Beta
মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪
Beta
মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

‘বিশেষ বিবেচনায়’ আইএফআইসি ব্যাংকের উপদেষ্টা হলেন সারওয়ার

শাহ আলম সারওয়ার। ফাইল ছবি
শাহ আলম সারওয়ার। ফাইল ছবি
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে ওই কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে উপদেষ্টা বা পরামর্শক নিয়োগের সুযোগ নেই।

কিন্তু সেই নির্দেশনা মানা হয়নি আইএফআইসি ব্যাংকের সদ্যসাবেক এমডি শাহ আলম সারওয়ারের বেলায়। গত ১৩ মে পর্যন্ত তিনি আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি ছিলেন। অবসরে যাওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় তাকে কৌশলগত উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেয় ব্যাংকটি। 

জানা গেছে, এই নিয়োগ কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদন নেয় আইএফআইসি ব্যাংক। গত ২৬ মে থেকে শাহ আলম সারওয়ার আইএফআইসি ব্যাংকের এমডির কক্ষে বসেই উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এমডি পদ শূন্য হলেও পূর্ণকালীন এমডি হিসেবে কাউকে এখনও নিয়োগ দেয়নি আইএফআইসি ব্যাংক।

এদিকে ব্যাংক খাতের সুশাসন ও শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া নির্দেশনা শাহ আলম সারওয়ারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হওয়ায় এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটালে নির্দেশনার উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা থেকে যায়।

জানা গেছে, আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ দিন ব্যাংকে এমডি পদে কাজ করেন শাহ আলম সারওয়ার। ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমান।

২০২১ সালের ১২ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ১৫(৯) ধারার উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা, পেশাগত মান ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংকের পরিচালক, চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টা বা পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫ বছরের একটি বিরতি দিতে বলা হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, “কোনও ব্যাংকের সাবেক পরিচালক, এমডি বা এমডির নিচের অব্যবহিত ২ স্তর পর্যন্ত কর্মকর্তারা অবসর বা অব্যাহতি বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৫ বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত একই ব্যাংকের উপদেষ্টা বা পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না।”

এই নির্দেশনা যাতে শাহ আলম সারওয়ারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ অনুমোদন চাওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বুধবার সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “নির্দেশনায় ৫ বছরের বিরতির কথা বলা থাকলেও আমরা বিশেষ বিবেচনায় আইএফআইসি ব্যাংককে শাহ আলম সারওয়ারকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছি। গত সপ্তাহে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।”

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দুই বছরের জন্য তাকে কৌশলগত উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রতি মাসে বেতন অনুমোদন করা হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

শাহ আলম সারওয়ার ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে আইএফআইসি ব্যাংকে এমডির দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন শাহ আলম সারওয়ার। তিনি ২০১৯ সালে বছরের ৪ মাসই কাটিয়েছিলেন বিদেশে। সে বছর ২১ বার বিদেশ যান তিনি। এক পর্যায়ে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসে।

ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৩ মার্চ সামগ্রিক ব্যাংক খাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিদেশ সফরের লাগাম টানতে একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ওই সার্কুলারে বলা হয়, “সম্প্রতি পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, কতিপয় ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস কিংবা ব্যক্তিগত ছুটিতে দীর্ঘদিনের জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এতে ব্যাংকের কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা কমার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনগত ঝুঁকিসহ আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত