Beta
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

জাপানি মা পেলেন ২ সন্তান, বাংলাদেশি বাবা পেলেন ১ জনকে

নাকানো এরিকো।

তিন সন্তান নিয়ে জাপানি মা ও বাংলাদেশি বাবার বিরোধের নিষ্পত্তি করে দিল হাই কোর্ট। 

মঙ্গলবার এক রায়ে তিন শিশুকে বাবা-মার মধ্যে ভাগ করে দিয়ে এ রায় হয়।

তাতে বড় ও ছোট মেয়েটির দায়িত্ব পেয়েছে তাদের জাপানি মা নাকানো এরিকো। আর মেজ মেয়ে থাকবে তাদের বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফের কাছে।

বিচারপতি মামনুন রহমানের একক বেঞ্চের এই রায়ে আরও বলা হয়েছে, বড় সন্তানকে নিয়ে নাকানো এরিকো জাপান যেতে চাইলে চলে যেতে পারবেন।

তিন শিশুর মধ্যে ছোটটি এখন জাপানে তার নানির কাছে আছে। বড় ও মেজ মেয়েকে নিয়ে বাবা বাংলাদেশ চলে আসার পর সন্তানের দাবি নিয়ে ছুটে আসেন নাকোনো।

তিনি আদালতে গেলে শুরু হয় বাবা-মায়ের আইনি লড়াই। সন্তানদের দিকে চেয়ে তাদের আদালতের বাইরে মীমাংসার জন্য বলা হলেও তাতে কোনও ফল আসেনি।

দুই মেয়েকে নিয়ে দেশে চলে এসেছিলেন ইমরান শরীফ।

পেশায় চিকিৎসক নাকানো এরিকোর সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক প্রকৌশলী শরীফ ইমরানের পরিচয় হয় টোকিওতে। ২০০৮ সালে তারা বিয়ে করেন সেখানে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, এই বিয়েতে কেউ নিজ ধর্ম ত্যাগ করেননি।

জাপানে এক যুগের দাম্পত্য জীবনে তিন মেয়ের বাবা-মা হন তারা। তিন সন্তানই পড়াশোনা করছিল টোকিওর স্কুলে।

২০২০ সাল পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন তারা। দাম্পত্য কলহের জেরে পরের বছর বিচ্ছেদের আবেদন করেন এরিকো। তখন তিন মেয়ে তার কাছেই ছিল।

এরপর ২০২১ সালের জানুয়ারি ইমরান স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বড় দুই মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান বলে এরিকো জানান।

ইমরান সন্তানদের পাসপোর্ট চাইলে এরিকো তা দিতে রাজি হননি। উল্টো মেয়েদের জিম্মা পেতে জাপানের আদালতে যান তিনি। তাতে রায় যায় এরিকোর পক্ষে।

এর মধ্যেই ২০২১ সালে গোপনে ১২ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন ইমরান। ছোট মেয়ে থেকে যায় জাপানে।

কোভিড মহামারির মধ্যে ২০২২ সালের ৭ জুলাই ঢাকায় আসেন এরিকো। সন্তানদের ঠিকানা খুঁজে বের করেন। তারপর শুরু করেন আইনি লড়াই।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist