Beta
রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

ভোট, রাজনীতি, কূটনীতি : পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী
এবার নির্বাচনে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে ওঠা বাংলাদেশে নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর কী চ্যালেঞ্জ আসছে, তা নিয়ে লিখেছেন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো সোহিনী বোস।  অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তার সেই কলামের ভাষান্তরিত রূপ সকাল সন্ধ্যার পাঠকদের জন্য।

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঞ্চম মেয়াদে দেশটির সরকারপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। তার দল আওয়ামী লীগ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টিতে জয় পেয়েছে। জাতীয় সংসদে তিন-চতুর্থাংশ আসনেই বসতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ ‍নির্বাচনসহ আগের তিন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টানা বিজয় থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা অনুমান করা যায়। অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ঢাকা বিদেশি বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বিদেশি সহায়তানির্ভর দেশে পরিণত হয়েছে।       

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে ঘিরে যে সব ঘটনা ঘটে চলছে, তা দেশটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ছাপ ফেলবে না, এমনটা নাও হতে পারে। তবে যাই ঘটুক, তা দেশটির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ছাপ রেখে যাবে।

বাংলাদেশ ও তার কৌশলগত অংশীদার

বাংলাদেশ কেবল বঙ্গোপসাগর কূলেরই নয়, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের সংগমস্থলের কাছেও এর অবস্থান। এই অবস্থান তাকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূ-কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশে পরিণত করেছে। উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ থেকে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর হয়ে পূর্ব এশিয়ায় তেল রপ্তানি বলতে গেলে বাংলাদেশের চোখের সামনে দিয়ে হয়।     

বাংলাদেশ ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকটের মধ্যে পড়বে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের জন্য দেশটিকে বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর দরজায় কড়া নাড়তে হবে, যা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর লোভনীয় অংশীদার হয়ে উঠেছে।         

এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, সস্তা শ্রম, কঠোর পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণের অভাব ও উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতে সরকারের আগ্রহ-এসবই বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষনীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।                  

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতাধর দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও জাপান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে। বাণিজ্য, বিদেশি বিনিয়োগ, উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদেশি সহায়তা থেকে শুরু করে মোটামুটি সব খাতেই এই চার দেশের ভূমিকা চোখে পড়ার মতো।                 

লক্ষণীয় বিষয় হলো, ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবে বিশ্বের প্রথম পাঁচ অর্থনীতির দেশের তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও জাপানের নাম। চীনের বৈশ্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন কৌশল (বিআরআই) প্রকল্পে বঙ্গোপসাগর অন্তর্ভুক্ত। দেশটি বাংলাদেশকে আলাদা গুরুত্ব দেবে, এটাই স্বাভাবিক।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়া শ্রীলঙ্কা ঋণ সংকটে জেরবার। মিয়ানমার চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে বের হতে পারছে না। এ অবস্থায় ভারত মহাসাগরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে হাতে রাখা চীনের সেরা বিকল্প। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের মতো বাংলাদেশও চীনা পণ্যের বড় বাজার। এ মুহূর্তে চীন দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির বৃহত্তম অংশীদার।   

অন্যদিকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ভূ-রাজনীতি নতুন মোড় নিলেও ওই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় রাখতে ঢাকাকে যুক্তরাষ্ট্রের দরকার। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ অন্যতম প্রধান অংশীদার বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিযোগ্য পণ্য তৈরি পোশাক। এটি উৎপাদন করে দেশটি তা সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড) বাংলাদেশে তাদের উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

সোহিনী বোস

বাংলাদেশ জাপানের সম্ভাব্য সংযোগস্থল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশের মাধ্যমে জাপান দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে এবং তাদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র বা চীন বাংলাদেশকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখে। ভারত দেশটিকে ঠিক সেভাবে দেখে না। তার কাছে বাংলাদেশ ‘সহজাত অংশীদার’, যা তার পূর্বাঞ্চলের কারণে।

বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে এমন এক অবস্থানে আছে, যার মাধ্যমে ভারত তার স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছে। ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ ও ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’-ভারতের এই দুটি নীতি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।  

ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি অংশীদার। পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। অস্ট্রেলিয়াও ধীরে ধীরে উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া মনে করে, উত্তর-পূর্ব ভারত মহাসাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা তার জাতীয় স্বার্থের জন্য জরুরি।

দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ও শক্তিশালী দেশগুলো বিভিন্ন ইস্যুতে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা বেশি জরুরি। বিশেষ করে যখন দেশটির অর্থনীতি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।

রাজনৈতিক পক্ষালম্বন বনাম কূটনৈতিক ভারসাম্য

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো ক্ষমতাধর দেশগুলো বাংলাদেশকে নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ভারসাম্যের পথে হাঁটছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত ‘ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক অব বাংলাদেশ’-এ এই ভারসাম্যের কথাই বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে চায়। একইসঙ্গে কোনও দেশের সঙ্গে গাঢ় সম্পর্কে না গিয়ে সে নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে চায়।

‘ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক অব বাংলাদেশ’ যুক্তরাষ্ট্রের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলের মতো একই পরিভাষা ব্যবহার করেছে। তাদের অগ্রাধিকারও অভিন্ন। তবে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক অব বাংলাদেশ’-এ দেশটির সরকার চীনকে কোনোভাবে না ক্ষেপানোর ব্যাপারে সতর্ক। চীন মনে করে, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলী হয়েছে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরে কৌশলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বক্তব্য একই রকম হওয়ার কারণে অনেকের মনে হতে পারে, হোয়াইট হাউজকে তুষ্ট করছে ঢাকা। যদিও একই সঙ্গে বেইজিংয়ের ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হচ্ছে সে, যা উদ্বিগ্ন করছে যুক্তরাষ্ট্রকে।               

এটি বেশি বোঝা যায় যখন হোয়াইট হাউজের আহ্বান সত্ত্বেও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলে সমর্থন জানাতে আগ্রহ দেখায়নি। ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফোরাম বা কোয়াডের মতো মার্কিন উদ্যোগেও অংশ নেয়নি ঢাকা। চীন মনে করে, তার বিরুদ্ধে কাজ করতেই ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে কোয়াড জোট গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাংলাদেশ সরকারের ওপর আরও প্রভাব বিস্তার করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার ঢাকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালায় তারা। ২০২১ সালে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাত জন সাবেক ও বর্তমান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে হোয়াইট হাউজ।

বাংলাদেশে যাদের অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেসব ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। এদের মধ্যে রয়েছে বিরোধী দল বিএনপির নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের পরিবারও।

এছাড়া বাইডেন প্রশাসন পরপর দুবার বাংলাদেশকে তাদের গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানায়নি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মাসখাসেক আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেছিলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে দায়ী বাংলাদেশিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হতে পারে।

শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কথামতো চললেও উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একপর্যায়ে দেশটির গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করতে দেখা যায়।। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে।

উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হলো, করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় বাংলাদেশকে টিকা সরবরাহ করার পরপরই চীন দেশটিকে কোয়াডে যোগ না দিতে বলেছিল। বাংলাদেশ সে সময় তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় জানালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বেইজিং ফের আশ্বস্ত করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবেলা ও বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে শেখ হাসিনা চাইলে বেইজিংয়ের ওপর ভরসা রাখতে পারে।

পররাষ্ট্রনীতিতে নির্বাচন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব বুঝতে পেরে ক্ষমতাধর দেশগুলো চেয়েছিল, শেখ হাসিনা যাতে ফের ক্ষমতায় আসতে পারে। কারণ গত ১৫ বছর তিনি বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আনতে সফল ছিলেন। এ কারণে তারা বলেছিল, বাংলাদেশের নির্বাচন তার অভ্যন্তরীণ বিষয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল।     

ভারত পর্যন্ত সে সময় যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করে বলেছিল, শেখ হাসিনা সরকারের ওপর যেন বেশি চাপ দেওয়া না হয়। নয়তো বাংলাদেশের উগ্রপন্থিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত কোনও মত দেয়নি।

আশা করা যায়, নির্বাচনের পর অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ‘সোনালী অধ্যায়’ আরও উজ্জ্বল হবে। বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলোতে দেশ দুটি সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করবে এবং আরও নতুন নতুন ক্ষেত্রে তারা সহযোগিতার হাত বাড়াবে। জাপানের সঙ্গে সম্পর্কও পাবে নতুন মাত্রা। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল হয়ে উঠবে বাংলাদেশ, জাপান ও ভারতের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কও মজবুত হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একইভাবে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না। 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, দেশটির নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু ছিল না। ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে অনিয়মের যে অভিযোগ ওঠে, তা নিয়েও বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে মন্তব্য করেছে, তাতে শেখ হাসিনার সরকার কী প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ঢাকাকে আরও বেশি বেইজিংঘনিষ্ঠ করার সম্ভাবনা আছে।

অবশ্য প্রতিবেশী এলাকায় চীনের উপস্থিতি ভারতের জন্য অস্বস্তিকর। এসব কারণে সামনের বছরগুলোতে চীন ও ভারতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই ব্যস্ত সময় কাটাবে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সহযোগিতা কমে যেতে পারে এটি মাথায় রেখে বাংলাদেশ আরও বেশি চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হবে।

শেখ হাসিনা সরকার জানে, চীনের কাছ থেকে দেদারছে ঋণ নেওয়ার কারণে কয়েকটি দেশকে কী পরিমাণ ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে। তাই এই সরকার দেশকে পুরোপুরি চীনের ওপর নির্ভরশীল করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবে। একই সঙ্গে উন্নয়নের বিকল্প অংশীদার হিসেবে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করবে। 

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেরও উন্নতি ঘটবে কারণ দু’দেশেরই অভিন্ন স্বার্থ আছে। তবে এর জন্য বাইডেন প্রশাসনকে হাসিনা সরকারের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এখনই দেশ দুটির সম্পর্কের টানাপোড়েনের অবসান ঘটবে, এমনটা ভাবার অবকাশ নেই। বিশেষ করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস জয়ের পর প্রেসিডেন্ট বাইডেন বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবেন, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৌশলগত অংশীদার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এমনকি নিজের দেশের জনগণের সামনে টানা চতুর্থ মেয়াদের বিজয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে হাজির করার চেষ্টা করবেন। নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বয়ান যাতে আরও ডালপালা মেলতে না পারে, সে চেষ্টা জারি রাখবেন। এসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনকেন্দ্রিক সমালোচনাও খারিজ হতে থাকবে।                 

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist