Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

এপার থেকে দেখা যাচ্ছে আরাকান আর্মির তৎপরতা

আরাকান
ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির মাইক্রোবাস। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নটি মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষেই। সীমান্তের ওপারের এলাকার নাম ঢেঁকিবনিয়া। একটু খেয়াল করলেই ঢেঁকিবনিয়ার দৃশ্য এপার থেকে খালিচোখেই দেখা যায়, ক্যামেরার লেন্স জুম করলে তা আরও স্পষ্ট হয়।

গত কয়েকদিন ধরে সেখানে কিছু তৎপরতা চোখে পড়ছে স্থানীয়দের। দেখা মিলছে মাইক্রোবাসসহ গাড়ির আনাগোনা, প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এমন দৃশ্যেরও দেখা মিলছে।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও স্বাধীনতাকামী আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয় ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে। যা চলে টানা প্রায় ১২দিন। এরপর বিচ্ছিন্নভাবে কিছু গোলাগুলি হলেও ২৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত।

সংঘর্ষের পর মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি সদস্যদের হঠিয়ে ঢেঁকিবনিয়ার সীমান্ত ফাঁড়ি বা চৌকিগুলো দখলে নেয় আরাকান আর্মি।

এই সীমান্তে আরাকান আর্মির অবস্থান শক্ত উল্লেখ করে স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েকদিনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ধারণা করা হচ্ছে সীমান্তে শক্তি বাড়াচ্ছে বিদ্রোহীরা। নতুন করে চৌকি ও বাঙ্কার তৈরির কাজও চলছে। তারা হয়ত, নিজস্ব পুলিশ ও সীমান্ত বাহিনী তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী এলাকাটি সীমান্তের একেবারে লাগোয়া। ওই এলাকার কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে সড়কটি ঘেঁষে রয়েছে পাহাড়।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ঢেঁকিবনিয়ার ওই পয়েন্টের তিনটি পাহাড়ে আরাকান আর্মির সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এই চার ঘণ্টায় কমপক্ষে ৫-৭ বার দুইটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ওই এলাকায় আসা যাওয়া করেছে। এসময় পাহাড়ের চূড়ায় দেখতে পাওয়া যায় কয়েকজন নারীকেও। যাদের কারও পরনে ছিল শরীরে সবুজ, কারও শরীরে ছিল লাল রঙে পোশাক। স্বাভাবিক পোশাক পরিহিত মানুষদেরও সেখানে অবস্থান করতে দেখা যায়।

ওই সময় কয়েকজন মানুষকে কিছু নির্মাণ সামগ্রী এনে মজুদ করতে এবং পরে সেসব পাহাড়ের উপরে নিয়ে যেতেও দেখা যায়।

সেসময় পাহাড়ে টিনের তৈরি একটি চৌকির কাছ থেকে ধোঁয়া উড়ছিল। স্থানীয়রা বলছেন, আরাকান আর্মির সদস্যরা সেখানে রান্না-বান্না করছেন। এটি সেই চুলারই ধোঁয়া।

জলপাইতলী এলাকার যুবক মনির আলম বললেন, গত কয়েকদিন ধরেই ওপারে আরাকান আর্মির তৎপরতা বেড়েছে। আগে গাড়ি দেখা না গেলেও এখন গাড়ির আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ে নতুন চৌকি তৈরি, বাঙ্কারও তৈরি করা হচ্ছে বলে এপার থেকে মনে হচ্ছে।

আরাকান
ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে ওপারে দেখা যাচ্ছে আরাকান আর্মির সদস্যদের। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল আলম চৌধুরীও মনে করছেন, সীমান্তের ওপারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে আরাকান আর্মি।

গত কয়েকদিনে সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির সদস্যদের আনাগোণা কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানান মো. শামসুল নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা।

ক্যাম্প পাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “এখন পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে রাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু গুলির শব্দ শোনা গেছে। যতটুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে যেখানে পাহাড়ে নতুন সদস্য এনে জড়ো করা হয়েছে। এদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে আরাকান আর্মির নিজস্ব পুলিশ বাহিনী এবং সীমান্ত বাহিনী তৈরির প্রশিক্ষণ চলছে। যেখানে পাহাড়ে-পাহাড়ে বাঙ্কার তৈরি খবরও পাওয়া যাচ্ছে।”

তমব্রুর বাসিন্দা ফরিদুল আলম জানালেন, মিয়ানমারের তমব্রু রাইট বিওপিতে আরকান আর্মি সদস্যদের ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন তারা। গত কয়েকদিনে সে সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির সদস্যরা নিজেদের মতো রয়েছেন বলে জানান ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ।

তিনি বলেন, “তারা নিজেদের মতো কাজ করছেন। মাঝে-মধ্যে দুই-একটি গুলির আওয়াজ শোনা যায়। ওটা অনেকটা নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার মতো। সীমান্তের ওপারে চৌকি তৈরিসহ অন্যান্য বিষয়গুলোও নিজেদের মতো করেই ব্যবস্থাপনা করছেন তারা।”

সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির তৎপরতা দেখা গেলেও যেহেতু সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই, তাই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত নন স্থানীয়রা। নতুন করে অনুপ্রবেশের শঙ্কাও করছেন না তারা।

আরাকান আর্মির তৎপরতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বক্তব্য দেয়নি বিজিবি।

তবে শুরু থেকেই বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, অনুপ্রবেশের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বাহিনীর সদস্যরা।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি তমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত পরিদর্শন করেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সদা তৎপর।

“সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিজিবির নিয়ন্ত্রণে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে ধৈর্য ধারণ করে, মানবিক থেকে এবং আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, অবৈধভাবে আর একজনকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist