Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

ছাত্রলীগ নেতার ‘ধর্ষণকাণ্ডে’ বিক্ষুব্ধ জাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসনিক ভবনের সামনে রবিবার বেলা ১১টার দিকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়, চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ প্রতিবেদন লেখার সময় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত ছিল।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল উপাচার্য নুরুল আলমের সঙ্গে দেখা করে এক ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদী হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ তিনটি দাবি পেশ করেন। তাদের অন্য দাবিগুলো হলো- তিন দিনের মধ্যে হলগুলোয় থাকা অছাত্রদের বের করতে হবে এবং ধর্ষক ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য জরুরি সিন্ডিকেট সভা করে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন।

সিন্ডিকেট সভায় আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত সাবেক শিক্ষার্থীদের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে হল না ছাড়লে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে কৌশলে এক দম্পতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে এনে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে। ওই নারী বলছেন, মোস্তাফিজুর ও তার সহযোগী মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।

এই অভিযোগে তার স্বামীর করা মামলায় রবিবার সকালে মোস্তাফিজুর রহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় পুলিশ।

গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।

প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ‘ধর্ষক ও সহযোগী, সমান অপরাধী,’ অছাত্র ধর্ষণ করে, প্রশাসন কী করে- এসব স্লোগান দেয়।

বিক্ষোভকারী বলেন, এই দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। শিক্ষার্থী কিংবা বাইরে থেকে যারা ঘুরতে আসে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব অবশ্যই প্রশাসনের। ক্যাম্পাসের ভেতরে যদি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই প্রশাসনের থাকার দরকার নাই। প্রশাসন যে অছাত্রদের এখনও হল থেকে বের করতে পারে না, সেই অছাত্ররাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, “বহিরাগত একজনের সঙ্গে মিশে আমাদের সাবেক এক শিক্ষার্থী এই অপকর্মটি করেছে। আমরা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। দুই থানার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করি। পরে জানতে পারি থানায় অভিযোগ করেছে। রাত ২টার দিকে ভিকটমসহ পুলিশ আসলে তাদেরকে আমরা সবধরনের সহযোগিতা করি।”

ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর মোস্তাফিজকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কার, সনদপত্র স্থগিত এবং ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন এলাকায় জনৈক নারীকে পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে এনে সাবেক এক শিক্ষার্থী ও বহিরাগত কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক প্রতিবেদন গ্রহণ করে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের সাময়িক বহিস্কার, সনদপত্র স্থগিত এবং তাদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি জানান, সভায় আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত সাবেক শিক্ষার্থীদের আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আবাসিক হল ছেড়ে চলে না গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় ঘটনা তদন্ত এবং অপরাধীদের শাস্তির সুপারিশ করার লক্ষ্যে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist