Beta
সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

ইউনূসের আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

ইউনূস
ড. মুহাম্মদ ইউনূস

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ছয় মাস কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে ড. ইউনূসের করা আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আসামিদের বিদেশে যেতে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের চার শীর্ষ কর্মকর্তার দোষীসাব্যস্তকরণ (কনভিকশন) ও সাজার রায় স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাতিল ঘোষণা করে রায় এ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে আদালত বলেছে, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউনূসসহ চারজনের সাজা বহাল থাকবে।

আদালতে কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান, ইউনূসসহ চারজনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন, তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ।

গত ১ জানুয়ারি শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা এই মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। এ কারাদণ্ডের পাশাপাশি সব আসামিকে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয় আদালত। এ মামলায় ইউনূস ছাড়া অন্য তিন আসামি হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।

পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৮ জানুয়ারি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করে জামিন প্রার্থনা করেন আসামিরা। তাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে সাজার দণ্ড স্থগিত করে তাদেরকে জামিন দেয় শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

এ অবস্থায় শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে গত ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করে কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে পরের দিন ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে।

রুলে তৃতীয় শ্রম আদালতের রায় ও আদেশের কার্যক্রম স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের ২৮ জানুয়ারি দেওয়া আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর এই রুলের উপর কয়েক দফা শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৮ মার্চ রায়ের জন্য দিন ঠিক করে দেয়।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) এসএম আরিফুজ্জামান। মামলার নথি অনুসারে, আইএফইডি কর্মকর্তারা ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকমের অফিস পরিদর্শন করে শ্রম আইনের বেশকিছু লঙ্ঘন খুঁজে পান।

গত ১ জানুয়ারি ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান শেখ মেরিনা সুলতানা এক মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ইউনূস এবং এর পরিচালক আশরাফুল হাসান, নুরজাহান বেগম ও এম শাহজাহানকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাদের ৪ জনকেই ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ২৫ দিন কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায়ের পর আলাদা আলাদা জামিন আবেদন করলে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৪ জনকেই জামিন দেন আদালত।

২৮ জানুয়ারি আদালতে উপস্থিত হয়ে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের অন্য ৩ শীর্ষ কর্মকর্তা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূসের আবেদন খারিজ করে মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টকে ৫০ কোটি টাকা জমা দিয়ে ২০১১ থেকে ১৩ করবর্ষের আয়কর আপিল ফাইল করার রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist