Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

ভারতের ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আসবে কবে

চোরাপথে আসা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
চোরাপথে আসা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
Picture of বিশেষ প্রতিনিধি, সকাল সন্ধ্যা

বিশেষ প্রতিনিধি, সকাল সন্ধ্যা

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে। রমজান মাসে পেঁয়াজের বাজার সহনীয় রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বিশেষ উদ্যোগে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেয় সরকার।

অন্তত একমাস ধরে বলা হচ্ছিল, রোজা শুরুর আগেই সেই পেঁয়াজ দেশে পৌঁছবে। ভারতীয় পেঁয়াজ আসার খবরে বাজারে পেঁয়াজের দাম নতুন করে বাড়েনি। তবে রোজার আগে সেই পেঁয়াজও আসেনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টেডিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ (টিসিবি) ও কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কেউই বলতে পারছেন না, কবে নাগাদ ভারতীয় পেঁয়াজ দেশে পৌঁছবে। সেই পেঁয়াজ সরকারি না বেসরকারি সংস্থা, কারা বিক্রি করবে তা নিয়েও সঠিক তথ্য জানা যায়নি।

ফলে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে পৌঁছলে বাজারে কতটা সুফল মিলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, রমজানের আগে ভারতের এই পেঁয়াজ এলে এই নিত্যপণ্যের দাম কম থাকত।

বাজারে মঙ্গলবার ভারতীয় পেঁয়াজ ১২৫ টাকা ও দেশীয় পেঁয়াজ ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় এই পেঁয়াজ বৈধ পথে আসেনি।  

২ মার্চ ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক সন্তোষ কুমার সারেঙ্গী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

অবশ্য এর আগে থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বিভিন্ন ফোরামে জানান, রোজার আগেই ভারত থেকে পেঁয়াজ বাংলাদেশে পৌঁছবে।

সর্বশেষ ১০ মার্চ মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী রোজার আগেই পেঁয়াজ আসার খবর পুর্নব্যক্ত করেন।

পেঁয়াজ আমদানি সম্পর্কে জানতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি ও উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সকাল সন্ধ্যার প্রতিনিধি। তাদের কারও বক্তব্যে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি, কবে নাগাদ পেঁয়াজ দেশে আসবে।

সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে পেঁয়াজ আমদানি করতে হলে উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের অনুমতি ও ছাড়পত্রের প্রয়োজন। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. রেজাউল করিম বলেন, “টিসিবি পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।”

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মূলত আমদানি প্রক্রিয়া দেখে। তবে এই মন্ত্রণালয়ের আমদানি বাণিজ্য বিভাগ যারা সামলান, তাদের কাছেও হালনাগাদ তথ্য নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব রেজওয়ানুর রহমান জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

একই বিভাগের যুগ্ম সচিব সুব্রত কুমার দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমদানি উইং থেকে এ ধরনের প্রস্তাব এখনও আমাদের কাছে আসেনি।”

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষকে ফোন দিলে তিনি সাড়া দেননি।

অবশ্য পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে কিছু আশার কথা শোনান টিসিবি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান। তিনি বলেন, “এখন চিঠি চালাচালির পর্যায়ে রয়েছে বিষয়টি। আজ বা কালকের মধ্যেই আমরা ভারতের কাছ থেকে দরদাম জানতে পারব। সেটি চূড়ান্ত হলেই আমরা সামনে এগুব।”

কোন প্রক্রিয়ায় বা কারা এই পেঁয়াজ আনবে- এই প্রশ্নে টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, “পুরোটাই টিসিবি আনবে, নাকি বেসরকারি খাতে কিছু আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে, তা নিশ্চিত হয়নি। তবে টিসিবি আনলে আমাদের চ্যানেলেই অর্থাৎ ডিলারের মাধ্যমেই সারাদেশে পেঁয়াজ বিক্রি হবে। আর বেসরকারি খাতে কিছু আসলে সেটি বাজারে ছাড়া হবে।”

কবে নাগাদ পেঁয়াজ আসবে তা নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও এক সপ্তাহের মধ্যে আসতে পারে বলে আশাবাদী আরিফুল হাসান।


রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শেষ ৩১ মার্চ

ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা না বাড়ালে ১ এপ্রিল থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ দেশে আসা শুরু হবে। তখন বাজারে পেঁয়াজের দর কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১ এপ্রিল থেকে ভারতের পেঁয়াজ আসা শুরু হবে জেনে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা নতুন করে আমদানি অনুমতিপত্র বা আইপি নেওয়া শুরু করেছেন। পেঁয়াজ আমদানিতে ঋণপত্র খোলার আগে অনুমতি নিতে হয় কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর থেকে। এই দপ্তর থেকে এক সপ্তাহ ধরে ‘বিপুল পরিমাণ’ পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের উপপরিচালক (আমদানি) মুহাম্মদ লিয়াকত হোসেন খান বলেন, “২০২৩ সালের ৫ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত ২৩ লাখ ২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে পেঁয়াজ দেশে এসেছে ৭ লাখ ১৬ হাজার টন।

“সপ্তাহখানেক ধরে নতুন করে আইপি নেওয়া শুরু হয়েছে। এর সবগুলোই ভারতীয় পণ্য। দু’মাস আগে পেঁয়াজের দাম বাড়লে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির আইপি নিলেও এখন শুধু ভারত থেকেই আইপি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।”

আইপি অনুমোদনকারী সরকারি এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “ঠিক কী কারণে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিচ্ছেন, তা জানি না। ধারণা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে এই খবর শুনে তারা অনুমতি নিচ্ছেন।”

আমদানি অনুমতি কেন নেওয়া হচ্ছে জানতে কথা হয় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিকারক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে। সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, “ভারতে এখন পেঁয়াজের দাম অনেক কম, কেজিপ্রতি ১৩ থেকে ১৮ রুপি। এই পেঁয়াজ কিনে দেশের বাজারে কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি সম্ভব, যদি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।”

চোরাপথে ভারতীয় পেঁয়াজ আসছেই

বৈধভাবে না আসলেও চোরাইপথে ভারতীয় পেঁয়াজ আসা থেমে নেই। আড়ত ও খুচরা দোকানে এখন দেশি পেঁয়াজের চেয়ে ভারতীয় পেঁয়াজই বেশি। বেগুনি রঙের নাসিক জাতের এই পেঁয়াজ চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে যেমন মিলছে, তেমনি মিলছে খুচরা, এমনকি ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতেও।

ফলে রমজান মাস ঘিরে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে যে গুঞ্জন চলছিল, তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। যদিও চোরাইপথে এ পণ্য আসায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। দেশীয় পেঁয়াজ উৎপাদনকারীরাও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

অবশ্য চোরাইপথে পেঁয়াজ আসায় ভোক্তারা কিছুটা হলেও খুশি। কারণ তারা তুলনামূলক কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারছেন।

এক সপ্তাহ ধরে বাজারে পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী জানিয়ে খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, “অবৈধভাবে আসা ভারতীয় পেঁয়াজ এখনও আড়তে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে দেশীয় পেঁয়াজ।

“মূলত ভারত থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ বৈধভাবে আসছে জেনে বাজারে এর দাম কমে যায় এক সপ্তাহ আগে। এছাড়া দেশীয় পেঁয়াজের বিপুল সরবরাহ বাজারে এর দাম কমিয়ে দিয়েছে।”

ভারতীয় পেঁয়াজ শেষ পর্যন্ত কবে নাগাদ আমদানি হবে, এই প্রশ্ন তুলে মোহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, “ভারতীয় পেঁয়াজ রোজার আগে এলে বাজারে সুফল মিলত। এখন এনে কী হবে? শোনা যাচ্ছে, বড় কয়েকটি শিল্প গ্রুপ সেই পেঁয়াজ আনছে। তো, কবে আসবে সেগুলো, রোজা শেষ হলে?”

খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির এই সাধারণ সম্পাদক মনে করেন, দেশীয় পেঁয়াজের দাম ক্রমশ কমছে। এর দাম বাড়ার সুযোগ নেই। কারণ রোজা শুরুর আগেই ক্রেতারা তাদের চাহিদা মতো পেঁয়াজ কিনে ফেলেছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত