Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

জিআই : টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে হতাশার মধ্যে আলোচনায় লুঙ্গি

লুঙ্গি পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালে তারা আয়োজন করেছিল ‘লুঙ্গি মহফেল’।

ভারত টাঙ্গাইলের শাড়িকে ভৌগলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন-জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে সরব সোশাল মিডিয়া।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এই শাড়ির স্বত্ব বাংলাদেশই পাবে এ বিষয়ে আশাবাদী শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্কের (ডিপিডিটি) কর্মকর্তারা। ফলে শাড়ির জিআই নিয়ে দুর্ভাবনা সাময়িকভাবে দূর হলেও লুঙ্গির জিআই বেহাত হওয়ার আলোচনা এখন চলছে সোশাল মিডিয়ায়।

সোশাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের অনেকেই তাদের নিজেদের টাইমলাইনে নিজস্ব চিন্তাভাবনার কথা তুলে ধরছেন।

শ্রেয়াস মজুমদার সাগর নামের একটি ফেইসবুক একাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি। তাতে লেখা হয়- “ভাই,নকশীকাঁথার স্বত্ব পর্যন্ত ইন্ডিয়া নিয়ে নিছে। আজ শাড়ি নিছে, কাল লুঙ্গি ধরে টান দিলে বুঝবা।”

নিজাল খান নামের একটি ফেইসবুক একাউন্ট থেকে সোমবার দেওয়া পোস্টে বলা হয়, “শাড়ি নিয়ে গেছে ইন্ডিয়া। লুঙ্গিটাও বার্মার (বর্তমান নাম মিয়ানমার)। আমাগো ভরসা বোরকা-হিজাব। ওটাই আমাদের ডেসটিনি। ওটাই আমাদের আসল জিআই। আমরা এইবার ম্যালা খুশি ….”

সানজিদা আফরোজ নামে একজন ফেইসবুকে লিখেছেন, “বাংলাদেশের টাঙ্গাইল শাড়ি ভারতের বলে জিআই স্বীকৃতি পেল। এর আগে নকশীকাঁথা নিয়ে গেছে, এখন শুনছি লুঙ্গি নিয়ে টানছে। কোন দিন বাংলাদেশ ধরে টান দেয়।”

এমন আরও বেশ কিছু পাবলিক পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায় ফেইসবুকে।

তবে মিয়ানমারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে লুঙ্গির জিআইয়ের আবেদন পড়েছে বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাছাড়া এখন পর্যন্ত ওই দেশে কী কী পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, তাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভারতেও এখন পর্যন্ত লুঙ্গির জিআই নিবন্ধনের কোনো আবেদনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

জিআই পণ্য হতে হলে যে শর্তগুলো থাকে তার মধ্যে একটি শর্ত হলো একটি নির্দিষ্ট এলাকার পণ্য হতে হবে। সেই হিসেবে লুঙ্গির জিআই বাংলাদেশ পাবে কি না, তা নির্ভর করছে এই পণ্যটির উৎস কোথায়।

নানা তথ্যে দেখা যায়, বাংলা ভাষায় আসা লুঙ্গি শব্দটি মূলত বর্মি শব্দ। তবে মিয়ানমারে লুঙ্গিকে লোঙ্গাই বলা হয়। এই লুঙ্গি বা লোঙ্গাই মিয়ানমারের জাতীয় পোশাক হিসেবে স্বীকৃত। সেখানে নারী ও পুরুষ উভয়েই লুঙ্গি পরে থাকে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকার কিছু দেশে লুঙ্গি পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত।

লুঙ্গির মতোই আরেকটি পরিধেয় বস্ত্র ধুতি। ভারতে এর প্রচলন বেশি। তবে দক্ষিণ ভারতে সাদা থানের লুঙ্গিও বহুল ব্যবহৃত। ভারতে লুঙ্গির জিআই নিয়ে কোনো কাজ চোখে পড়ে না। তবে দুই ধরনের ধুতির জিআই ট্যাগ দিয়েছে দেশটির জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন । একটি হলো চেন্দামাঙ্গালাম ধুতি এবং আরেকটি হলো কুঠামপল্লি ধুতি ।

ভারতের চলচ্চিত্রে লুঙ্গি নিয়ে গান জনপ্রিয় হওয়ায় এর সঙ্গেও জিআইকে মেলানোর প্রবণতা দেখা যায় ইন্টারনেটে।

চেন্নাই এক্সপ্রেস সিনেমায় শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোনের লুঙ্গি ড্যান্স গান ছিল আলোচিত।

মোহাম্মদ জাকারিয়া নামের একটি একাউন্ট থেকে সোমবার একটি পোস্টে বলা হয়, “টাঙ্গাইলের শাড়ির জিআই পেটেন্ট নিজেদের বলে দাবি করেছে ভারত। লুঙ্গিরটা তো আগেই নিয়েছে ‘লুঙ্গি ডান্স লুঙ্গি ডান্স’ গানের মাধ্যমে।”

যেসব পণ্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা অঞ্চলকেন্দ্রিক হয়ে থাকে, একই সঙ্গে আঞ্চলিকভাবে খ্যাতি রয়েছে, ৫০ বছরের বেশি সময়ের ঐতিহ্য রয়েছে, এসব পণ্য জিআই সনদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

তবে শর্ত রয়েছে, এসব পণ্যের গুণাগুণের প্রমাণ বিভিন্ন দালিলিক নথি, প্রাচীন সাহিত্য ও বিভিন্ন প্রকাশনায় থাকতে হয়। একই সঙ্গে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে।

জিআই সনদ নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, আন্তর্জাতিক মহলে পণ্যের ব্র্যান্ডিং। জিআই নিবন্ধন থাকলে ক্রেতারা সহজেই বিশ্বাস করেন, এটা আসল পণ্য। কোনো পণ্য জিআই পণ্যের সনদ পেলে তারা নিশ্চিত থাকতে পারে ওই পণ্যটা প্রকৃত গুণাগুণ সম্পন্ন।

তিন শ্রেণির পণ্যকে জিআই মর্যাদা দেওয়া হয়- কৃষি, হস্তশিল্প ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পণ্য।

বাংলাদেশের ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্কের (ডিপিডিটি) পরিচালক আলেয়া খাতুন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমাদের কাছে কোনো পণ্যের জিআই ট্যাগের জন্য আবেদন করা হলে আমরা তা যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন দিয়ে থাকি। আবেদন না আসলে আমরা কিছুই করতে পারি না। আমরা কেবল নিবন্ধন দেওয়ার অথরিটি।”

তিনি আরও বলেন, কোনো পণ্য জিআই ট্যাগ পাওয়ার যোগ্য হলে তা জেলা প্রসাশক বা কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোনো অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পুরণ করতে পারলেই কেবল জিআই নিবন্ধন দিয়ে থাকি আমরা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist