Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

বাংলাদেশের বাঁহাতি কোহলি হতে চাই

২০০৭ সালে রাকিবুল হাসান, ২০২০ সালে তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এক ইনিংসে ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল এ দুজনের। রবিবার শেখ কামাল অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ৪৮৩ বলে অপরাজিত ৩২০ করে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেছেন রিফাত বেগ। বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি এখন তার। সকাল সন্ধ্যার শিহাব উদ্দিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিকেএসপির এই বাঁহাতি ওপেনার জানালেন ট্রিপল সেঞ্চুরির সময়ের রোমাঞ্চ, তার ক্রিকেটে আসা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা।   

প্রশ্ন : ট্রিপল সেঞ্চুরির জন্য অভিনন্দন। কেমন লাগছে আর কখন মনে হলো তিনশো করতে পারবেন?

রিফাত : খুব ভাল লাগছে। আগের দিনই (শনিবার) আমার দুইশো হয়ে যায়। দিন শেষে আমি নটআউট ছিলাম। তো আমার পরে আরও দুজন সলিড ব্যাটার ছিল। রাতে যখন আমার ইনিংস নিয়ে কথা হচ্ছিল, স্যাররা বলছিলেন তুমি স্বাভাবিক খেলতে থাকো। তখন সবার কারণে একটু ভরসা পাচ্ছিলাম যে আমি স্বাভাবিক খেলাটা খেললে ওরা (দুই ব্যাটার) সাপোর্ট দিলে তিনশো হয়েও যেতে পারে। ওদের সমর্থন ও আমার স্বাভাবিক খেলায় হয়ে গেছে।

প্রশ্ন : এরকম মাইলফলকের সামনে বড় ক্রিকেটাররাও একটু স্নায়ুর চাপে ভুগে। আপনিও কি ভুগছিলেন?

রিফাত : ভয় লাগছে আসলে যখন ওই দুইজন ব্যাটার আউট হয়ে গেল আর পরে আরেকজন আসল যে অল্প ব্যাটিং পারে….ওকে নিয়ে একটা ছোট জুটি গড়ে ভালোই এগোচ্ছিলাম কিন্তু ও আউট হয়ে গেল আমার ২৯৮ রানের সময়। ৯ উইকেট পড়ে গেলে বোলার ( শেষ ব্যাটার) যে ব্যাটিংয়ে নামল ওকে তো ওভারের শেষ দুই বল ফেস করতে হয়েছিল। ওই সময় আমি খুব নার্ভাস ছিলাম যে দুটো বল সে ফেস করতে পারবে কিনা! আমার তিনশোটা হবে কিনা!

প্রশ্ন : ওই সময় অপরপ্রান্তের ব্যাটারকে কী বলেছিলেন?

রিফাত : ওর নাম হুসেইন। আমি ওকে শুধু একটা কথা বলছি যা হওয়ার হোক, তুই দুইটা বল কোন ভাবে রাইখা দে! যা মন চায় হোক তুই দুইটা বল খেল।

প্রশ্ন : আপনার ক্রিকেটে আসার গল্পটা জানতে চাই।

রিফাত : আমার ক্রিকেটে উঠে আসার পেছনে আমার মেজ ভাইয়ের সহযোগিতা অনেক। টাঙ্গাইলে আমাদের এলাকায় উনাকে হৃদয় নামে চেনে সবাই। উনি ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলতেন। কিন্তু বড় পর্যায়ে যাওয়ার আগে জাতীয় পর্যায়ে খেলার বয়সটা পেরিয়ে যায়। তখন উনি ভাবলেন নিজে পারেননি তাই আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। সে জায়গাটা থেকে উনি আমাকে ক্রিকেটার হওয়ার পথে এগিয়ে নেন। টাঙ্গাইলের নিরালা মোড়ে টাঙ্গাইল স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করেন সেই থেকে শুরু। অনেক সময় অনুশীলন করে বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যেত, হৃদয় ভাই পুরো অনুশীলনের সময় বসে থেকে আমাকে বাসায় নিয়ে যেতেন।

প্রশ্ন : পরিবারের বাকিদের অবদান কেমন ছিল? বিসিবির দেয়া ভিডিওতে আপনার বাবার কথা বলছিলেন..

রিফাত : বাবাও ( মোহাম্মদ মজিদ) আজকে অনেক খুশি। আমি যখন ভাইয়ের হাত ধরে ক্রিকেটে আসি উনি বা মা (হালিমা বেগম) কখনও বাধা দেননি। বড় ভাই ( মোহাম্মদ রুবেল) উনিও পাশে থেকেছেন। আমি ছোট বলে আমাকে একটু বাড়তি আদর করে সবাই। সবার ভালোবাসা আমি পেয়েছি এবং ক্রিকেটে আরও ভালো করার জন্য ওনারা এখনও আমাকে পুরোপুরি সাহস জোগান এবং সমর্থন দেন। বাবা আমাকে সবসময় নাম্বার ওয়ান দেখতে চান। যেহেতু ব্যাটার হয়ে উঠেছি বাবা বলেন যে আমি যেন সেরা ব্যাটার হতে পারি। তিনশো রানের রেকর্ড করে বাবাকে সেই খুশিটা দিতে পেরেছি।     

প্রশ্ন : বিকেএসপিতে কবে এলেন এবং সেটা কীভাবে?

রিফাত : ছোটবেলা থেকে ভাই আমাকে বলতেন যে বড় ক্রিকেটার হতে হলে বিকেএসপিতে ভর্তি হতে হবে। বারবার যেহেতু বলতেন আর তখন কাঠের বলে খেলা শুরু করেছি, বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছি… ওই জায়গা থেকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা বা আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর ২০১৯-২০ বর্ষে বিকেএসপিতে ট্রায়াল দেই। ওই সময় করোনার বছর থাকায় একটু কঠিন ছিল আসা যাওয়া করা। তবুও আমার ভাই নিজে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন, কষ্ট করেছেন, পাশে থেকেছেন বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার সব প্রক্রিয়ার সময়।

প্রশ্ন : বলছিলেন বিরাট কোহলি আপনার আদর্শ। তার কোন বিষয়গুলো ভালো লাগে?

রিফাত : বিরাট কোহলির ব্যাটিং স্টাইল আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। আমি তার মতো ব্যাটিং করতে চেষ্টা করি। তার মতো নিখুঁত কাভার ড্রাইভ করতে চাই। আর উনার খেলা আমি সবসময় দেখি। মাঠে যে উনি খেলা নিয়ে খুব সিরিয়াস থাকেন, কখনও হাল ছাড়েন না ওই মানসিকতাটা ভালো লাগে। আমি যেহেতু ব্যাটার, তার মতো সফল হতে চাই। বাংলাদেশের বাঁ-হাতি কোহলি হতে চাই।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের কাকে আদর্শ মানেন বা ফলো করেন?

রিফাত : বাংলাদেশের কাউকে ঠিক ওই ভাবে ফলো করি না। তবে সাকিব ভাইকে একটু ভালো লাগে। তবে ফলো করার মতো না, আমি নিজে বড় হতে চাই।

প্রশ্ন : ২০২৬ যুব বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৮ তে খেলছেন প্রক্রিয়া মেনে অনূর্ধ্ব-১৯ এ আসবেন। তবে আলাদা করে যুব দলে খেলার ইচ্ছার কারণ কি?

রিফাত : জাতীয় দলে জায়গা পেতে হলে বা বড় ক্রিকেটার হতে হলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গাটায় ভালো কিছু করতে পারলে বাংলাদেশ বা পুরো বিশ্ব আমাকে চিনবে। এই জায়গায় ভালো করলে জাতীয় দলে যাওয়ার সুযোগটাও বেশি থাকে। যেহেতু এখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সম্মান বা পরিচিতি একটু বেশি, এই পর্যায়টা ভালো আছে তাই আমি এখানে খেলতে চাই এবং এরপর সামনের দিকে এগোতে চাই।

প্রশ্ন : লঙ্গার ফরম্যাটে বাংলাদেশে দুটো তিনশো আছে। আপনি কি জানতেন? আপনার টার্গেট কি ছিল?

রিফাত : আমার টার্গেট ওই রকম ছিল না। আমার প্রথম টার্গেট ছিল সেঞ্চুরি। ওই জায়গা থেকে আস্তে আস্তে দুইশো হয়ে গেল। দুইশো পার করে সামনে যখন এগোচ্ছি তখন আমি আত্মবিশ্বাস পেলাম যে তিনশোও করতে পারবো। আমি জানতামও না যে তিনশো (লঙ্গার ফরম্যাটে) আছে। আমি জানতাম বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দুইশো আছে। ২৩৭ সর্বোচ্চ স্কোর এবারও করেছে একজন। আমি এই ইনিংস খেলার আগে ওটা মাথায় রেখেছিলাম।

প্রশ্ন : এখন তো টি-টোয়েন্টির যুগ। এই সময় লঙ্গার ফরম্যাটে তিনশো করলেন। নিজেকে কোন ফরম্যাটের ব্যাটার মনে করেন?

রিফাত : আমি নিজেকে সব ফরম্যাটের জন্য প্রস্তুত করতে চাই। লম্বা ফরম্যাটে তিনশো করেছি, লাল বলে ভালো করতে চাই। তেমনি সাদা বলে খেলার সুযোগ পেলে সাদা বলেও এরকম ভালো কিছু করতে চাই। যখন যে রকম ব্যাটিং দরকার সেটা কররার ইচ্ছা।

প্রশ্ন : যুব পর্যায়ে ভালো করেও অনেক ক্রিকেটার হারিয়ে যায়। জাতীয় দলে যাওয়ার যে লম্বা চ্যালেঞ্জ সেটা কিভাবে ফেস করবেন?

রিফাত : এটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ। আমি দেখেছি জাতীয় দলে যাওয়া অনেক কঠিন। তবে ওই পথটা পাড়ি দিতে চাই। নিজের স্বাভাবিক খেলা দিয়ে বা ভাগ্যে থাকলে আমি অবশ্যই জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।    

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist