Beta
রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

কেজরিওয়াল গ্রেপ্তার : ফের টানাপোড়েনে দিল্লি-ওয়াশিংটন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টোকিওর কান্তেই প্রাসাদে ২৪ মে ২০২২ এর কোয়াড সম্মেলনে। ছবি: এপি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টোকিওর কান্তেই প্রাসাদে ২৪ মে ২০২২ এর কোয়াড সম্মেলনে। ছবি: এপি।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে দেশ দুটির একসঙ্গে চলা সবসমসয় নির্বিঘ্নে ঘটেনি। দেশ দুটির সম্পর্কে প্রায়ই বিভিন্ন ইস্যুতে টানাপোড়েন দেখা যায়। সর্বশেষ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তার নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। আগামী ১৯ এপ্রিল ভারতে জাতীয় নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির এই টানাপোড়েন।

গত ২২ মার্চ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি/আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। কেজরির সমর্থকদের অভিযোগ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আম আদমি পার্টিকে বিপাকে ফেলতেই তাকে অন্যায়ভাবে আটক করেছে বিজেপি। এই ঘটনায় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারসহ ভারতে বিভিন্ন বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

মিলার বলেন, “উভয় ক্ষেত্রেই আমরা একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ, সময়ানুবর্তী আইনি প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করি। আমরা মনে করি না যে, এতে কারও আপত্তি করা উচিৎ।”

এর আগে সোমবারও মিলার একই রকম মন্তব্য করেছিলেন। সেদিন মিলার বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের প্রতিবেদন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ ব্যাপারে একটি ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে।

মিলারের ওই মন্তব্যের পরদিনই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের উপ-প্রধান গ্লোরিয়া বারবেনাকে তলব করে ক্ষোভ জানানো হয়।

গ্লোরিয়াকে তলবের পরদিনই (বুধবার) মিলার বিষয়টি নিয়ে ফের মন্তব্য করেন। মিলার বলেন, “আমরা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারসহ ভারতে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি। আমরা কংগ্রেস পার্টির অভিযোগ সম্পর্কেও অবগত যে, ভারতের কর কর্তৃপক্ষ তাদের কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এমনভাবে জব্দ করেছে, যা দলটির জন্য আসন্ন নির্বাচনে কার্যকরভাবে প্রচার চালানোকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে। আমরা এই প্রতিটি সমস্যার জন্য ন্যায্য, স্বচ্ছ এবং সময়ানুবর্তী আইনি প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করি।”

এর জবাবে বৃহস্পতিবার নতুন করে একটি বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানায় নয়া দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার ওই বিবৃতিতে বলেন, “বিরোধী দলীয় নেতাদের গ্রেপ্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো অযৌক্তিক। ভারতে আইনি প্রক্রিয়াগুলো আইনের শাসন মেনেই পরিচালিত হয়। যাদের একই রকম নীতি আছে, বিশেষত যারা আমাদের মতোই গণতান্ত্রিক দেশ, তাদের এই সত্যটি উপলব্ধি করতে কোনও অসুবিধা হওয়া উচিৎ নয়।”

যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যগুলো ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের প্রশাসন ভালোভাবে নেয়নি। নয়া দিল্লির কূটনীতিকরা মন্তব্যগুলোকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। এতে দিল্লির কূটনৈতিক পাড়ায় বেশ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “ভারতের আইনি প্রক্রিয়াগুলো একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যা নৈর্ব্যক্তিক এবং সময়োপযোগী ফলাফলের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর উপর কোনও আপত্তি তুলে ধরা অযৌক্তিক।”

তিনি আরও বলেন, “কূটনীতিতে রাষ্ট্রগুলো পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে বলেই আশা করা হয়। এই দায়িত্ব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে আরও বেশি। অন্যথায় অস্বাস্থ্যকর নজির স্থাপিত হতে পারে।”

কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগে জার্মানিও উদ্বেগ জানায়। গত সপ্তাহে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা আশা করেন- ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ায় কেজরিওয়াল ন্যায্য ও নিরপেক্ষ বিচার পাবেন।

ভারত সেই মন্তব্যেরও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ক্ষোভ জানাতে একজন জার্মান কূটনীতিককে তলব করে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন বিরোধী দলীয় নেতারা বিজেপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের শীর্ষ তদন্ত সংস্থাগুলোকে বিরোধী দলগুলোকে পঙ্গু করার এবং নির্বাচনের আগে ভিন্নমতকে দমনের জন্য ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন।

কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টিও এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের কর বিভাগকে দিয়ে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে জানুয়ারিতে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টা পরে শীর্ষ বিরোধী নেতা হেমন্ত সোরেনকেও দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। সোরেন ও তার দল কোনও অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার দায় অস্বীকার করেছে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ করেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বলেছে, ভারতে শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত ও বিরোধীদের ওপর ক্র্যাকডাউন এখন সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যাই হোক, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ভারতের বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় দিল্লি। ভারতীয় কূটনীতিকরা এসবকে ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবেই আখ্যা দেয়।

বিজেপির বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও যুক্তরাষ্ট্র

গত ১১ মার্চ বিজেপি সরকারের বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) চালু করা নিয়েও মন্তব্য করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই আইনে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যেসব হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ও পার্সি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সাম্প্রদায়িক নির্যাতন ও নিপীড়নের কারণে ভারতে গেছেন তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত সরকার। তবে এই আইনে মুসলমানদের বিষয়ে কিছু বলা নেই, শুধু অমুসলিমদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আইনটি কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ওয়াশিংটন বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র সিএএর বাস্তবায়ন নিবড়িভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছিলেন, “আমরা ১১ মার্চ নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা এই আইনটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি- কীভাবে এই আইনটি কার্যকর করা হয় তার ওপর আমাদের নজর থাকবে। ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সকল সম্প্রদায়ের জন্য আইনের অধীনে সমান আচরণ মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি।”

এর জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “সিএএ বাস্তবায়নের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি এবং দেশটির আরও কয়েকজন যে মন্তব্য করেছেন সেসব যথাযথ নয় ও ভুল তথ্যভিত্তিক এবং অযৌক্তিক। ভারতের সংবিধান তার সকল নাগরিকের ধর্মের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়।”

যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য এবং দেশভাগ-পরবর্তী ইতিহাস বোঝে না বলেও মন্তব্য করেন রণধীর জয়সওয়াল।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমতার নীতি গণতন্ত্রের ভিত্তি উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটিও আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ইতিহাস বোঝে কিনা বলে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, তাদের কথা শুনে মনে হয় যেন ভারতে দেশ-ভাগ কখনোই ঘটেনি।

মণিপুর সংঘাত

গত বছর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে সহিংস সংঘর্ষের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ জানিয়েছিল। রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি বলেছিলেন, মণিপুরের সহিংসতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক উদ্বেগ রয়েছে এবং সহায়তা চাইলে তারা তা দিতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম আছে। তবে সঙ্গে সঙ্গেই মণিপুরের পরিস্থিতি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিবরণ সম্পর্কে অবগত নন।

বাগচি বলেছিলেন, “আমি মনে করি আমরাও সেখানে শান্তি দেখতে চাই এবং শান্তির জন্য আমাদের বিভিন্ন সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় সরকার কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেছিলেন “বিদেশী কূটনীতিকরা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন কিনা সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।”

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশেষকরে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘনে’ জড়িত থাকা এবং চলতে দেওয়ার কারণে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতকেও ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন পাস এবং প্রণয়ন করার পর থেকে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে এগিয়ে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ‘আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা ২০১৮’ প্রতিবেদনে অভিযোগ করে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গরু জবাই রোধে হামলার অপরাধীদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে। গরু রক্ষাকারীরা হত্যা, গণ সহিংসতা এবং নিপীড়নের মতো অপরাধ ঘটিয়েও পার পেয়ে গেছে।

সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেছিলেন, ভারতে সব ধর্মের নাগরিকদের অধিকার সাংবিধানিকভাবেই সুরক্ষিত। সংবিধান ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে বিদেশি কোনও সত্তা বা সরকারের এ সংক্রান্ত কোনও অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

অন্যান্য ইস্যু

এসব ছাড়াও ভারতের আরও কিছু অভ্যন্তরীণ ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্র ‘হস্তক্ষেপ’ করেছে বলে দেশটির ক্ষমতাসীনদের অভিযোগ রয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার সময়ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন আইন প্রণেতা সমালোচনা করেছিলেন। ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টির দুজন করে চারজন মার্কিন সিনেটর এই বিষয়ে একটি মূল্যায়নের আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নারী কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরও বারবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ’ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে দেশটির। তিনি তার ভারত-বিরোধী মন্তব্যের জন্য দেশটির চোখে কুখ্যাতি অর্জন করেছেন এবং একাধিক অনুষ্ঠানে নয়া দিল্লিকে ক্ষুব্ধ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্ক-ট্যাঙ্কগুলোরও ভারত সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করার বেশ কয়েকটি ঘটনা রয়েছে। আর প্রতিবারই নয়া দিল্লি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জবাব দিয়েছে।

তবে এতোসব টানাপোড়েন সত্ত্বেও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যে বিষয়টি সবচেয়ে ভালভাবে চিত্রিত হয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দিন দিন আরও ভালো হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পৃক্ততা বাড়ছে, বোঝাপড়া গভীর হচ্ছে এবং আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে এখন বন্ধুত্বেও অন্তরঙ্গতা অনেক বেশি।”

তথ্যসূত্র: ফার্স্ট পোস্ট, বিবিসি, এনডিটিভি, ওয়ান ইন্ডিয়া, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist