Beta
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪

‘হালাল’ বিনোদনের রকমফের

islamiclifestyle

বিনোদন নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। প্রচলিত ও পরিচিত ‘এন্টারটেইনমেন্ট’ বা বিনোদন জগতের অনেক কিছুকেই ‘হারাম’ বলেও অভিহিত করেছেন নানা মুসলিম পণ্ডিত। আবার মুসলিম অনেক চিন্তাবিদই কিছু বিনোদনের মাধ্যমকে দিয়েছেন স্বীকৃতি।    

এসব মুসলিম পণ্ডিতদের মধ্যে মতের পার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু বিনোদন যে ইসলামে হারাম নয়, সেই বিষয়ে সবাই মোটামুটি একমত। 

একজন সুস্থ মানুষ হাসি ঠাট্টা করবেন, বিনোদিত হবেন- এমনটাই স্বাভাবিক। 

কিন্তু আজকাল সাধারণ মুসলিমরা বেশ তটস্থই থাকেন। নানা ইসলামি চিন্তাবিদ অনেক সময়ই নানা মত ভুলভাবে উপস্থাপন করেন। আবার নিজের বোঝার ভুল থেকেও ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের বিনোদনের ক্ষেত্রে ভুল-সঠিক নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। 

কিন্তু ইসলাম একটি সজীব ধর্ম। ইসলামিক সেলফ হেল্প এবং ইজ্জাহ অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ ইসমাইল কামদারের মতে, ইসলাম হলো ‘ফিতরাতে’র (মানব স্বভাব) ধর্ম। মানুষের স্বভাবের মধ্যে যা কিছু কল্যাণকর তাকেই ইসলাম তুলে ধরে।

হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিত ভারতের নাগরিক ইসমাইল কামদারের এ বিষয়ক বইও রয়েছে। তার সেই বইটির নাম- হ্যাভিং ফান দ্য হালাল ওয়ে: এন্টারটেইনমেন্ট ইন ইসলাম। 

জেনে নেওয়া যাক তার পুস্তক থেকে ‘হালাল’ কিছু বিনোদনের উপায়। 

বাইরে খাওয়া-দাওয়া

অনেকেরই তাদের পছন্দের রেস্টুরেন্টে গিয়ে স্পেশাল কিছু খাবার খেতে পছন্দ করেন। সেটা হতে পারে চিকেন বা বিফ অথবা যে কোন খাবার। রেস্টুরেন্টে গিয়ে মজার মজার চিকেন চাপ, বিফ কাবাব বা বার্গার খেতে ভালোবাসেন অনেকেই। এটি সম্পূর্ণ হালাল। আর পরিবার অথবা বন্ধুদের নিয়ে খাওয়া দাওয়া করা তো খুবই মজার ব্যাপার। ইসলামে এ নিয়ে কোন বিধিনিষেধ নেই। 

পড়াশোনা

পড়াশোনা করতে সবারই ভালো লাগবে তা নিশ্চয়ই নয়। তবে ফিকহ এবং তাফসির বিশেষজ্ঞ শায়খ ইসমাইল কামদার মনে করেন, মনকে আনন্দ দেওয়ার জন্য বইয়ের বিকল্প আর কিছুই নেই।  মনে রাখা দরকার, কুরআনের প্রথম আয়াতের প্রথম শব্দই হলো ‘পড়’। তাছাড়া কুরআন ও সুন্নাহ উভয়েই জ্ঞান অন্বেষণে  ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এক হাদিসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ’।

সাঁতার

গরমের দিনে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সাঁতারের জুড়ি নেই। গ্রামগঞ্জের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাড়ির পুকুরে দাপাদাপি করছে এমন দৃশ্য গ্রীষ্ম এলেই দেখা যায়। এদের বকে না দিয়ে বরং নিজেই একটু গা ভিজিয়ে দেখুন না! 

আপনি হয়তো জানেন না যে মুহাম্মদ (সা.) নিজেও সাঁতার কাটতে পছন্দ করতেন। কেননা, এতে শরীরের ব্যায়াম হয়। আর আনন্দ তো আছেই।

বিশ্রাম

সবারই প্রয়োজন বিশ্রাম। সারা দিন নামাজ পড়তে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা ইসলামে নেই। নবী (সাঃ) আমাদের জীবনকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “তোমার রবের জন্য এক ঘণ্টা এবং নিজের জন্য এক ঘণ্টা”। 

ইসলামী কাজ ও জীবনযাপনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার কথাই নবী বলছেন। তাই চাপ নেবেন না, ক্লান্ত হয়ে গেলে জিরিয়ে নিন, আরাম করুন। এটা পুরোপুরি হালাল, তবে সালাতের সময় ঘুমিয়ে না পড়লেই হলো।

ভিডিও গেম এবং ভিডিও

ভিডিও গেইম এবং ভিডিও মানেই যে হারাম তা কিন্তু নয়। বিষয়বস্তুই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। শায়খ ইসমাই কামদার তাই মনে করে। 

সুতরাং, আসক্ত না হয়ে খেলা সম্ভব এমন ভিডিও গেইম খেলুন। খেয়াল রাখুন ওসবে সামাজিক অকল্যাণ বয়ে আনে এমন বিষয়বস্ত আছে কিনা। একইভাবে, সিনেমা বা অন্যান্য ভিডিও কন্টেন্টের ক্ষেত্রেও, ইসলামি বিষয়বস্তুকে গুরুত্ব দিন।

প্রকৃতির সান্নিধ্য

মানুষ প্রকৃতির সন্তান। পাহাড়, নদী কিংবা সমুদ্র, এই সবকিছুতেই আল্লাহ রেখেছেন মানুষের জন্য সৌন্দর্য। তাই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার মানে হলো আল্লাহকে অনুভব করা।

পবিত্র কুরআনে বলা হচ্ছে-  ‘আমি বিস্তৃত করেছি ভূমিকে ও তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা এবং উৎপন্ন করেছি নয়নাভিরাম বিবিধ উদ্ভিদরাজি। এটি আল্লাহর অনুরাগী বান্দাদের জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ। (সূরা কাফ, আয়াত ৭-৮)।”

নাশিদ

‘নাশিদ’ হলো ইসলামী সঙ্গীত। বাদ্যযন্ত্র ব্যতীত সৃষ্টিকর্তার গুনগান করে যে গান তা-ই নাশিদ। এ বিষয়ে শায়খ ইসমাইল কামদার হযরত উমর (রাঃ) বরাত দিয়ে বলছেন, ‘গান ভ্রমণকারীর সঙ্গী’। যদিও এই হাদিসের সত্যতা নিয়ে উনার কাছে কোন প্রমাণ নেই বলেছেন এই ইসলামি স্কলার। 

তবে হারাম ধরনের গানগুলো ভ্রমনে না বাজাতেই উৎসাহিত করেছেন তিনি। 

সঠিক বন্ধুর সঙ্গ

প্রিয় বন্ধুর সাথে আড্ডা মানেই এক অনাবিল আনন্দ। বন্ধুরাই আমাদের গড়ে তোলে আবার বন্ধুরাই পারে ভেঙেচুড়ে সব তছনছ করে দিতে। তাই নবী (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক ব্যক্তি তার সবচাইতে ভালো বন্ধুদের ধর্ম অনুসরণ করে। তাই কার সাথে বন্ধুত্ব করছো তা নিয়ে সাবধান থেকো।”

প্রাণ খুলে আড্ডা মজায় মেতে উঠতে তাই সঠিক বন্ধুদের বেছে নিন। 

দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলিমরা ‘মজা’ করা হারাম বলে মনে করেন। ফলে সে দেশের অনেক ধর্মপালনকারী মুসলিমকেই নিস্তরঙ্গ বলে দাবি করেছেন শায়খ ইসমাইল কামদার।

খেলায় মাতুন শিশুদের সঙ্গে

অবুঝ শিশুরা হরহামেশাই মসজিদে গিয়ে মেতে ওঠে খেলায়। আর এমন দেখে শিশুদের বকাঝকা করার লোকের কোন অভাব নেই এ দেশে। অথচ ফিকহ, তাফসির এবং ইসলামি ইতিহাসের পণ্ডিত শায়েখ ইসমাইল কামদার বলছেন ভিন্ন কথা। অনলাইন ম্যাগাজিন মুসলিম ম্যাটারস এ তিনি লিখেছেন, “আমি এমন মানুষদের ঘৃণা করি, যারা বাচ্চাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এই ধরনের লোকদের কারণেই অনেক বাচ্চা মানসিক আঘাত পেয়ে বড় হয় এবং মসজিদ ও ইসলামকে ঘৃণা করে।”

নবী (সাঃ) মসজিদেও বাচ্চাদের সাথে খেলা করতেন, কখনও কখনও তিনি সিজদায় থাকাকালীন তার নাতিরা তার পিঠে চড়ে থাকায় তিনি সিজদা থেকে উঠতেন না।  প্রকৃত সুন্নাহ হলো বাচ্চাদেরকে মসজিদ থেকে দূরে না রাখা এবং তাদের দেখলেই হুমকি ধামকি না দেওয়া। বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা এবং মজা করার নবীর সুন্নতের একটি অংশ।

উপভোগ করুন নিজের স্ত্রী সঙ্গ

বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ থাকা খুবই স্বাভাবিক। এটা উপভোগ্য-ও বটে। তার উপর যদি থাকে ভালোবাসাবাসি! তবে ইসলাম উৎসাহ দেয় বিবাহ প্রথায়। এই আকর্ষণ এবং সুখ সঙ্গকে বিবাহের মাধ্যমে জায়েজ করার কথা বলে ইসলাম। 

নবী (সাঃ) বিবাহের গুরুত্ব ও সুখি দাম্পত্য জীবনের কথা বলেছেন। এটি নবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist