Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

শলৎসকে বিপাকে ফেলল রাশিয়া

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ও ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ভলোদিমির জেলেনস্কি।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ও ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ভলোদিমির জেলেনস্কি।
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে অডিও ফাঁস, সংবাদ সম্মেলনে বেফাঁস মন্তব্য এবং ঘোলাটে নীতি নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বেশ বিপাকে পড়েছেন। গত কয়েকমাস ধরে রাশিয়ার অগ্রগতিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, পশ্চিমারা যদি শিগগিরই ইউক্রেনের জন্য তাদের সহায়তার আওতা ও গতি না বাড়ায় তাহলে রাশিয়া দ্রুত যুদ্ধের ময়দানে বড় অগ্রগতির সুযোগ পেয়ে যাবে। তার মধ্যেই শলৎসের কর্মকাণ্ডে ইউরোপে অনৈক্যের সুর।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার প্রতিনিধি পরিষদে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার একটি নতুন প্যাকেজ আটকা পড়ে যাওয়ায় ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্ররা ইউক্রেনের প্রতি তাদের সাহায্যবাড়াতে চলেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে মতভেদ এখন দৃশ্যমান। এমনকি মহাদেশটির বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানিকেও হঠাৎ করেই ইউক্রেন ও ন্যাটো উভয়ের জন্যই একটি বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমস্যা হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে।

ইউক্রেন নিয়ে গোলমেলে জার্মানি

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার হামলার পর থেকেই ইউক্রেনকে সহায়তার দীর্ঘ যাত্রায় জার্মানিও সঙ্গে রয়েছে। চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন নতুন সরকার এই ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা ইউক্রেনকে সমর সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। ওই পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই সামগ্রিকভাবে পশ্চিমারা ইউক্রেন সংঘাতকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে তার প্রমাণ মেলে।

তবে তারপর থেকে ইউক্রেনকে সহায়তায় জার্মানদের অংশগ্রহণ কিছুটা গোলমেলে হয়েছে। একদিকে, জার্মানি ইউক্রেনকে নিয়মিত বিরতিতে অর্থ ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও স্পষ্টভাবে এই সংঘাতের গুরুত্ব স্বীকার করে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাকে পুরো ইউরোপের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এছাড়া লিথুয়ানিয়ায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সেনা ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করছে, যার অর্থ জার্মান সৈন্যরা রাশিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করবে।

কিন্তু অন্যদিকে, শলৎসের সরকার ইউক্রেনের বারবার আর্জি সত্বেও তাদেরকে টরাস ক্ষেপণাস্ত্র দেয়নি। টরাস জার্মানির সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক সম্পদ। এক্ষেত্রে কোনও চাপের কাছেই মাথা নত করেননি শলৎস। অথচ ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউক্রেনের খুবই দরকার ছিল।

৫০০ কিলোমিটার পাল্লার টরাস ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী রাডারকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম শক্তিশালী একটি ক্ষেপণাস্ত্র। ইউক্রেনকে ব্রিটিশদের দেওয়া স্টর্ম শ্যাডো ও ফরাসিদের দেওয়া স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে এর পাল্লাও দ্বিগুণ। কিন্তু দেশে-বিদেশে প্রবল চাপ সত্ত্বেও ওলাফ শলৎস এখনও ইউক্রেনকে টরাস ক্ষেপণাস্ত্র দিতে প্রস্তুত নন।

ইউক্রেনীয়রা কয়েক মাস ধরেই টরাস ক্ষেপণাস্ত্র পেতে চাইছে, কিন্তু শলৎস তা বারবার প্রত্যাখ্যান করছেন। শলৎসের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনে পাঠানো যাবে না। কারণ তাহলে সেগুলো উৎক্ষেপণের জন্য দক্ষ জার্মান সৈন্যদেরও ইউক্রেনের মাটিতে পাঠাতে হবে। এমন পদক্ষেপ বিপজ্জনক হতে পারে। রাশিয়া এতে জার্মানিতে হামলা চালাতে পারে।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে (১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি) মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে শলৎস এক সংবাদ সম্মেলনে বলে বসেন যে, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার জন্য ফরাসি ও ব্রিটিশ সেনাদের ইউক্রেনের মাটিতে অবস্থান করতে হচ্ছে। কারণ ইউক্রেনের সেনারা এখনও ভালোভাবে ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো চালানো শেখেনি। ফ্রান্স ও ব্রিটেন দুটি দেশই একথা অস্বীকার করেছে।

এই মন্তব্য শলৎসের একটি বড় কূটনৈতিক ভুল ছিল। যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির প্রধান শলৎসের এই মন্তব্যকে ‘ভুল, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং মিত্রদের মুখে চপেটাঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন।

কল রেকর্ড ফাঁসে আরও বিপাকে শলৎস

ইউক্রেনে টরাস ক্ষেপণাস্ত্র না দেওয়ার চেয়েও খারাপ ঘটনা হলো সাম্প্রতিক একটি কল রেকর্ড ফাঁস, যেখানে জার্মান বিমান বাহিনীর অফিসারদের সরাসরি শলৎস এর যুক্তির বিরোধিতা করতে শোনা যায়। জার্মান সরকার শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনকে শক্তিশালী টরাস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিলে কোন কোন বিষয় নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে, জার্মান বিমানবাহিনীর প্রধান ও উচ্চপদস্থ অফিসাররা সে বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। এই কল রেকর্ড থেকে জানা যায়, টরাস ক্ষেপণাস্ত্র চালানোর জন্য ইউক্রেনের মাটিতে জার্মান সেনাদের পাঠানোর প্রয়োজন নেই। ইউক্রেনের সেনারাই ক্ষেপণাস্ত্রটি চালাতে পারবে। তবে ইউক্রেনের সেনাদের জার্মানিতে এনে কয়েকমাস প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

আলোচনার একপর্যায়ে টরাস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ক্রিমিয়াকে যুক্তকারী কার্চ সেতুটি ধ্বংস করা হবে কি না, তা নিয়েও কথা বলেন তারা। ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়াকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে।

ওই কর্মকর্তারা আলোচনার সময় ইউক্রেনকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের দেওয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও কথা বলেন। একজন কর্মকর্তা তখন বলেন, ইউক্রেনের মাটিতে যুক্তরাজ্যের সৈন্যরা আছে। যুক্তরাজ্য অবশ্য জানিয়েছে, ইউক্রেনে থাকা ব্রিটিশ কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিতে ও ইউক্রেনের স্বাস্থ্যকর্মীসহ বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা দিতে ‘অল্পসংখ্যক সেনা’ সেখানে রয়েছে। তবে ব্রিটিশ সেনারা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জার্মানির বিমানবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইঙ্গো গেরহার্টজ ও উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তার মধ্যে এই কথোপকথন হয়েছিল। জেনারেল ইঙ্গো গেরহার্টজ তার হোটেল রুম থেকে ওই ভিডিও কলটি করেছিলেন।

অডিও ও ভিডিও বৈঠকের জন্য জনপ্রিয় পাবলিক প্ল্যাটফর্ম ওয়েবএক্সে কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হয়। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, নির্দিষ্ট কিছু বৈঠকের জন্য প্ল্যাটফর্মটি বৈধভাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে। সঙ্গে নেওয়া হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাও। কিন্তু অংশগ্রহণকারীরা হয়তো সম্ভবত ভুল নিরাপত্তা সেটিংস ব্যবহার করেছেন অথবা এ ধরনের বৈঠকের জন্য ভুল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছেন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত একটি গণমাধ্যম কলটির একটি অডিও রেকর্ডিং ফাঁস করেছে। গত ১ মার্চ রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত আরটি চ্যানেলের প্রধান মার্গারেট সিমোনিয়ান টেলিগ্রামে ৩৮ মিনিটের সেই অডিও রেকর্ডটি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে মার্গারেট লেখেন, জার্মান সেনা কর্মকর্তারা ক্রিমিয়ায় সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

শলৎসের প্রতি ইউরোপে ক্ষোভ

এই ধরনের স্পর্শকাতর কথোপকথন রেকর্ড ও ফাঁস করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সক্ষমতা দেখে জার্মানি ও ন্যাটোর সদস্য অনেক ইউরোপীয় দেশই ব্যাপকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

ওয়েবএক্স সফটওয়্যার ব্যবহার করে জার্মান সেনা অফিসারদের করা ওই কনফারেন্স কলে আড়ি পাতার ঘটনা ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। রাশিয়া সরাসরি আড়ি পেতেছে, নাকি জার্মান সেনাবাহিনীতেই ‘সরষের মধ্যে ভুত’ রয়েছে, সেটাও জানার চেষ্টা চলছে।

তাছাড়া আড়ি পাতার এমন সক্ষমতা থাকলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন আরও অনেক আলোচনাও রাশিয়া শুনে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সে সব সংলাপ ফাঁস হলে জার্মানির ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে, এই অডিও থেকে ইউক্রেনকে টরাস ক্ষেপণাস্ত্র না দেওয়ার জন্য শলৎস যে অজুহাত দেখিয়েছেন তা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় জার্মানিসহ ইউরোপে গভীর ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণ দেখিয়ে তিনি যে সব যুক্তি খাড়া করছেন, দেশটির বিরোধী পক্ষও তা নাকচ করে দিচ্ছে। ক্ষমতাসীন জোট সরকারের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে জার্মানির রাজনীতি জগতে জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সম্ভবত আগামী সোমবারই পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগে প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির জরুরি বৈঠকে বসছে। সেখানে চ্যান্সেলর শলৎসও বক্তব্য রাখবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

জার্মান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস এর সিনিয়র গবেষক বেঞ্জামিন তালিসের মতে, এই অডিও রেকর্ডিং ফাঁস হওয়ায় প্রমাণিত হয় যে, জার্মান চ্যান্সেলর ইউক্রেনের বিজয়ের জন্য সত্যিকার অর্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন।

বেঞ্জামিন তালিস ইউরো নিউজকে বলেন, “এভাবে পিছু টেনে ধরলে ইউক্রেনের পরাজয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে, যা পুরো ইউরোপকেও বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। শলৎসের সব অজুহাত একে একে ঠুনকো প্রমাণিত হয়েছে। মিত্র দেশগুলো অনুরূপ অস্ত্র পাঠিয়েছে কিন্তু তারা কোনও প্রতিশোধের সম্মুখীন হয়নি। শলৎস যা করছেন তার মধ্য দিয়ে জার্মানির দুর্বলতাই প্রকাশ পাচ্ছে এবং দেশটিকে রাশিয়ার আরও একটি টার্গেটে পরিণত করছে।”

তিনি বলেন, “টরাস ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বিতর্কের এই অডিও ফাঁস হওয়ার পর মনে হচ্ছে যে, শলৎস সত্যিই এই অস্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে ভয় পান। যা তার ইউক্রেনের বিজয় চাওয়ার অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার এই মতদ্বৈততা ইউরোপীয়দের আরও অনিরাপদ এবং হতাশ করে।”

এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধের এমন এক সময়ে এসে এই অডিও ফাঁস হলো যখন রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন করে সাফল্য পাচ্ছে এবং দুই বছরের যুদ্ধের পরে কিয়েভের প্রতি পশ্চিমা সহায়তাও ভাটা পড়েছে। গোলাবারুদের অভাবে ইউক্রেন রাশিয়ার অগ্রগতি ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর জন্য ইউক্রেন পশ্চিমের শক্তিশালী দেশগুলোর সরবরাহে ধীরগতিকেই দায়ী করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় ইউক্রেনের দিকে মনোযোগ দিতে পারছেন না।

এমনিতেই গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সবার মনোযোগ ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সরে গেছে। পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি দেশে ও যুক্তরাষ্ট্রে যথাক্রমে আগামী জুন ও নভেম্বরে নির্বাচনের আগে দেশগুলোর ক্ষমতায় থাকা নেতাদের মধ্যে জনতুষ্টিবাদী মনোভাব তৈরি হয়েছে। তারা নির্বাচনের আগে নিজ দেশের জনগণকে ক্ষেপাতে চান না। কিন্তু তাদের সহায়তা ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াই চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হচ্ছে।

পশ্চিমা গণতন্ত্রের রাজনীতিবিদরা ভোটারদেরও বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছেন যে, ইউক্রেনকে সমর্থন করা এবং ভিনদেশে কর্তৃত্ববাদ ও স্বৈরাচারের উত্থান ঠেকাতে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা তাদের দেওয়া করের টাকার একটি উত্তম ব্যবহার। কিন্তু ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতিসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত পশ্চিমের জনগণেরও প্রায় নাভিশ্বাস উঠতে চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, জার্মান বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসারদের গোপন কথোপকথন ফাঁস করে রাশিয়া আসলে পশ্চিমা ঐক্যে চিড় ধরাতে চাইছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কারবি বলেন, মস্কো বিভাজন ঘটাতে সাহসী ও স্বচ্ছ এই প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাছাড়া ইউক্রেনের জন্য সহায়তার ক্ষেত্রে জার্মান সরকারের মধ্যেই ঐক্যের অভাব রয়েছে বলেও মস্কো প্রমাণ করতে চাইছে।

জার্মানিও রাশিয়ার এই আচরণকে ‘তথ্য যুদ্ধ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, ভ্লাদিমির পুতিন এই রেকর্ডিং ব্যবহার করে জার্মানিকে ‘অস্থিতিশীল’ করার চেষ্টা করছেন এবং ‘তথ্য যুদ্ধ’ দিয়ে পশ্চিমাদের মধ্যে বিভাজনের বীজ বপনের চেষ্টা করছেন।

রাশিয়ার হুমকি

ওই কল রেকর্ড ফাঁসের পর রাশিয়া হুমকি দিয়েছে, ইউক্রেনকে টরাস ক্ষেপণাস্ত্র দিলে জার্মানিকে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। রাশিয়া বলছে, রেকর্ডিংয়ের কথোপকথনই প্রমাণ করে পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে।

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদেভেদেভ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির সবচেয়ে ভয়ানক হুমকিগুলো উচ্চারণ করে আসছেন। এই ঘটনায়ও তিনি ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কবিতা ‘কিল হিম’ পোস্ট করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মেদেভেদেভ লিখেছেন, “মহান দেশপ্রেমের যুদ্ধের আহ্বান আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে: জার্মান-নাজি দখলদারদের মরণ হোক!”

যুদ্ধে না জড়াতে শলৎসের সতর্কতা সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জার্মানির সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ করছে। মস্কোতে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বিযয়ে কৈফিয়তও চেয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের নেতারা অভিযোগ করছেন, রাশিয়ার ভূখণ্ডের উপর হামলার ‘ষড়যন্ত্র’ চলছে।

ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সঙ্গে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী সেতু ধ্বংস করতে জার্মানি ইউক্রেনবে সহায়তা করতে চাইছে, রুশ নেতাদের মন্তব্যে এমন মারাত্মক দাবিও উঠে আসছে। জার্মানি তথা পশ্চিমা বিশ্বের উপর পালটা হামলারও হমকি দিচ্ছেন তারা।

তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ, বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত