Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

হারিকেন টাইফুন সাইক্লোনে জলবায়ু পরিবর্তনের কী প্রভাব

Harricane
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

ক্যারিবীয় অঞ্চলের কিছু অংশে ভয়াবহ তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে হারিকেন বেরিল। ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার গতিতে সোমবার এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে ইউনিয়ন দ্বীপে। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িঘর ধসে পড়েছে; ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে দ্বীপটি। গ্রেনাডার ক্যারিয়াকো দ্বীপটিও প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন হারিকেন, টাইফুন ও সাইক্লোনে কী ভূমিকা রাখছে সে বিষয়টি সামনে এনেছে আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই ঘূর্ণিঝড়টির ধ্বংসলীলা।

আটলান্টিক মহাসাগরীয় হারিকেনের চলতি মৌসুম শুরু হয়েছে জুন মাসে; চলবে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। সোমবার ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে আঘাত হানার সময় হারিকেন বেরিলের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল।

এ হিসাবে বেরিল সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি, ক্যাটাগির-৫ মাত্রার হারিকেন। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে আঘাত হানা ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার প্রথম হারিকেনও বেরিল। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের হারিকেন মৌসুম হতে পারে ‘অস্বাভাবিক’।

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এবারের হারিকেন মৌসুমটি আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে আলাদা, অনেক বেশি ভয়ঙ্কর হতে পারে। কারণ এবার মৌসুমের শুরুতেই সর্বোচ্চ মাত্রার হারিকেন তৈরি হয়েছে, যা বিরল ঘটনা।

গত ৫৮ বছরের মধ্যে এবছর মৌসুমের শুরুতেই এতো শক্তিশালী হারিকেন আঘাত হানল। ২০ বছরের মধ্যে ওই এলাকার সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক হারিকেনও হতে পারে বেরিল।

শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড় বার্বাডোস, গ্রেনাডা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রেনাডাইনস ও ইউনিয়ন দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর জ্যামাইকার দিকে এগিয়ে যায়। এরপর কিছুটা শক্তি হারিয়ে ঘণ্টায় ২১৫ কিলোমিটার বেগে বুধবার রাতে আঘাত হানে জ্যামাইকায়। এসময় এটি ক্যাটাগরি-৪ মাত্রার হারিকেন ছিল।

ভারি বৃষ্টি আর ঝড়ের তাণ্ডবে ক্যারিবীয় এ দ্বীপটির অনেক গাছ পড়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে অনেক ভবনের। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে দ্বীপটির অনেক বাসিন্দা। নিহত হয়েছে ২ জন।

হারিকেন বেরিল জ্যামাইকায় আঘাত হানার পর ক্যাটাগরি-৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে কেম্যান আইল্যান্ডে আঘাত হানে। সেখানে এটি ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর এটি আরও শক্তি হারিয়ে ক্যাটাগরি-২ মাত্রার হারিকেনে নেমে আসে এবং মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপের দিকে এগিয়ে যায়।

বেরিলের গতিপথ।

বেরিল শুক্রবার রাতে মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপ অতিক্রম করে মেক্সিকো উপসাগর হয়ে সোমবারের মধ্যে ভূভাগে উঠে আসবে। এরপর এটি একটি দুর্বল স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে। তবে এর প্রভাবে মেক্সিকোর উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। হারিকেন বেরিলে এখন পর্যন্ত ৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

হারিকেন কী

হারিকেন হলো অত্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় যা উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সমুদ্রে তৈরি হয়। পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে এগুলো সাইক্লোন বা টাইফুন নামে পরিচিত। একসঙ্গে এই ঝড়গুলোকে ‘ট্রপিক্যাল সাইক্লোন’ বা ‘গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়। পৃথিবীর ৩০ ডিগ্রি উত্তর এবং ৩০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত।

অঞ্চলভেদে ঘূর্ণিঝড়ের নাম।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়গুলোর বাতাসের গতি বেশি থাকে এবং এর ফলে ভারি বৃষ্টিপাত ও জলোচ্ছ্বাস হয়। এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদে সমুদ্রের পানির উচ্চতাও বেড়ে যায়। এই ঝড় প্রায়ই ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি এবং বন্যার কারণ হয়।

একটানা বাতাসের গতিবেগ অনুযায়ী পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয় হারিকেনগুলোকে। কোনও ঝড়ের বাতাসের গতি ঘণ্টায় নূন্যতম ১১১ মাইল বা ১৭৮ কিলোমিটার হলে সেটিকে শক্তিশালী হারিকেন বলা হয়। এই গতির হারিকেনকে ক্যাটাগরি-৩ মাত্রার হারিকেন বলা হয়।

বাতাসের গতি ১৩০ থেকে ১৫৬ মাইল (২০৯ থেকে ২৫২ কিলোমিটার) পর্যন্ত হলে সেটিকে ক্যাটাগরি-৪ মাত্রার হারিকেন বলা হয়। আর বাতাসের গতি ১৫৭ মাইল (২৫২ কিলোমিটার) বা এর বেশি হলে সেটি ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার হারিকেন।

তীব্রতা অনুযায়ী হারিকেনের শ্রেণিবিভাগ।

হারিকেন তৈরি হয় কীভাবে

নিম্নচাপপ্রবণ কোনও এলাকা, যেখানে বজ্র ও মেঘ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন এলাকায় বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক পরিচলন প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যাঘাত ঘটলে হারিকেন, টাইফুন ও সাইক্লোন তৈরি হয়।

তখন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গরম, আর্দ্র বাতাস ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের মেঘে বাতাস ঘুরতে শুরু করে। প্রক্রিয়াটি পৃথিবীর ঘূর্ণন প্রক্রিয়া যেভাবে বিষুব রেখার অদূরে ক্রান্তীয় অঞ্চলের বাতাসকে প্রভাবিত করে তার সঙ্গে যুক্ত।

হারিকেন তৈরি হতে এবং সেটির ঘূর্ণন অব্যাহত রাখার পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সাধারণত কমপক্ষে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে হয়। এক্ষেত্রে বাতাস খুব উপরে ওঠার প্রয়োজন পড়ে না।

এই সব শর্ত পূরণ হলে একটি তীব্র হারিকেন সৃষ্টি হতে পারে। অবশ্য প্রত্যেকটি ঝড়ের সঠিক কারণগুলো বেশ জটিল হতে পারে।

হারিকেন তৈরির উপাদান।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “হারিকেন হলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়, যা উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর এবং উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হয়। অর্থাৎ, আমেরিকার পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের সমুদ্রে।

“সমুদ্রের গরম পানির সংস্পর্শে এসে বায়ু অনেক উত্তপ্ত হলে হারিকেন তৈরি হয়। সমুদ্রের পানির গরমে বায়ু হালকা হয়ে দ্রুত উপরের দিকে উঠে যায়।

“সেই বায়ু আবার শীতল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নীচ থেকে আরও গরম বায়ু উত্থিত হয় এবং আগের বায়ুকে এক পাশে ঠেলে দেয়। এই চক্রের কারণে প্রবল বাতাস এবং ঝড়ো মেঘ তৈরি হয়, যা একসময় হারিকেনে রূপ নেয়।”

হারিকেনগুলো কি আগের চেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠছে

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়েনি এবং প্রকৃতপক্ষে কমেও যেতে পারে। অবশ্য কিছু অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী তথ্য নেই।

জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা আইপিসিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ক্যাটাগরি-৩ এর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা অনেক ‘বাড়তে পারে’।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে যুক্ত গড় ও সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের হারও বেড়েছে বলে মনে করছেন আইপিসিসির বিজ্ঞানীরা।

আটলান্টিক মগাসাগরে ‘দ্রুত চরম আকার ধারণ করা আবহাওয়াগত ঘটনা’র সংখ্যা এবং মাত্রাও সম্ভবত বেড়েছে। এ অঞ্চলে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ খুব দ্রুত বাড়ে, যা অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

হারিকেনগুলোর সামনে এগিয়ে যাওয়ার গতিও কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় আরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো বিপর্যয় নেমে আসে।

উদাহরণস্বরূপ ২০১৭ সালে হারিকেন হার্ভির কথা বলা যেতে পারে। হারিকেনটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনের উপর প্রায় ‘স্থবির’ হয়ে ছিল, যার ফলে সেখানে তিন দিনে ১০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা বিরল ঘটনা।

হারিকেন হার্ভির সময় ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে টেক্সাসের কিছু অংশে ভয়াবহ বন্যা হয়।

কিছু এলাকায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়গুলো সাধারণত যেখানে গিয়ে তাদের সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছায়, তার গতিপথও বদলে গেছে।

উদাহরণস্বরূপ পশ্চিম-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর এলাকার ঘূর্ণিঝড়গুলোর কথা বলা যায়। এসব ঝড়ের গতিপদ বদলে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকায় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা হারিকেনগুলোরও তীব্রতা বাড়ায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন হারিকেনগুলোকে কতটা প্রভাবিত করছে

প্রতিটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট প্রভাব মূল্যায়ন করা অনেক কঠিন। ঝড়গুলো সাধারণত তুলনামূলকভাবে স্থানীয় ও স্বল্পস্থায়ী হয় এবং যেকোনো ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।

তবে বিশ্বের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এই ঝড়গুলোকে বিভিন্ন পরিমাপযোগ্য উপায়ে প্রভাবিত করে।

প্রথমত, সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বেশি বাড়লে ঝড়গুলোও বেশি শক্তি সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বাতাসের গতিও বেশি হয়।

২০২৪ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে চার থেকে সাতটি বড় হারিকেনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর আংশিক কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণে বাড়া। প্রধানত দীর্ঘমেয়াদে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণেই সমুদ্রের তাপমাত্রা এই রেকর্ড উচ্চতায় উঠে।

দ্বিতীয়ত, একটি উত্তপ্ত বায়ুমণ্ডল আরও বেশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে, যা আরও তীব্র বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন ২০১৭ সালের হারিকেন হার্ভেতে তীব্র বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রায় তিনগুণ বাড়িয়েছে।

সর্বশেষ গলিত হিমবাহ ও বরফের চাইগুলোর সংমিশ্রণের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রের আরও বেশি এলাকায় গরম পানি ছড়িয়ে পড়ছে।

এছাড়া স্থানীয় কারণগুলোও একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। এর অর্থ হলো উচ্চতা বেড়ে যাওয়া সমুদ্রপৃষ্ঠ দিয়ে আসে ঝড়ের সময়কার জলোচ্ছ্বাস। ফলে উপকূলীয় এলাকায় বন্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

এর উদাহরণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলছেন ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হারিকেন ক্যাটরিনার কথা। যে ঘূর্ণিঝড়কে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি মনে করা হয়।

বিজ্ঞানীদের অনুমান, ২০০৫ সালে ক্যাটরিনার আঘাতের সময় বন্যার পানি যে উচ্চতায় উঠেছিল তা ১৯০০ সালের জলবায়ু পরিস্থিতিতে আঘাত হানলে যে উচ্চতা উঠতে পারত তারচেয়ে ১৫-১৬ শতাংশ বেশি ছিল।

হারিকেন ক্যাটরিনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানার নিউ অরলিন্সের ৮০ শতাংশ পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল।

জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা আইপিসিসি সামগ্রিকভাবে উপসংহারে পৌঁছেছে যে, মানুষের কর্মকাণ্ড যে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে যুক্ত বৃষ্টিপাত বাড়াতে অবদান রাখছে সে বিষয়ে ‘খুব শক্তিশালী বিশ্বাস’ তৈরি হয়েছে। আর মানুষের কর্মকাণ্ড গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়াতে অনেক অবদান রাখছে- এ বিষয়ে ‘মোটামুটি শক্তিশালী বিশ্বাস’ তৈরি হয়েছে।

হারিকেনগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে

আইপিসিসির মতে, বিশ্বব্যাপী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বিশ্ব আরও উত্তপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়গুলোর বাতাসের গতিবেগ এবং বৃষ্টিপাতের হার বাড়ার সম্ভাবনাও অনেক রয়েছে।

তার মানে ক্যাটাগরি-৪ ও ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার হারিকেনের সংখ্যা বাড়বে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা যত বাড়বে, এই পরিবর্তনগুলো ততই চরম আকার ধারণ করবে।

আইপিসিসির বিজ্ঞানীরা বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ক্যাটাগরি-৪ ও ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। আর ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে ১৩ শতাংশ এবং চার ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে ২০ শতাংশ বাড়তে পারে। এর সঠিক হার নিশ্চিত করে বলা সম্ভব না।

তথ্যসূত্র : বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত