Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

মেট্রোরেলে ভ্যাট না রাখার দাবি আইপিডির

মেট্রোরেল স্টেশন
মেট্রোরেল স্টেশনের টিকেট বিক্রয় মেশিন
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

মেট্রোরেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট আরোপের বিরোধিতা করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। আগামী জুলাই থেকে মেট্রোরেলের টিকেটে এই ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বসানোর কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন গবেষণা এবং নীতি বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইপিডি বলছে, ভ্যাট যুক্ত হলে মেট্রোরেলের ভাড়া বাড়বে। যার ফলে এই গণপরিবহন ব্যবহারকারী ঢাকার স্বল্পবিত্ত ও মধ্যবিত্তের অনেকেরই জন্য মেট্রোরেল নিয়মিত ব্যবহার সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে।

মেট্রোরেলকে ঢাকার ধনী-গরিবের গণপরিবহন উল্লেখ করে এর ওপর ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আইপিডি।

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আইপিডি বলছে, “ঢাকা শহরে মেট্রোরেলের বিদ্যমান ভাড়া এশিয়ার অন্য অনেক দেশের তুলনায় এমনিতেই বেশি। ভারতের কলকাতা, পাকিস্তানের লাহোর, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর প্রভৃতি মেট্রোরেলে চলাচলের ব্যয় বাংলাদেশের মেট্রোরেলের বর্তমান ভাড়ার তুলনায় কম।”

পিক আওয়ারে ঢাকায় মেট্রোরেলে যাত্রীর বর্তমান চাহিদা ও মাত্রাতিরিক্ত চাপ দেখে ভাড়া সাধ্যসীমার মধ্যে আছে এটা ভেবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইপিডি।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, “ঢাকায় মানসম্মত গণপরিবহনের তীব্র সংকট এবং মাত্রাতিরিক্ত যানজটের কারণে অনেক সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন অন্যান্য ব্যয় কাটছাঁট করে সাধ্যের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই মেট্রোরেলে নিয়মিত যাতায়াত করছেন। উত্তরা-মতিঝিল এর মধ্যবর্তী রুটের অনেক স্বল্প আয়ের লোকেরা বিদ্যমান ভাড়াতেই মেট্রোরেল চড়বার সামর্থ্য না থাকায় একান্ত বাধ্য হয়েই এই রুটের মানহীন বাসে চলাচল করছেন।”

মেট্রোরেলের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা দৈনিক পাঁচ লাখ হলেও এখন প্রায় তিন লাখ যাত্রী এটি ব্যবহার করছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “এখনও সক্ষমতার পুরো মাত্রায় মেট্রোরেলের ব্যবহার করতে পারছি না আমরা। এমতাবস্থায় মেট্রোরেলের ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব এটির ব্যবহারকে সংকুচিত করতে পারে।”

ঢাকার মতো মেগা সিটিতে যাতায়াত ও পরিবহনে মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থার সুযোগ মানুষের অন্যতম অধিকার উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “এসডিজির ধারণায় অন্যতম হচ্ছে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর। যেখানে পরিসেবা ও নাগরিক সুবিধা সব ধরনের আয়ের মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখাই রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য। ফলে মেট্রোরেলের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উচিত বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর মওকুফ সুবিধা অব্যাহত রাখা।

“মেট্রোরেলে ভ্যাট বসাতে এনবিআরের প্রদেয় যুক্তি ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুসারে সব ধরনের করছাড় কমাতে হবে’ যথার্থ নয় এবং ফলে অগ্রহণযোগ্য। মেট্রোরেলের মত গণপরিবহনে  আইএমএফের নীতির অতিসরলীকরণ ও অপপ্রয়োগ একেবারেই কাম্য নয়।”

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে আইপিডি বলছে, দেশের ৮৭ শতাংশ ধনী এবং উচ্চ-মধ্যবিত্ত নাগরিক আয়কর দেন না।

মেট্রোরেলের মতো গণপরিবহনে ভ্যাটের মতো পরোক্ষ কর বসিয়ে রাজস্ব আদায় না করে ধনীদের আয়করের মতো প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর দিকে এনবিআরের নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করে আইপিডি।

একই সঙ্গে মেট্রোরেলের ভাড়া সাধ্যের মধ্যে রাখতে গণমানুষের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এবং এনবিআরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ভাড়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে আইপিডি।

এর পাশাপাশি মেট্রোরেলে ভর্তুকি কমানোর বিকল্প কৌশল অনুসন্ধানের দাবিও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত