Beta
মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪
Beta
মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

কাঁধ দিয়ে ব্যাটিং, পা দিয়ে বোলিং

জম্মু ও কাশ্মীরের প্যারা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক আমির হোসেন লোন। ছবি: টুইটার
জম্মু ও কাশ্মীরের প্যারা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক আমির হোসেন লোন। ছবি: টুইটার
Picture of ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রীড়া ডেস্ক

একজন বোলার বল করছেন পা দিয়ে। ব্যাট করছেন কাঁধ ও ঘাড়ের সাহায্যে। ভাবছেন, এটা সম্ভব নাকি! যদি ভেবে থাকেন, তাহলে আমির হোসেন লোনের খেলায় চোখ রাখতে পারেন। দুই হাত না থাকা পরও ক্রিকেটের প্রতি তার যে ভালোবাসা, সেটি সবার জন্যই হতে পারে অনুপ্রেরণার।

জম্মু ও কাশ্মীরের ওয়াঘামা গ্রামে বেড়ে ওঠা আমিরের। ২০১৩ সাল থেকে বিস্ময়করভাবে চলছে তার পেশাদারি ক্রিকেট ক্যারিয়ার। বয়স যখন ৮, তখন বাবার কারখানায় দুর্ঘটনায় দুই হাতই হারান তিনি। তবে থেমে থাকেননি। প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে ভালোবাসার ক্রিকেটের সঙ্গেই আছেন তিনি।

হাত নেই, তারপরও তার ক্রিকেটীয় দক্ষতা ছিল মুগ্ধকর। সেটিই একদিন চোখে পড়ে এক শিক্ষকের। তিনিই প্রথমবার আমিরকে জানান প্যারা ক্রিকেটের কথা। নতুন করে আবার পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বুনতে থাকেন। যে স্বপ্ন তাকে বানিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর প্যারা ক্রিকেটের অধিনায়ক।

এই জার্নিতে কাউকে পাশে পাননি আমির। সেই আক্ষেপ থাকলেও নিজের প্রতি তার আছে অগাধ বিশ্বাস। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেছেন, “দুর্ঘটনার পর আমি আশা হারাইনি, বরং কঠোর পরিশ্রম করেছি। নিজেই সবকিছু করতে পারি। আমি কারও ওপর নির্ভরশীল নই। আমার দুর্ঘটনার পর কেউ সাহায্য করেনি। এমনকি সরকারও আমাকে সাহায্য করেনি। তবে সবসময় পাশে ছিল আমার পরিবার।”

কাঁধ দিয়ে ব্যাট করেন আমির। সেটা রপ্ত করা যতটা কঠিন ছিল, তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে বোলিং করা। ৩৪ বছর বয়সী এই প্যারা ক্রিকেটার বোলিং করেন পা দিয়ে। যেখানেই খেলতে যান, তার বোলিং দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন সবাই।

আমিরের বক্তব্য, “খেলার জন্য আমি সব জায়গায় প্রশংসা পেয়েছি। আমি মনে করি, ঈশ্বর আমার সঙ্গে রয়েছেন, যে কারণে আমার কঠোর পরিশ্রম প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ পা দিয়ে বোলিং করা সত্যিই কঠিন ছিল। তবে আমি সেই দক্ষতা ও কৌশল রপ্ত করতে পেরেছি।”

আমির জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবার খেলেন ২০১৩ সালে। এরপর পা রাখেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। সেই অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন এভাবে, “২০১৩ সালে দিল্লিতে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলাম। ২০১৮ সালে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলাম বাংলাদেশের বিপক্ষে। এরপর নেপাল, শারজা ও দুবাইয়ে ক্রিকেট খেলেছি। আমার পা দিয়ে (বোলিং) এবং কাঁধ ও ঘাড় দিয়ে ব্যাটিং করতে দেখে সবাই হতবাক।”

শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলি তার প্রিয় ক্রিকেটার। এই দুই তারকার সঙ্গে দেখার করার ইচ্ছা আমিরের, “শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলিকে খুব পছন্দ। ঈশ্বর চাইলে তাদের সঙ্গে শিগগিরই দেখা হবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত