Beta
রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

ঘরের আচার থেকে পাঁচ তারকার খাবার নিয়ে নিরাপদ খাদ্য মেলা

নিরাপদ ও পুষ্টিসম্পন্ন খাবার তুলে ধরতে মেলায় স্টল সাজিয়ে বসেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ছবি : হারুন অর রশীদ
নিরাপদ ও পুষ্টিসম্পন্ন খাবার তুলে ধরতে মেলায় স্টল সাজিয়ে বসেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ছবি : হারুন অর রশীদ

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে সেইফ ফুড কার্নিভাল বা নিরাপদ খাদ্য মেলা।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই খাতে উদ্যোক্তা তৈরি, জিআই পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পণ্যের ব্র্যান্ডিং, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা শেখানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রশিক্ষণসহ পোড়া তেলের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কেও জানানো এই মেলার উদ্দেশ্য।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুদিনের এই আয়োজনে অংশ নিয়েছিল ক্ষুদ্র পর্যায়ের উদ্যোক্তা থেকে পাঁচ তারকা হোটেলগুলোও। ছিল ছোট পরিসরে বাড়িতে বসে তৈরি ও বাজারজাত করা আচার, পাশাপাশি নামী শেফদের তৈরি মুখরোচক সব খাবারও।

আয়োজনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষের যুগ্ম পরিচালক রেবেকা খান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, মূলত মানুষের মধ্যে নিরাপদ খাবারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই উদ্দেশ্য। সেইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ খাবারকে পরিচয়ও করিয়ে দিতে চাই আমরা।

শুধু খাবার প্রদর্শন নয়, নিরাপদ খাবার বিষয়ে সেমিনারও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

মেলায় অংশগ্রহণ করা ৭০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বড় ব্র্যান্ডের সংখ্যাই বেশি। মেলা ঘুরে আকিজ, প্রাণ, কোকাকোলা, ফিনলে, বেঙ্গলমিট, ইউনিলিভার, নেসলে, ডমিনোজ, আবুল খায়ের, স্কয়ার গ্রুপ, বনফুল, ওয়েলফুড, প্রিমিয়াম সুইটস, ব্রেড অ্যান্ড বিয়ন্ড, সুমি’স হট কেক, ননী, হলিডে ইন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ক্রাউন প্লাজা, প্যান প্যাসিফিক, ঢাকা রিজেন্সি, হোটেল আমারির মত বড় প্রতিষ্ঠানের স্টলের দেখা মিলল।

সেইসঙ্গে এক কোনায় চোখে পড়ল জান্নাত টেস্টি আচার নামে ছোট্ট একটি স্টল।

উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস নিজেই বসেছিলেন। জানালেন, ঢাকার মোহাম্মদপুরে নিজের হাতেই আচার তৈরি করেন তিনি। প্যাকেজিং থেকে বাজারজাতকরণের সব কাজই করেন তিনি। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেই চলে তার ব্যবসা।

সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিরাপদ খাদ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মশালায় বেশ কয়েকবার অংশ নিয়েছেন। এবারের মেলায় শিরা দ্রবণের আনারস ও আঙ্গুরের নতুন আচার এনেছেন।

সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, “খাদ্য অধিদপ্তর থেকে নেওয়া প্রশিক্ষণের পরই এ আচার তৈরি করেছি। প্রথমে বাড়িতে করে দেখেছি, তার বিএসটিআই-এর নিবন্ধন নিয়েছি। এরপরই তা বাজারে এনেছি। এ মেলার মাধ্যমে আমার পণ্যের প্রচার হবে বলে আশা করি।”

মেলায় অংশগ্রহণ করেছে ঢাকার অতি পরিচিত ভাগ্যকূল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপন তপন দেবনাথ বলেন, “মূলত প্রচারকে মূখ্য ধরেই আমরা এ মেলায় এসেছি। এখনকার ক্রেতারা খাবারের মান নিয়ে চিন্তিত থাকে। তাই আমরা এ মেলায় এসেছি যেন মানুষ আমাদের দেখতে পারে এবং আমাদের খাদ্যের নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় জানতে পারে।

“আমাদের সব মিষ্টি মেশিনে তৈরি হয়। সকল নিয়ম কানুন মেনে আমরা ঢাকায় দুটি কারখানা করেছি। সেখান থেকে উৎপাদিত পণ্য আমাদের আটটি শাখায় পাঠানো হয়।”

ভাগ্যকূল ছাড়াও মেলায় রয়েছে কুমিল্লার মাতৃভাণ্ডার,বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার,বনলতা সুইটস, প্রিমিয়ার সুইটসের মত প্রতিষ্ঠানও।

পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভালে পর পর দুবার রেস্টুরেন্ট ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান পাওয়া কক্সবাজারের শালিক রেস্টুরেন্টও এসেছে মেলায়। প্রতিষ্ঠানটির স্টলের সামনে দেখা গেল বেশ ভিড়। স্টলে কাঁকড়া, কোরাল, লবস্টার, স্যামন, রূপচাঁদাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের সমাহার।

শালিকের হেড শেফ ফাহিম রিয়াদ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমরা লাইভ কিচেন পরিচালনা করি। আপনি সামুদ্রিক মাছ নিজে পছন্দ করবেন, আমরা ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে তা রান্না করে পরিবেশন করব। রান্নাও হবে সবার সামনে। অন্যদের মত আগে থেকে রান্না করে রাখা খাবার আমরা বিক্রি করি না। ফলে ক্রেতাও দেখতে পান যে কীভাবে বা কোন পরিবেশে আমরা রান্না করছি।”

প্যান প্যাসিফিকের মতো বহুজাতিক চেইন প্রতিষ্ঠানের স্টলও রয়েছে মেলায়।

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের এক্সিকিউটিভ শেফ হাবিবুর রহমান জহির সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমরা যারা ফাইভ স্টার স্ট্যান্ডার্ড মেনে কাজ করি তাদের জন্য ফুড সেইফটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবসময়ই ক্ষতিকারক উপাদান বাদ দিয়ে খাবার তৈরি করি। দেশের অনেক মানুষই সেইফ ফুড পাচ্ছে না। আমরা মেলায় মূলত এসেছি সরকারের এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে, মানুষের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করার জন্য।”

দুদিনের মেলা থেকে ছয় হাজার কেজির বেশি লাচ্ছা সেমাইয়ের অর্ডার পেয়েছেন বলে জানালেন  দেশের উত্তরাঞ্চলের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আকবরিয়ার ডিজিএম মো. আমিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এ মেলায় এসে নিজেদের পণ্য দেশের মানুষের সামনে যেমন তুলে ধরা যাচ্ছে, বিদেশে রপ্তানির সুযোগও মিলছে।

মেলায় যেসব ঐতিহ্যবাহী খাবারের দেখা মিলেছে তার মধ্যে রয়েছে মুক্তাগাছার মন্ডা, রাজশাহীর কালাই রুটি, কুমিল্লার মাতৃভাণ্ডারের রসমালাই, বগুড়ার দই, চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস ইত্যাদি।

কেএফসি, পিজা হাট, হারফি, বার্গার কিং, সুলতান’স ডাইন ও কাচ্চি ভাইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও ছিল মেলায়।

তবে প্রথমবার আয়োজিত এ মেলা নিয়ে কিছু অসন্তোষও পাওয়া গেল। মেলায় ডুবোতেলে ভাড়া যেসব খাবার বিক্রি হচ্ছে তা মানসম্মত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা।

মেলায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে খাবারের স্টলগুলো। শালিক রেস্টুরেন্টের হেড শেফ ফাহিম রিয়াদ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমাদের মাছ ওয়াশ করার জন্য পানি লাগে, কিন্তু এখানে পানির কোনও ব্যবস্থা নেই। আমরা মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করছি। সেটা সমস্যা নয়, কিন্তু সেই পানি কোথায় যাবে তার কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি।”

উপায় না পেয়ে নিজেরা ড্রাম কিনে সেই ড্রামে পানি ফেলা হচ্ছে। মেলা শেষে নিজেদের উদ্যোগেই সেসব পানি দূরে ড্রেনে ফেলে দিয়ে আসতে হচ্ছে স্টলগুলোকে।

একই অভিযোগ চট্টগ্রামের মেজবান ও রাজশাহীর কালাই রুটি নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণকারীদের।

মেলা ঘুরে দেখা যায় খালি পড়ে রয়েছে মিডিয়া সেন্টার, ইনফরমেশন, ফায়ার সার্ভিস এবং হেলথ সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বুথগুলো।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist