Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

যতক্ষণ দেশবাসী পাশে আছে, কাউকে পরোয়া করি না : প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস
বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

দেশের মানুষ পাশে থাকলে কাউকে পরোয়া করেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপণী ভাষণে তিনি একথা জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপত্বি করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার একটাই শক্তি– জনগণ। তাদের শক্তি নিয়েই আমি চলি। জনগণের মধ্যে একটি আস্থা সৃষ্টি হয়েছে যে, আমি তাদের জন্য কাজ করি। কাজেই এই আস্থা ও বিশ্বাসটাই হচ্ছে আমার একমাত্র সম্বল। আর এই সম্বল নিয়েই আমি চলি। এ জন্যই আমি কাউকে পরোয়া করি না।”

তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “যতক্ষণ আমার দেশবাসী আমার পাশে আছে ততক্ষণ আমি কাউকে পরোয়া করি না।”

জনগণের কাছ থেকে তাকে দূরে সরানো যাবে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি। যে কাজগুলো আমরা করেছি তার সুফলটা দেশবাসী পাচ্ছে, সেটাকে স্বীকার করেন। কিন্তু প্রত্যেকটা কাজকে যদি প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে (চেষ্টা) করা হয়, হ্যাঁ তাতে কি করতে পারেন, জনগণের কাছ থেকে তো আমাকে দূরে সরাতে পারবেন না।”

তিনি বলেন, “হ্যাঁ আমি জানি, আমার বাবার সঙ্গেও একই জিনিস হয়েছে। যতগুলো কাজ তিনি করে গেছেন মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে- সংবিধান দেওয়া থেকে শুরু করে এমন কোন সেক্টর নাই যার ভিত্তিটা তিনি তৈরি করে দেন নাই। তারপরও তার সমালোচনা, তার বিরুদ্ধে নানা কথা লেখা, অনেক কিছু করে তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। যখন পারেনি তখন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তাকেও হত্যার জন্য বারবার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাকেও হত্যার জন্য বার বার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমি বেঁচে গেছি, সেটাও আমার জনগণ এবং দলের নেতাকর্মীরা সব সময় আমাকে ঘিরে রেখেছে। নিজেরা জীবন দিয়ে আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি এখন জনগণের জন্যই কাজ করে যেতে চাচ্ছি এবং কাজ করে যাচ্ছি।”

তার সরকার গত ১৫ বছরে যে পরিমাণ কাজ করেছে অন্যরা তা ২৯ বছরেও পারেনি– এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পারবেনও না, কারণ প্রকল্প দিয়েই তো আগে টাকা খাওয়া। আর আমরা প্রকল্প শেষ করেই ছাড়ি, টাকা খাওয়ার কোনও সুযোগ নাই। এটা হলো বাস্তবতা।”

এ সময় পদ্মা সেতু নির্মাণের শুরুতে ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন যে, এখানে কোন দুর্নীতি হয়নি এবং বিশ্বব্যাংকও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।

তিনি এ সময় দেশে বিভিন্ন মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে অন্য দেশের তুলনায় অপেক্ষাকৃত অধিক অর্থ ব্যয় সংক্রান্ত বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “আমাদের এটা ব-দ্বীপ। এখানকার ভূমি নরম থাকায় যে কোন অবকাঠামোগত প্রকল্প গ্রহণে অধিক অর্থ ব্যয় হয়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেউ কেউ মেট্রোরেল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন– এর  কী প্রয়োজন ছিল? তিন হাজার কোটি টাকা দিয়েই তো যানজটমুক্ত হতো। আজকে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার মানুষ মেট্রোরেল দিয়ে চলতে পারে, ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষ চলাচল করতে পারবে দিনে। উত্তরা থেকে সেই বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। এরপর এটা কমলাপুর রেল স্টেশন পর্যন্ত যাবে। এটায় যারা চড়ছে তারা সুফল পাচ্ছে। যারা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল– তারা লজ্জা পাচ্ছে কী না জানি না।”

তিনি বলেন, “কেউ কেউ আবার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে, যদিও এখান থেকে সব থেকে ভালো বিদ্যুৎ আমরা পাব। এজন্য সেখানে আমরা আরও একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করব।”

বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “যতই বলেন, যেখানে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছিল, আজকে তো ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করতে পারি।”

তিনি বলেন, “যে কাজগুলো আমরা করেছি তার সুফলটা দেশবাসী পাচ্ছেন। সেটাকে স্বীকার করেন।”

সরকারের সমালোচকদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা আরও বলেন, “মানুষের কল্যাণে কী করণীয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করি। দেশের কল্যাণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ভোগ করবেন সবাই আর কথায় কথায় ব্যাঙ্গ করবেন আর প্রশ্ন তুলবেন। প্রশ্ন তোলার আগে– নিজেরা কী করেছেন? কোন দল করেন– সেই দলের বৃত্তান্ত থেকে শুরু করে অপকর্মগুলো একটু চিন্তা করে নেবেন। আয়নায় নিজেদের চেহারাটা আগে দেখেন।”

তিনি বলেন, তার সরকার রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করেছিল, সেটা কোভিড-১৯সহ নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছে।

অতিমারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং স্যাংশন ও পাল্টা স্যাংশনে বিশ্ব মন্দা ছোঁয়ায় দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তার সরকার প্রায় এক কোটি মানুষকে পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করার ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রতিটি ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান করে সাধারণের জীবনযাপন সহজ করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই, বৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদান, ভূমিহীনদের বিনামূল্যে ঘর এবং জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দেওয়াসহ সরকার গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ২১টি জেলা এবং ৩৩৪টি উপজেলা ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত বলে তার সরকার ঘোষণা দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, তার সরকারের বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে অতি দরিদ্রের হার আজকে কমে ২৫ দশমিক ১ ভাগ থেকে ৫ দশমিক ৬ ভাগে এসেছে।

তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ এদেশে অতিদরিদ্র বলে কেউ থাকবে না। ইতোমধ্যে দারিদ্রের হার ৪১ ভাগের ওপর থেকে নেমে ১৮ দশমিক ৭ ভাগে এসেছে। কোভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, স্যাংসন ইত্যাদির কারণে মূল্যস্ফীতি না হলে এটা সরকার আরও কমিয়ে ফেলতে পারতো। তারপরও সরকারের লক্ষ্য রয়েছে ভবিষ্যতে এটা কমিয়ে ফেলার।”

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদন বাড়িয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার ওপরও পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশেষ আইনে কাউকে কিন্তু দায় মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং বেসরকারি খাতে প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছিল সামিট গ্রুপ খুলনায়। তারা ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পন্ন করতে দেরি করেছিল, যে কয়দিন দেরি করেছিল প্রতিদিন ১০ হাজার ডলার করে তাদের জরিমানা দিতে হয়েছে। আর সেই জরিমানা আমি আদায় করেছি।”

তিনি বলেন, “দায়মুক্তি আমরা দেই না, এটা মাথায় রাখতে হবে।”

এ সময় জিয়াউর রহমানের সময় থেকে দেশে চালু হওয়া প্রহসনের নির্বাচন, পরবর্তী সময়ে এরশাদ এবং খালেদা জিয়ারও তা অব্যাহত রাখার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন করে এবং পরে পদত্যাগে বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, “আজকে অনেকে গণতন্ত্রের কথা বলে। গণতন্ত্রের প্রবক্তা হয়ে গেছে কেউ কেউ। আমার প্রশ্ন যারা এখন গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে চিৎকার করছে তাদের জন্মটা কি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে হয়েছে? না ওই রক্তাক্ত হাতে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল সেই সেনা কর্মকর্তার পকেট থেকে বের হওয়া রাজনৈতিক দল তারা? যারা বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল।

প্রধানমন্ত্রীর আগে বক্তব্য দেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। বাসস।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত