। উনি বলেন, এবার সে এই কমিটিতেই নেই। উনার জোরাজুরিতে না করতে পারিনি। জাজের দায়িত্ব পালন করেছি।”

বর্তমানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করছেন বিউটি।  

২০০৫ সালে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ১০০ মিটারে দৌড়ে বিউটি সময় নিয়েছিলেন ১১.৯ সেকেন্ড। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক গেমসের হিটে টাইমিং ছিল ১২.৫২ সেকেন্ড। সময়ের বিবর্তনে কেটে গেছে দেড় যুগ। কিন্তু মেয়েদের ১০০ মিটারে কোনও নতুন মুখ উঠে আসে না। বিউটির রেখে যাওয়া পথে একজনই এখনও রাজত্ব করে চলেছেন- বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর শিরিন আক্তার। এবার শিরিন দ্রুততম মানবী হয়েছেন। সামার ও জাতীয় আসর মিলিয়ে হয়েছেন ১৫ বার। এবার শিরিন সময় নিয়েছেন ১২.১১ সেকেন্ড।  

সময়ের পরিবর্তনে অ্যাথলেটিকসে কোনও বদল আসেনি। ১০০ মিটারের টাইমিংয়ে নেই উন্নতি। এ নিয়ে আক্ষেপ করলেন বিউটি, “এই যে নতুন মুখ উঠে আসছে না, টাইমিং আগের জায়গায় আটকে আছে। এটা অ্যাথলেটিকসের জন্য ভালো কিছু না। প্রতিদ্বন্দ্বিতা জানানোর মতো অ্যাথলেট থাকা দরকার। এজন্য অন্য অ্যাথলেটদেরও সমান অনুশীলন ও অন্য সুবিধা দেওয়া উচিৎ।”

ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় শিরিন-বিউটিদের শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়ে সেই দাপট হারিয়ে যায়। উচ্চতায় এর বড় কারণ মনে হয়েছে বিউটির, “রানিং ইভেন্টে উচ্চতা একটা বড় বিষয়। অন্য দেশের অ্যাথলেটরা আমাদের চেয়ে উচ্চতায় এগিয়ে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সুযোগ-সুবিধার পার্থক্য তো রয়েছেই।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত