Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

এলএনজি : বিপদ কাটছেই না, সরবরাহ নামল ২২০ মিলিয়ন ঘনফুটে

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল।
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল।
Picture of বিশেষ প্রতিনিধি, সকাল সন্ধ্যা

বিশেষ প্রতিনিধি, সকাল সন্ধ্যা

জাহাজে করে আনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিপদ কাটছেই না। টার্মিনালের দুর্ঘটনার পর এবার পাইপলাইনে ত্রুটির কারণে সরবরাহ আরও কমেছে।  

গত মে মাসে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এলএনজি সরবরাহ। নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল হতে থাকলে দুর্ঘটনা রোধে কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে ভাসমান দুই এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল পেট্রোবাংলা।  

ঘুর্ণিঝড় রেমালের পর একটি পল্টুনের আঘাতে দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এরপর সেটি মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুরে গেলে জুনের শুরু থেকেই এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা কমে নামে অর্ধেকে। ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হতো। এখন পাইপলাইনে ত্রুটির কারণে সরবরাহ আরও কমে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামল।

মহেশখালী থেকে এলএনজি সরবরাহকারী দুটি পাইপলাইনের একটি দুর্ঘটনার কারণে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাত থেকে বন্ধ আছে। এতে বুধবার (১০ জুলাই) সকাল থেকেই এলএনজি সরবরাহ কমেছে।

মঙ্গলবারও পাইপলাইন দুটি চালু থাকায় মোট ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছিল। চট্টগ্রামের আনোয়ারা প্রান্তে চীনা ইকোনোমিক জোনের জেটি নির্মাণের সয়েল টেস্ট করার সময় মাটির নিচে থাকা পাইপলাইনটি ফুটো হয়ে যায়।

এই পরিস্থিতিতে বুধবার সকাল থেকেই আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাটমুখী ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) কর্তৃপক্ষ।

আনোয়ারা থেকে চট্টগ্রাম শহরে পৃথক একটি পাইপলাইন আছে; যেটি দিয়ে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। সেই পাইপলাইন চালু থাকায় সেটি দিয়েই এখন কেবল ২২০-২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাটমুখী পাইপলাইনটি ফৌজদারজাট থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেওয়া হয়; যার গ্রাহক হচ্ছে বাখরাবাদ গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেড ও তিতাস গ্যাস সরবরাহ লিমিটেড। ফলে সেই দুই এলাকায় বুধবার সকাল থেকে এলএনজি পাচ্ছে না গ্রাহকরা। কিন্তু সেই দুই কর্তৃপক্ষের অধীন গ্রাহকদের দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলনকৃত গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এরপরও অনেক এলাকায় গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে।

কিন্তু চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অধীন গ্রাহকরা যেহেতু পুরোটাই এলএনজি নির্ভর, ফলে সেই এলাকা এখনও সংকটে পড়েনি।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী আমিনুর রহমান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “একটি পাইপলাইন বন্ধ হলে চট্টগ্রামের দেওয়া পাইপলাইনটি চালু থাকায় আমরা এখনও সংকটে পড়িনি। আমরা এখন ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি; যার পুরোটাই এলএনজি। তবে ফৌজদারহাট এলাকায় যেহেতু আরেকটি পাইপলাইন আছে, সেজন্য সেই এলাকায় সরবরাহ সংকট হতে পারে। বুধবার রাত নাগাদ সেটি জানা যাবে।”

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দুটি পাইপলাইন দিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হয়। দুটি পাইপলাইন মহেশখালী-চকরিয়া-পেকুয়া-বাঁশখালী-আনোয়ারা এলাকার মাটির নিচ দিয়ে গেছে। আনোয়ারা থেকে একটি পাইপলাইন সাগরের নিচ দিয়ে ফৌজদারহাট পর্যন্ত গেছে। আরেকটি পাইপলাইন নদীর নিচ দিয়ে গেছে চট্টগ্রাম শহরে। এখন সেই একটি পাইপলাইন চালু থাকায় সরবরাহ কমে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামল।

গ্যাস সরবরাহ এমন সময়ে কমানো হলো যখন দিনে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতার বিপরীতে প্রায় একমাস ধরেই দেওয়া হচ্ছিল মাত্র ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এলএনজি সরবরাহে নিয়োজিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে সিঙ্গাপুরে যাওয়ায় এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামে।

চাহিদার বিপরীতে এলএনজি না পেয়ে গ্যাস সরবরাহ সংকটে ভুগছে দেশের গ্যাসনির্ভর শিল্প কারখানাগুলো। গ্যাস না পেয়ে উৎপাদন কমিয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো। ফলে গ্যাস সংকটের প্রভাবে দেশে লোডশেডিংও বেড়েছে।

দুর্ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকেই পেট্রোবাংলা, গ্যাস সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ জিটিসিএল, এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। ত্রুটি সারানোর কাজ করছেন।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “একটি পাইপলাইনে চালু থাকায় সরবরাহ কমানো হয়েছে। ত্রুটি সারিয়ে মেরামত শেষ করে চালু করতে ২/৩ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত দিনে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ করা হতে পারে।”

পাইপলাইনে দুর্ঘটনার কারণে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হতে পারে জানিয়ে গ্রাহকদের মঙ্গলবারই বার্তা দিয়েছে পেট্রোবাংলা। কিন্তু সেই সমস্যা কতদিন থাকবে তার বিস্তারিত তথ্য দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে জানতে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের চট্টগ্রামের কর্মকর্তা শফিউদ্দিন মো. ফরহাদ মরকে ফোন দিলে তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কথা বলেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর তিতাস কিংবা বাখরাবাদ এলাকার গ্রাহকরা চাহিদার বিপরীতে কতটা গ্যাস পাচ্ছেন, তাও জানা সম্ভব হয়নি।

পেট্রোবাংলার দৈনিক প্রতিবেদনে ৯ জুলাই পর্যন্ত দেওয়া হিসাব থেকে জানা যায়, ৩ হাজার ৮২৯ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬০৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি ছিল ৬০৯ মিলিয়ন ঘনফুট, বাকিটা দেশি গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদিত। এর মধ্যে তিতাস ১৩৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট, বাখরাবাদ ৩০৫ মিলিয়ন ঘনফুট, কর্ণফুলী ২৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট, জালালাবাদ ‌৩৬০ মিলিয়ন ঘনফুট, পশ্চিমাঞ্চল ১২৮ মিলিয়ন ঘনফুট ও সুন্দরবন গ্যাস ১১৯ মিলিয়ন ঘনফুট পেয়েছে।

১০ জুলাইয়ের প্রতিবেদন পেলে কত গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে, সেটি জানা যেত।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত