Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

অপহরণের পর নির্যাতনের শিকার হিমেল উদ্ধার হলেন সুনামগঞ্জ থেকে

কাজী হাসিবুর রহমান হিমেল।
কাজী হাসিবুর রহমান হিমেল।
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

অপহৃত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কাজী হাসিবুর রহমান হিমেলকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে এই অপহরণকাণ্ডের সন্দেহভাজন হোতাকে।

প্রায় এক মাস পর হিমেলকে উদ্ধারের খবর দিয়েছে র‌্যাব এবং গোয়েন্দা পুলিশ। তবে পুলিশের দুটি ইউনিটের কর্মকর্তারাই এর কৃতিত্ব দাবি করছেন।

গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার উত্তরার বাড়ি থেকে নিজে গাড়ি নিয়ে শেরপুরের উদ্দেশে বেরিয়ে অপহৃত হন হিমেল। অপহরণকারীরা এই যুবককে নির্যাতন করে সে ভিডিও তার মাকে পাঠিয়ে ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল।

এই ঘটনায় হিমেলের মা একটি সাধারণ ডায়েরি করার পর অনুসন্ধানে নামে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের এই শাখার কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করার পর র‌্যাব সদস্যরা অভিযানে যুক্ত হন।

এরপর সাংবাদিকদের পাঠানো র‌্যাবের এক বার্তায় বলা হয়, হিমেলকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণ চক্রের হোতা মালেকসহ পাঁচজনকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকিসহ নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

এই অভিযান নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ডিবির দাবির বিষয়ে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “এখানে অন্য কোনও সংস্থা যদি বলে আসামি তারা ধরেছে, সেটা দেখাতে পারবে না। কারণ তাদের কাছে কোনও আসামি নেই। আসামির স্ত্রী আর অন্য একজনকে সেই সংস্থা আটক করেছে।”

ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, তারা মঙ্গলবার বিকালে শরীয়তপুর জেলার গোঁসাইরহাট থানার একটি চর থেকে আসামি মাসুদকে গ্রেপ্তার করে, যিনি হিমেলের গাড়িটি চালিয়ে গাজীপুরে ফেলে রেখেছিলেন।

মাসুদের দেওয়া তথ্যে আরও দুই আসামিকে সন্ধ্যায় ঢাকার তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ডিবি জানায়। তাদের কাছ থেকে তথ্য মেলেও যে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানাধীন টাঙ্গুয়ার হাওরে একটি নৌকায় রয়েছে অপহরণ চক্রের মূল আসামিসহ চারজন।

হিমেলের বাসা উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে। তিনি পড়াশোনা করেন আইইউবিএটিতে। চার মাস আগে বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি। ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই নিজের প্রাইভেটকার নিয়ে শেরপুর যাচ্ছিলেন তিনি।

২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন হিমেল। সকাল সাড়ে ১১টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান মা তহুরা হক। অনেক খোঁজাখুঁজি করে সন্তানকে না পেয়ে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

এরপর হোয়াটসঅ্যাপে তাকে কল করে ছেলেকে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ২ কোটি টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না দিলে সন্তানের হাত কেটে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

তখন হিমেলে মায়ের জিডিটি অপহরণ মামলা হিসাবে নথিভুক্ত করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। পরে তা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবিকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত