Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

নতুন মেডিকেল কলেজ খোলার পক্ষে নন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ছবি : সংগৃহীত

নতুন মেডিকেল কলেজ খোলার পক্ষে নন নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি চান মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সঙ্কট দূর করতে, শিক্ষকদের গুণগত মান বাড়াতে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মেডিকেল কলেজ আছে ১১৩টি। এসব কলেজে আসন সংখ্যা ১১৫৭১টি। এর মধ্যে সরকারি কলেজে আসন ৫৩৮১টি, বেসরকারিতে ৬১৯০টি। শিক্ষাবিদরা বলে আসছেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো হচ্ছে, সেটার রাশ টেনে ধরা দরকার।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন বলেন, “কোনো মেডিকেল কলেজ নতুন করে খোলার পক্ষে আমি একদম না।”

তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে এখনও শিক্ষকের সঙ্কেট আছে। আমি যদি সেই সঙ্কট দূর করতে না পারি, একজন শিক্ষার্থীকে যদি আমি পড়াতেই না পারি, সে ডাক্তার হয়ে আপনার-আমার যে কারও চিকিৎসা করতে পারে। আমি গুণগত মানের দিকে নজর দেব, সংখ্যার দিকে না।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি কোয়ালিটি ডাক্তার তৈরি করার পক্ষে। তার জন্য যা যা করার আমি করব। হঠাৎ করে মেডিকেল কলেজ বানানো, সেটার পক্ষে আমি না।”

এবারই প্রথম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সামন্ত লাল সেন। আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সামলানো এই চিকিৎসককে টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে। ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন সামন্ত লাল সেন।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা

শুক্রবার দেশের ১৯টি কেন্দ্রের ৪৪টি ভেন্যুতে এ বছরের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষার সময়সীমা এক ঘণ্টা।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, “স্বচ্ছতা আনয়ন, শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। সরকারি মেডিকেল কলেজে গত কয়েক বছর অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এর পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশনের ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়েছে এবং একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।”

এবার ভর্তি পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় হলের গেট খুলবে এবং ৯টার পর কোনও পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের তাদের প্রবেশপত্র রঙিন প্রিন্ট করে সেই কপি নিয়ে আসতে হবে।

পরীক্ষার্থী, ইনভিজিলেটর, ভেন্যুর কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের কোনও কর্মকর্তাই মোবাইল, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্লুটুথ, এয়ারফোন ইত্যাদি বহন করতে করবেন না। ভর্তি পরীক্ষার হলে ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িত কেউ মোবাইল টেলিফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বা ভেন্যুতে ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, গত ১০ জানুয়ারি থেকে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও অনলাইন কোচিং বন্ধ ও সাইবার অপরাধ রোধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে।

পরীক্ষার দিন কেন্দ্রগুলোর আশপাশের ফটোকপি মেশিন বন্ধ থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ধরনের অসদাচরণ/প্রতারণা/গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত কাউকে চিহ্নিত করা গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শর্ত পূরণ করতে না পারায় দুটি মেডিকেল কলেজের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। চারটির ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

নিবন্ধন বাতিল হওয়া মেডিকেল কলেজদুটি হলো-ঢাকার কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ।

ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে আইটি মেডিকেল কলেজ উত্তরা, ধানমন্ডির নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, রংপুরের নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ ও রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম চলবে। হাসপাতালের নিবন্ধন না থাকায় বন্ধ আছে এবং তাদের নিবন্ধন আইনি প্রক্রিয়াধীন। এমবিবিএসের প্রথম ও দ্বিতীয়বর্ষে হাসপাতালে কাজ শিখতে হয় না। যেহেতু প্রথম বর্ষে হাসপাতালের অ্যাটাচমেন্ট লাগে না, সে কারণে এই মুহূর্তে ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে ইউনাইটেডের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist