Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

গড় আয়ু অপরিবর্তিত, বেড়েছে মৃত্যু

ss-Bangladesh-Sample-Vital-Statistics-240324
Picture of বিশেষ প্রতিনিধি, সকাল সন্ধ্যা

বিশেষ প্রতিনিধি, সকাল সন্ধ্যা

মৃত্যু হার বেড়ে যাওয়ায় দেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বাড়েনি। ২০২৩ সালে গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর ৩ মাস। এটি ২০২২ সালে ছিল ৭২ বছর ৪ মাস।

তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এটিকে কমে যাওয়া না বলে অপরিবর্তিত বলছে। কারণ হিসেবে বিবিএস বলছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, গড় আয়ু এক মাস কমলে সেটাকে হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না।

অন্যদিকে স্থূল মৃত্যু হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি এক হাজার জনে ৬ দশমিক ১ জন। ২০২২ সালে ছিল ৫ দশমিক ৮ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা যায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ (হার্ট অ্যাটাক) হয়ে।

প্রত্যাশিত গড় আয়ু হচ্ছে আজ যে শিশু জন্মেছে, সে ওই সময় পর্যন্ত গড় আয়ু পাবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস অডিটরিয়ামে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব শাহনাজ আরেফিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক আলমগীর হোসেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা ২০২২ সালে ছিল ১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এক্ষেত্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব এক হাজার ১৭১ জন। এছাড়া প্রতি হাজার জনসংখ্যার স্থূল জন্মহার ১৯ দশমিক ৪, যা ২০২২ সালে ছিল ১৯ দশমিক ৮। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবের হার ২০২২ সালের (৪১ দশমিক ৪ শতাংশ) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালে হয়েছে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৩৩ জন, যা ২০২২ সালের হিসাবে ছিল ৩১ জন। এক্ষেত্রে মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার বেড়েছে। এছাড়া প্রতি লাখ জীবিত জন্ম শিশুর বিপরীতে মাতৃমৃত্যুর অনুপাত ১৩৬ জন, যা ২০২২ সালে ছিল ১৫৩ জন।

মৃত্যুর শীর্ষ দশ কারণের প্রথম কারণ হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হার এক দশমিক শূ ২ শতাংশ এবং দ্বিতীয় কারণ মস্তিস্কে রক্ত  ক্ষরণে মৃত্যুর হার শূণ্য দশমিক ৬৪ শতাংশ। এছাড়া শাসতন্ত্রের রোগে মারা যায় শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুরুষদের প্রথম বিবাহের গড় বয়স ২৪ দশমিক ২ বছর এবং নারীদের ১৮ দশমিক ৪ বছর। প্রতি হাজার জনসংখ্যায় অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পল্লিতে আগমনের হার ২০ দশমিক ৪  এবং শহরে আগমনের হার ৪৩ দশমিক ৪।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিগমন প্রতি হাজারে ৬ দশমিক ৬১ জন থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৭৮ জন। আন্তর্জাতিক আগমন বা বহিরাগমন প্রতি হাজারে ২ দশমিক ৯৭ থেকে কমে হয়েছে ২ দশমিক ৩৭ জন।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২২ সালের (৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ) তুলনায় কিছুটা কমে ২০২৩ সালে হয়েছে ১৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সিজার করে সন্তান জন্ম দেওয়ার হার বেড়েছে। ২০২৩ সালের হিসেবে এটি হয়েছে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ, যা তার আগের বছর ছিল ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ।

২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে বাল্য বিবাহ বেড়েছে। ২০২৩ সালে এ হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা তার আগের বছর ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার কমেছে। জাতীয়ভাবে এ হার হয়েছে হয়েছে ৬২ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

খানার (পরিবার) আকার ২০২২ সালের মতো ২০২৩ সালেও অপরিবর্তিত রয়েছে, যা ৪ দশমিক ২ জন। তবে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে নারী খানা প্রধানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে এটি ছিল ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

অপরদিকে পুরুষ খানা প্রধান ২০২২ সালে ছিল ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে এ হার কমে হয়েছে ৮১ দশমিক এক শতাংশ।

২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৫৩ শতাংশে। সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনসংখ্যার স্বাক্ষরতার হার ২০২৩ সালে হয়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে এ হার ২০২২ সালের (৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ) তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষা, কর্মে বা প্রশিক্ষণে নেই এমন তরুণদের সংখ্যা ২০২২ সালের (৪০ দশমিক ৬৭ শতাংশ) তুলনায় কমে ২০২৩ সালে ৩৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ হয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি বয়সী মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী জনসংখ্যার হার ২০২৩ সালে হয়েছে ৫৯ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের  ক্ষেত্রে এ হার ২০২২ সালের (৭৩ দশমিক ৮) তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৩ সালে ১৫ বছরের বেশি বয়সী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৫০ দশমিক এক শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের তালাকের সংখ্যা কমেছে। ২০১৮ সালে তালাকের সংখ্যা ছিল প্রতি হাজারে ১৮ দশমিক এক জন, যা ২০২৩ সালে কমে হয়েছে ১৫ দশমিক ৭ জন।

জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী ১৭ কোটি ১০ লাখ। এটি ২০২২ সালে ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১১ লাখ ১৭ হাজার। এরমধ্যে পুরুষের সংখ্যা বর্তমানে ৮ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার, যা ২০২২ সালে ছিল ৮ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার। নারীর সংখ্যা বর্তমানে ৮ কোটি ৭০ লাখ ৯০ হাজার, যা ২০২২ সালে ছিল ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার।

জনশুমারি অনুযায়ী মুসলমানের হার ২০২২ সালে ছিল ৮৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা বর্তমানে হয়েছে ৮৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। হিন্দুর সংখ্যা ২০২২ সালে ছিল ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা বর্তমানে হয়েছে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বৌদ্ধর সংখ্যা ২০২২ সালে ছিল ১ দশমিক ১১ শতাশংশ, যা বর্তমানে এক দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। খ্রিস্টানের সংখ্যা ২০২২ সালে ছিল শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ, যা বর্তমানে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, “এই তথ্য কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকলে মিলে সুখি সমৃদ্ধি দেশ গড়ে তুলব আমরা।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত