Beta
রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

প্রধান বিরোধী দল কারা হবে, সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর?

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ।

আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যে গত তিনটি সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছিল জাতীয় পার্টি। এবার রেকর্ড জয়ে তাদের ছাপিয়ে গেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই অবস্থায় প্রধান বিরোধী দল কে হবে?

সব অঙ্গনে এনিয়ে আলোচনার মধ্যে নতুন করে সরকার গঠন করতে যাওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে এই প্রশ্ন রাখেন সাংবাদিকরা।

জবাবে তিনি শুরুতে বলেন, “নির্বাচনের রেজাল্ট অফিসিয়ালি ঘোষণা হওয়ার পর বিরোধী দল কারা জানা যাবে।”

এরপর যোগ করেন, “বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অনেকেই জিতেছেন, ১৪ দলেরও দুজনের মতো জিতেছে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তো দূরে নয়। যিনি হাউজ অফ দ্য লিডার হবেন, তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী, নতুন লিডার অফ দ্য হাউজ পরিস্থিতি বাস্তবতা, করণীয় নিয়ে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেবেন।”

কাদের নিয়ে বিরোধী দল করা হবে- আবার এই প্রশ্ন করলে তার উত্তর আসে, “এটা নতুন সরকার বসুক। সংশ্লিষ্ট যারা আছে, তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন। বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পরদিন সোমবার তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন কাদের।

ফেনী
ভোট গণনায় ব্যস্ত ফেনীর দক্ষিণ গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

বিএনপির বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। জাতীয় পার্টি জয় পেয়েছে ১১ আসনে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি আসনে জয়ী হয়েছে।

ভোট জমিয়ে তুলতে এবার দলীয় নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। ভোটে দুই প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ধরাশায়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্নে কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জনগণের প্রতিনিধি। তারা নির্বাচিত। এরা নির্বাচিত সদস্য হিসেবেই সংসদে বসবেন, তাদের ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়া অন্য কিছু এই মুহূর্তে ভাববার অবকাশ নেই।

“২৯৯ এর মধ্যে ২২৩ একা একটা রাজনৈতিক দল জিতেছে। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী কত? অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন, আওয়ামী লীগের চেয়ে স্বতন্ত্রই জিতবে বেশি। ২২৩ জন রুলিং পার্টি থেকে জেতা, এটা তো একটা পজিটিভ বাস্তবতা।”

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংসদে এত স্বতন্ত্র প্রার্থীর নতুন নজির। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের যে কোনো দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে, এর আগে এমনটা ঘটেছেও।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলের গেজেট প্রকাশের পর নবনির্বাচিতদের শপথের মধ্য দিয়ে দ্বাদশ সংসদের যাত্রা শুরু হবে।

আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তারাই পরবর্তী সরকার গঠন করবে এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সরকার প্রধান ও সংসদ নেতার দায়িত্ব নেবেন।

সংসদে প্রধান বিরোধী দল কারা হবেন, সে বিষয়ে সংবিধানে স্পষ্ট কিছু নেই। তবে রেওয়াজ অনুযায়ী, সরকারি দলের পর যাদের আসন বেশি থাকে, তারাই প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়।

২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গঠিত নবম সংসদে জাতীয় পার্টি ৩২টি আসনে জিতেছিল, যা বিএনপির চেয়ে দুটি বেশি। এরপর জাতীয় পার্টি সরকারে যোগ দিলেও সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছিল, যাকে অদ্ভুত বলেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ছিল না। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম সংসদেও প্রধান বিরোধী দল ছিল জাতীয় পার্টি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত একাদশ সংসদেও তাদের একই ভূমিকা ছিল।

জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দলের আসনে থাকলেও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদকে নানা সময়ে তার দলকে ‘ঠিক’ রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা চাইতে দেখা গিয়েছিল।

নির্বাচনের পরদিন সোমবার ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের। ছবি: সকাল সন্ধ্যা

বিএনপি নতুন নির্বাচন দাবি করার প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিএনপি-জামায়াতের তীব্র বিরোধিতা এবং নির্বাচনবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যেও কতটা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে, সেটা আপনারা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছেন।

“যা সত্য তা সব কিছুই আপনারা জানেন। আর যা কিছু মিথ্যাচার আপনারা দেখছেন। এখনও তারা মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। জনগণের রায় কে অস্বীকার করে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার হুমকি ধমকি দিচ্ছে। আমরা যে কোনও মূল্যে সব ধরনের সহিংসতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করতে, পরাজিত করতে বদ্ধপরিকর।”

বিএনপির আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি কী বলেছে, সেটার উপর তো দেশ চলে না। বিএনপি যেটা বলেছে, সে অনুযায়ী তাদের আন্দোলন করে সরকার হটানো এটা তো তারা পারেনি করতে। এই নির্বাচনকে হতে দেওয়া যাবে না, এই কথাও তারা বলেছে।”

রবিবারের নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষণ নিয়ে ভোটে জয়ী কাদের বলেন, “এটা স্বীকৃতির জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্ব আমাদের ইলেকশনটা কেমন হয়, তা জানতে চায়?

“আমরা বলেছি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ইলেকশন পরিচালনা করবে। আমাদের এই কথার সঙ্গে কাজের মিল আছে কি না, গণতান্ত্রিক বিশ্ব সেটা প্রত্যক্ষ করুক, সেজন্য আমরা এটা করেছি।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist