Beta
শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪
Beta
শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

গাজায় গণহত্যা : কী সিদ্ধান্ত দেবে আইসিজে

Gaza
Picture of মাহবুবুল আলম তারেক

মাহবুবুল আলম তারেক

ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে গত ২৯ ডিসেম্বর হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর গণশুনানি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার, যা চলবে দুদিন ধরে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলাটি করে এক বিরল নজির স্থাপন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই প্রথম গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ নিয়ে আইসিজেতে মামলা হলো। তবে ইসরায়েল দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ২৩ হাজার ৩৫৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই সংখ্যা প্রতিদিনই শয়ে শয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। নিহতদের মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা আইসিজে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত। এটি নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত। বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি ও আইনি বিষয়ে পরামর্শমূলক মতামত দেওয়ার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠা করা হয় এই আদালত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মতো আইসিজে গণহত্যা বা অন্য কোনও চরম গুরুতর অপরাধের বিচার করতে পারে না। তবে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইসিজের মতামত বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

গণহত্যা

বিবিসির এক প্রতিবেদন বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যার সংজ্ঞা হলো, ‘‘কোনও জাতি, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, নরগোষ্ঠী বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে এক বা একাধিক কাজ করা।’’

যেমন- কোনও জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা করা বা গুরুতর শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি করা।

ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও জনগোষ্ঠীর ওপর জীবনের এমন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়া, যা তাদের আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারে।

কোনও জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিশু জন্মরোধ করার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা আরোপ করা।

জোর করে কোনও জনগোষ্ঠীর শিশুদের অন্য কোনও জনগোষ্ঠীতে স্থানান্তর করা।

দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগ

দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগ, ইসরায়েল গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। দেশটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১৯৪৮ সালে গৃহীত জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনেছে। এই কনভেনশনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েলও স্বাক্ষর করেছে । চুক্তিতে স্বাক্ষর করা দেশগুলোর সম্মিলিতভাবে কোনও আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ ও বন্ধ করার অধিকার রয়েছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্রে দক্ষিণ আফ্রিকা বলেছে, গাজায় ব্যাপক সংখ্যায় বেসামরিক মানুষ হত্যা, বিশেষ করে শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের গণহারে বিতাড়ন ও বাস্তুচ্যুত এবং তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফিলিস্তিনিদের ঊন-মানুষ বা অর্ধ-মানুষ আর অর্ধ-পশু হিসেবে আখ্যায়িত করে সমষ্টিগতভাবে শাস্তি দেওয়ার জন্য উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। এসবই গণহত্যার অভিপ্রায় ও সংঘটনের প্রমাণ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের এমন সব ‘কাজ ও উপেক্ষা’র পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, যেগুলো চরিত্রগতভাবে গণহত্যামূলক বলে দাবি দেশটির। তাদের অভিযোগ একটি জাতি, নরগোষ্ঠী ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হিসেবে ফিলিস্তিনিদের উল্লেখযোগ্য অংশকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবেই ইসরায়েল এসব করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলা এবং হামলার সময় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ক্ষয়-ক্ষতি রোধের বিষয়টি উপেক্ষা করা গণহত্যার শামিল।

এছাড়া গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ এর প্রমাণ হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যসহ ইসরায়েলি জনসাধারণের বক্তব্যও তুলে ধরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

মামলায় গাজার ওপর খাদ্য অবরোধ, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ধ্বংসের অভিযোগও আনা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা বলছে, ‘ফিলিস্তিনিদের গোষ্ঠীগতভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই’ ইসরায়েলের এই অবরোধ আরোপ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার ৮৫ শতাংশেরও বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। খাদ্যের অভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো। ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের গাজা ভূখণ্ড ২০০৭ সাল থেকেই ইসরায়েলের অবরোধে রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

দক্ষিণ আফ্রিকার আনা অভিযোগ অস্বীকার করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘‘না, দক্ষিণ আফ্রিকা, আমরা গণহত্যা করতে আসিনি। হামাস গণহত্যা করতে এসেছে। পারলে হামাস আমাদের সবাইকে হত্যা করত। অথচ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী যতটা সম্ভব নৈতিকভাবে কাজ করছে।’’

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে তারা বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। যেমন- আসন্ন হামলার ব্যাপারে সতর্ক করে আকাশ থেকে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। বেসামরিক লোকদের ফোন দিয়ে তাদের টার্গেট করা ভবন ছেড়ে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। বেসামরিক লোকরা যখন রাস্তায় থাকে তখন হামলা করা হয়নি।

ইসরায়েল বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের উদ্দেশ্য হামাসকে ধ্বংস করা, ফিলিস্তিনিদের নয়।

আইসিজে কি গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবে

দক্ষিণ আফ্রিকা চায় আইসিজে ইসরায়েলকে ‘অবিলম্বে গাজার ভেতরে ও গাজার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত করার’ নির্দেশ দিক। কিন্তু এমন আদেশ দেওয়া হলে ইসরায়েল যে তা উপেক্ষা করবে, সেটা নিশ্চিত। কারণ ইসরায়েলকে আদেশ মেনে চলতে বাধ্য করার ক্ষমতা নেই আইসিজের।

তাত্ত্বিক দিক থেকে আইসিজের রায়গুলো এর সদস্য দেশগুলোর জন্য মেনে চলা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই রায় বাস্তবায়নের ক্ষমতা নেই আইসিজের।

২০২২ সালে আইসিজে রাশিয়াকে ইউক্রেনে ‘সামরিক অভিযান অবিলম্বে স্থগিত করার’ নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া সেই আদেশ মানেনি। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই আইসিজের সদস্য।

তবে আল জাজিরা বলছে, গাজা ও ইসরায়েলের ক্ষেত্রে আইসিজে এমন আদেশ নাও দিতে পারে। কারণ গাজা আইসিজের সদস্য না হওয়ায় হামাসকে কোনও নির্দেশ দিতে পারবে না আদালতটি। ফলে আইসিজে ইসরায়েলকেও যুদ্ধ বন্ধের আদেশ দিতে চাইবে না। সংস্থাটি বড় জোর ইসরায়েলকে তীব্রতা কমাতে এবং বেশি সংযম দেখাতে পরামর্শ দিতে পারে।

মামলার রায় আসতে কতদিন লাগবে

দক্ষিণ আফ্রিকার অনুরোধে আইসিজে হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে। তবে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে কি না, তার চুড়ান্ত রায় আসতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। ২০১৯ সালে মিয়ানমারের সেনা শাসকদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনেছিল গাম্বিয়া। চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেই মামলার রায় এখনও আসেনি।

আইসিজে কীভাবে মামলার রায় দেয়

আইসিজের বিচারক সংখ্যা ১৫ জন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে ৯ বছরের জন্য তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কোনও সদস্য দেশ থেকে একজনের বেশি বিচারক নিয়োগ দেওয়া যায় না। আইসিজের একজন প্রেসিডন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকেন, যাদের বিচারকদের গোপন ভোটে নির্বাচিত করা হয়।

নীতিগতভাবে বিচারকদের নিরপেক্ষ থাকার কথা বলা হয়। কিন্তু অতীতে অনেক দেশের বিচারককে নিজ দেশের প্রতি পক্ষপাত করতে দেখা গেছে। যেমন- ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়া ও চীন থেকে নিয়োগ পাওয়া বিচারকরা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তবে বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা বা ইসরায়েলের কোনও বিচারক নেই আইসিজেতে। অবশ্য, তারা চাইলে অ্যাডহক বিচারক নিয়োগ দিতে পারবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েল তার সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক আহারন বারাককে এই মামলার জন্য আইসিজেতে পাঠাচ্ছে। আহারান হলোকাস্টের সময় বেঁচে যাওয়াদের একজন। তার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতি সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়োগ দিয়েছে তাদের সাবেক উপ-প্রধান বিচারপতি ডিকগাং মোসেনেকে।

প্রাথমিক শুনানিতে আইসিজে এই মামলায় আদৌ তার এখতিয়ার আছে কি না, তা নির্ধারণ করবে। সাধারণত, এখতিয়ার প্রতিষ্ঠিত হয়, যদি মামলার বাদী-বিবাদী দেশগুলো আদালতের ক্ষমতা স্বীকার করে বা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েল উভয়েই জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু গাজা আইসিজের সদস্য নয়। ফলে ইসরায়েল হয়তো এক্ষেত্রে আইসিজের এখতিয়ার অস্বীকার করতে পারে।

যেমন- রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই আইসিজের সদস্য ছিল। তা সত্বেও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া আইসিজের এখতিয়ার অস্বীকার করেছিল।

অন্য কোনও দেশও এই মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকা বা ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়াতে পারবে। রাশিয়া-ইউক্রেনের সময় রেকর্ড সংখ্যক ৩২টি দেশ ইউক্রেনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। তবে এতে মামলার রায় আসতে সময় বেশি লাগে।

এই মামলায় ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়া, তুরস্ক, বলিভিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও একাধিক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

চূড়ান্ত রায় কেমন হতে পারে

বিচারকরা কীভাবে ভোট দেবেন বা কী রায় দেবেন, তা অনুমান করা কঠিন। তবে কয়েক মাস আলোচনা-পর্যালোচনার শেষে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে দেখেন, তাহলে তারা তেল আবিবের বিরুদ্ধেই রায় দেবেন। ইসরায়েল আইসিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য থাকবে।

আইসিজের রায় মানতে বিবাদী আইনতগতভাবে বাধ্য এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, রায় বাস্তবায়নের কোনও ক্ষমতা নেই আইসিজের।

আইসিজের রায় ইসরায়েল বাস্তবায়ন না করলে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি তুলতে পারবে। তবে সেখানে ইসরায়েলের এক নম্বর সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে আইসিজের রায় থেকে রক্ষা করতে পারে, যেভাবে চলমান গাজা যুদ্ধে একাধিকবার করেছে। ১৯৪৫ সাল থেকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা ৩৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩৪টিতেই ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রায় বাস্তবায়নে আইসিজের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওয়াশিংটনভিত্তিক তাহরির ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট পলিসির ডিরেক্টর মাই এল-সাদানি। তিনি বলেছেন, “এ কারণেই আইসিজের রায় নিয়ে কম ভেবে বরং এর প্রক্রিয়াটি নিয়ে বেশি ভাবা উচিৎ।” তার মতে, মামলাটি যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের ওপর আরও ভিন্নভাবে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কার্যকর হতে পারে।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “এই মামলা ভিন্নভাবে ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে কাজ করতে পারে। ইসরায়েলের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির শিকারদের অভিজ্ঞতা ও জবানবন্দি রেকর্ড করা, অপরাধীদের নাম উল্লেখ ও লজ্জা দেওয়া অথবা একটি আন্তর্জাতিক নজির স্থাপন করার মাধ্যমে তা করা যেতে পারে।”

দক্ষিণ আফ্রিকা কেন মামলা করল

গাজায় যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতার দীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামকে দেশটি তাদের বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের সঙ্গেও এক করে দেখে।

১৯৯৪ সালে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ-সংখ্যালঘু সরকার দেশটির কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠদের ওপর বৈষম্য করেছিল।

অবশ্য, ইসরায়েলে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলারও নিন্দা জানিয়ে দেশটির জিম্মিদের মুক্তি দিতে হামাসের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

তবে গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা দেশটির ইহুদি নেতাদের বলেন, তার সরকার ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। কারণ ফিলিস্তিনিরা ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বর্ণবৈষম্য ও নৃশংস দখলদারিত্বের শিকার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত