Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

কিডনি ৮০ শতাংশ নষ্ট হওয়ার পর উপসর্গ দেখা দেয়

ss-kidney-09-03-24 2

দেশে কোনও না কোনও কিডনি রোগে ভুগছে এমন মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৩ কোটি ৮০ লাখ। তার মধ্যে বিকল ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের কিডনি। কিন্তু শুরুর দিকে এ রোগের কোনও উপসর্গই থাকে না। লক্ষণ দেখা দেয় কিডনি ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য উঠে আসে। ‘সবার জন্য কিডনি স্বাস্থ্য – কিডনি চিকিৎসায় সমঅধিকার : অর্জনে করণীয়’ শীর্ষক এই বৈঠকের আয়োজন করে বেসরকারি সংগঠন কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)।

অথচ এ রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সঠিক তথ্য পায় না মানুষ, তাদের কাছে বার্তা পৌঁছায় না। তাই গ্রাম পর্যায়ে রোগ শনাক্তের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অনুষ্ঠানে কিডনি রোগীদের জন্য বিমা চালু করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়।

বৈঠকে জাতীয় অধ্যাপক ও ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, “বহু বছর ধরেই কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে, প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু মানুষ তা শুনছে না।

“কারণ, তাদের কাছে ঠিকভাবে তা বলা হচ্ছে না। কীভাবে বললে মানুষ শুনবে, গ্রহণ করবে, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, “কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে সমস্যা। সুতরাং এ রোগ যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।”

কিডনি রোগের কারণ হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন একটি গবেষণা প্রবন্ধের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “দেশে কোনও না কোনও কিডনি রোগে ভুগছে, এমন মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৮০ লাখ। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল।”

কিডনি রোগে আক্রান্ত এক নারীও উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। ২০০০ সাল থেকে কিডনি রোগে ভুগছেন তিনি। ওই নারী জানান, কিডনি প্রতিস্থাপন করে কয়েকবছর ভালো ছিলেন। সে সময় বিয়ে করেন, জন্ম দেন সন্তান। এরপর আবার তার কিডনি খারাপ হয়। বর্তমানে তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে।

চিকিৎসার খরচ যোগাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন জানিয়ে তিনিও সরকারের কাছে তার মতো কিডনি রোগীদের জন্য বিমা চালু করার কথা বলেন।

কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি হারুন-উর-রশিদ বলেন, “বয়স ৪০ হলেই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ, শুরুর দিকে কিডনি রোগের কোনও উপসর্গ থাকে না। ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর উপসর্গ দেখা দেয়।”

চিকিৎসকদের গাইডলাইন মেনে এ রোগের চিকিৎসা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য তার।

সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের কিডনি রোগের ঝুঁকি বেশি উল্লেখ করে শিশু কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন জানান, দেশে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় সময়ের আগে। ঝুঁকি এড়াতে এদের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারিসুল হক। তিনি বলেন, “কিডনি রোগীদের জন্য আলাদা বিমাব্যবস্থা চালু হলে অনেক রোগী চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist