Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

অবন্তিকার আত্মহত্যা : শিক্ষার্থী আম্মান ও শিক্ষক দ্বীন ইসলাম আটক

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান।
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনার অগ্রগতি নিয়ে রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বলা হবে।

অবন্তিকা শুক্রবার রাতে কুমিল্লায় তার বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

আত্মহত্যর আগে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে তিনি সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকি আম্মানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। সেই অভিযোগের প্রতিবিধান চাইতে গিয়ে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের কাছে নিগৃহীত হওয়ার অভিযোগও তোলেন এই শিক্ষার্থী।

এই অভিযোগের বিষয়ে শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ‘সঠিক তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত এবং মন্তব্য করার অনুরোধ করেন’। তার ঠিক ঘণ্টাখানেক পরেই তাকে আটক করা হলো।

ওই বিবৃতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলাম বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা এবং তাদের জন্য কাজ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শুধুমাত্র স্ট্যাটাসের ওপর ভিত্তি করে কাউকে ভুল না ভাবার অনুরোধ রইল।

“আমাদের স্নেহের শিক্ষার্থী অবন্তিকা হয়তো দীর্ঘদিন যাবৎ কোনও মানসিক চাপে ছিল। সেটা হয়তো তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য আমি সবিনয়ে প্রস্তুত। সঠিক তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত এবং মন্তব্য করার অনুরোধ রইল।”

অবন্তিকার আত্মহত্যার খবর শুনেই শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করে এক দল শিক্ষার্থী। তারা দায়ীদের শনিবার দুপুরের মধ্যে শাস্তির দাবি জানায়।

তাদের ছয় দফা দাবি হলো- অবন্তিকার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে; দ্বীন ইসলাম ও আম্মানকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে; অভিযুক্ত দুইজনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে; ভিক্টিম ব্লেমিং যারা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে; অবন্তিকার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাদী হয়ে মামলা করতে হবে এবং নারী নিপীড়ন সেলকে আরও সক্রিয় করতে হবে।

এরপর শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবন্তিকার মৃত্যুর কারণ হিসেবে শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এছাড়া সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত এবং সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তব এর আগে ২০২২ সালে জগন্নাথের আরেক শিক্ষার্থী অংকন বিশ্বাসের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিলো। এখনও সেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি।

শনিবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংকনের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।

অবন্তিকার মৃত্যুতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে আগামী সোমবার (১৮ মার্চ) সকালে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করবেন তারা।

এরপর শনিবার রাতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী আম্মানকে আটক করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত