Beta
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

প্লাস্টিকের বিশ্ববাজারে ‘জায়গা’ চান শিল্পমন্ত্রী

বুধবার ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন হলে আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। ছবি : বাসস

প্লাস্টিক মেলা থেকে ভালো দিকনির্দেশনা মেলে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, বিশ্বে প্লাস্টিকের বড় সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে আমাদের জায়গা করে নিতে হবে।

বুধবার ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন হলে ১৬তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা-২০২৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী ছিলেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য প্রতিন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটো।

অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার তাড়া থাকায় এখানে অল্প কথায় বক্তব্য শেষ করেন শিল্পমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, ‘‘আমাদের যে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আছে উনি বাণিজ্য বিষয়ে খুব পারদর্শী। আমি বিশ্বাস করি আমাদের যে টিম হয়েছে, এবার শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মিলে, তা খুবই ভালো একটি টিম। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের বর্তমান ও আগামীর যে পরিকল্পনা তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’’  

মন্ত্রী বলেন, ‘‘এই প্লাস্টিক ফেয়ার আমাদেরকে অনেক ভালো দিকনির্দেশনা দেয়। আমাদের প্লাস্টিকের অভ্যন্তরীণ বাজারও খুব বড় মাপের একটি বাজার। প্লাস্টিক সেক্টরে বিশ্বের মধ্যে যে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেখানে আমাদেরকে জায়গা করে নিতে হবে।’’

দেশে প্লাস্টিক শিল্প নগরী হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘প্লাস্টিক সেক্টরকে উন্নয়ন করার জন্য আমরা শিল্প মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। প্লাস্টিকের জন্য আমরা ইতিমধ্যে প্লাস্টিক শিল্পনগরী করছি। পাশাপাশি মুদ্রণ শিল্পনগরীও হচ্ছে। আর এগুলোর কাজ চলমান আছে। আমরা বিশ্বাস করি এ সরকারের আমলে আপনারা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবেন।’’

মেলা ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়ার আশা ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করে এর পরপরই মেলার উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী।  

শিল্পমন্ত্রীর আগে বক্তব্য দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি বর্তমান অবকাঠামোতে আমরা ১০০ বিলিয়ন  মার্কিন ডলার রপ্তানি করতে পারি। এর জন্য আমাদের শুধু পোশাক শিল্পের দিকে নজর না দিয়ে পাস্টিক, হস্তশিল্পসহ নানান নতুন রপ্তানি খাতের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’’

‘‘প্লাস্টিক সেক্টর আমাদের রপ্তানিতে অনেক ভূমিকা রাখে। একক সেক্টর হিসেবে রপ্তানির দিক থেকে প্লাস্টিক সেক্টর ১২ নম্বর অবস্থায় আছে’’ যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।  

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘‘আজকে আমরা ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানিতে পৌঁছেছি, এটা আরও বাড়ানো সম্ভব।

‘‘প্লাস্টিক সেক্টরের মতো অন্যান্য সেক্টরগুলো যদি আরও বেশি উন্নয়ন করা যায়, তাহলে রপ্তানি আয় বাড়ানো যাবে।’’

মেলার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক বাংলাদেশ প্লাস্টিক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি শামীম আহমেদ।

বর্তমানে গার্মেন্টস, খাদ্য শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে প্লাস্টিক শিল্প ব্যাপক অবদান রাখছে;

প্লাস্টিক মোড়ক ও গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ বাদে কোনও পণ্যই বিদেশে রপ্তানি করা অসম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, বর্তমানে প্লাস্টিক রপ্তানি বাজার ১২০ কোটি (১.২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের এবং ৪০ হাজার কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে। এবারের মেলায় বিদেশি ৬০০ কোম্পানির ৮০০ স্টল এবং দেশীয় ৫৪টি কোম্পানির ১৬১টি স্টল অংশ নিয়েছে। দেশি-বিদেশি মিলে মোট স্টল ৯৬১টি। বুধবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মেলা।

প্রায় ২০টি দেশ থেকে প্রতিনিধিরা এই মেলায় অংশ নিচ্ছেন। এসব দেশ গুলোর মধ্যে রয়েছে- চীন, তাইওয়ান, ভারত, বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউকে, ইউএসএ, সৌদি আরব, হংকং, ইতালি, জার্মানি, জাপান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist