Beta
সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪

বর্তমান সংসদে ভারসাম্য রক্ষা হয়নি : জিএম কাদের

কাদের

সদস্য সংখ্যার বিচারে বর্তমান সংসদে ভারসাম্য রক্ষা হয়নি বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের। তার মতে, এই সংসদে সম্পূর্ণ জাতিকে খূঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

মঙ্গলবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথমদিনে স্পিকার নির্বাচনের পর নতুন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানাতে দেওয়া বক্তব্যে এ মতামত দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, “আসন সংখ্যার বিচারে এবার সংসদে শতকরা ৭৫ ভাগই সরকারি দলের। স্বতন্ত্র ২১ ভাগ, তারাও প্রায় সরকার দলীয়। তিন-চার ভাগ শুধু বিরোধী দলীয় সদস্য। এ সংসদে সম্পূর্ণ জাতিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এ সংসদ কখনও নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে না।”

এসময় ১৯৯৬ সাল থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জিএম কাদের। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্পিকার হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন।

স্পিকারের ডান দিকে সরকার দলের আসন এবং বাম পাশে বিরোধী দলের আসন উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দু’পক্ষই সমান হবেন। একটা হলো সরকারি দল, আরেকটা বিপক্ষ। তার সংখ্যাও কাছাকাছি থাকবে। তাহলে তাদের মধ্যে সমানে সমানে লড়াই হবে, নিজেদের মতামতকে প্রধান্য দিয়ে তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়াঝাঁটি হবে। সংসদে জনগণের পক্ষে সিদ্ধান্ত হবে। এটাই ছিল সংসদ তৈরি করার উদ্দেশ্য।”

জিএম কাদেরই বিরোধীদলীয় নেতা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “জাতীয় সংসদ দলমত সকলের মিলনস্থল। সেখানে সরকারি দল এক পক্ষ, সরকারের বিপরীত দল আরেক পক্ষ।”

সংসদ সদস্যদের বড় অংশ সরকারি দলের উল্লেখ করে আসনবন্টনের বিষয়ে তিনি বলেন, আসন বণ্টনে সিমিট্রিক্যালের অভাব হয়েছে। তাই এটাকে সম্পূর্ণভাবে সুন্দর বলা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে সংসদকে জাতীয় পতাকার লাল ও সবুজ রঙের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। বলেন, “যদি সরকারি দলকে লাল বলি তাহলে এ সংসদ সম্পূর্ণ লালময়। সবুজটা শুধু ছিঁটেফোঁটা। এ সংসদে সম্পূর্ণ জাতিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। বর্তমান সংসদ জাতিকে কতটুকু প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে তা আশঙ্কার। ভালোভাবে বললে, বলতে হবে বিতর্কের বিষয়।

“দুই অংশের কর্মকাণ্ডের ব্যবধান কমাতে পারলে অর্থাৎ সরকার ও বিরোধীদের সংসদ কর্মকাণ্ডের ব্যবধান কমাতে পারলে যতটা কমবে ততুটুক সংসদ কার্যকর হিসাবে গণ্য হবে।”

তার এ আশঙ্কা অবাস্তব নয় বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, এ সংসদ কখনো নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে না। তবে সরকার বিরোধীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করলে আশঙ্কা কিছুটা কমবে বলেও মনে করেন তিনি।

সংসদকে কার্যকর ভূমিকায় পরিচালিত করতে কিছু দাবিও তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা।

স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিরোধীদের মতামতকে সংসদে তোলার সুযোগ দেবেন। সংসদের ভারসাম্যের ত্রুটি কমানোর প্রচেষ্টা আমরা অব্যাহত রাখব।” এসব কাজে স্পিকারের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।

৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর প্রশ্ন ওঠে, বিএনপিবিহীন সংসদে এবার জাতীয় পার্টির আসন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চেয়ে কমে গেলে বিরোধী দল কে হবে? কারণ জাতীয় পার্টির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি আসনধারী স্বতন্ত্র এমপিরা জোট বাঁধলে তাদেরও প্রধান বিরোধী দলের আসন নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সংখ্যা এবার যেখানে ৬২, সেখানে জাতীয় পার্টির আসন ১১টি। এর বাইরে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও কল্যাণ পার্টির একটি করে আসন রয়েছে।

আবার দলটির মধ্যেও নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধ শুরু হয়।

এসব ডামাডোলের মধ্যে, গত ২৮ জানুয়ারি সংসদ সচিবালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দ্বাদশ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জিএম কাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার।

সেখানে বলা হয়, “সংসদে সরকারি দলের বিরোধীতাকারী সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য লইয়া গঠিত ক্ষেত্রমতো দল বা অধিসঙ্ঘের নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের (২১ রংপুর-৩)-কে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধির ২(১)(ট) অনুযায়ী বিরোধীদলের নেতা এবং বিরোধীদলের নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২১ মোতাবেক ২৮২ চট্টগ্রাম-৫ হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে বিরোধীদলের উপনেতা হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি প্রদান করিলেন।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist