Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

খবর প্রকাশকারীদের ওপর হাফিজের ক্ষোভ

সাকিব আল হাসানের বিএনএমের ফরম পূরণ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে দেওয়ার এই ছবি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
সাকিব আল হাসানের বিএনএমের ফরম পূরণ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে দেওয়ার এই ছবি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ‘কিংস পার্টি’ নামে পরিচিত পাওয়া ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) সঙ্গে নিজের এবং ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের সম্পৃক্ততা নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার বনানীর নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান তিনি। ওই খবরে মর্মাহত হয়েছেন জানিয়ে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেছেন, বিএনএম ও ‘সরকারের কিছু লোক’ তাকে দলটিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি রাজি হননি। তিনি বিএনএমে যোগ না দেওয়ায় সাকিবও তার পথ বেছে নেন।

সংবাদ সম্মেলনে তাকে ‘একা থাকতে দেওয়ার’ অনুরোধও জানান বিএনপির রাজনীতিতে ৩২ বছর ধরে যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, যার বিরুদ্ধে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় দল ভাঙার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল।

সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনএম গঠন করতে পেছন থেকে কাজ করেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাকিব আল হাসান সেই দলে যোগ দিয়েছিলেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সাকিবের একটি ছবিও প্রকাশিত হয় প্রতিবেদনে।

এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে নিজ বাসায় এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিষয়টি নিয়ে সাকিব আল হাসানের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিন বলেন, “এতোদিন পরে দুইটি পত্রিকা সাকিব আল হাসানকে জড়িয়ে আমার সম্পর্কে যে মিথ্যা প্রচার করেছে, এতে আমি মর্মাহত হয়েছি। আমি আগেও বলেছি, কেন আমি বিএনএমে যোগদান করি নাই, কেন আমি বিএনপি ছাড়ি নাই।

“এতোদিন পর আবার এই সংবাদ। এটা তো গোপন কোনও কিছু না। আমাকে অ্যাপ্রচ করেছেন তারা (বিএনএম ও সরকারের কিছু লোক)। আমি প্রস্তাব গ্রহণ করি নাই, বিএনপিতে রয়েছি।”

এ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “সাকিব আল হাসান দেশের গৌরব, বিশ্বের সেরা অল রাউন্ডার। কোনওদিন রাজনীতি করে নাই। তিনি রাজনীতি করতেই পারেন। সাবেক ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমার কাছে এসেছিলেন, আমি তাকে কোনও উৎসাহ দেইনি। আমি যোগদান না করায় তিনিও তার পথ বেছে নিয়েছেন।

“যেখান থেকে সহজে জেতা যাবে, সেই নির্বাচনে কোনও প্রতিপক্ষ থাকবে না, সম্পূর্ণ পাতানো এই নির্বাচনে তিনি এমপি হয়েছেন, এটি তার বিষয়। এ নিয়ে যে কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এটা সঠিক নয়।”

বিএনএম সৃষ্টির পেছনে কোনও ভূমিকা ছিল না দাবি করে মেজর হাফিজ বলেন, “আমার ধারণা, সরকারের বিভিন্ন অপকর্ম লুকিয়ে রেখে জনগণের দৃষ্টি অন্যত্র নিবদ্ধ করার জন্যই আমার বিরুদ্ধে এই বিএনএম সৃষ্টির কাল্পনিক কাহিনির অবতারণা তারা করেছে।

“আমি বলতে চাই, আমি নির্বাচন কমিশনে কাউকে পাঠাইনি, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কিংবা তদবির করার জন্য কাউকে কখনও পাঠাই নাই।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, “এই বিএনএম সৃষ্টি করেছে কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, যারা যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছে এবং আমার বাসায় এসেছে কয়েকবার। আমার বাসায় ওই দলটির কোনও সভাও হয়নি। এসব সব মিথ্যাচার।

“আমি তাদের বলেছি, সাধারণ মানুষ ছাড়া রাজনীতিতে টিকে থাকার সুযোগ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে যারা যোগাযোগ করেছে, তারা ধরে নিয়েছিল আমি বিএনপি ত্যাগ করতে উদগ্রীব।”

প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আরও বলেন, “বিএনএমে আমি যোগ দেইনি। তাদের অফিসও আমি চিনি না। কেন দুইটি পত্রিকা আমার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে? আমি নির্বাচনের দুই মাস আগেই বলেছি, আমি বিএনপি ছাড়ব না, কোনও পাতানো নির্বাচনে যাব না।

“নির্বাচনের এক মাস আগে চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলাম। এমনভাবে পত্রিকাগুলো সংবাদ প্রচার করেছে যে তারা বিরাট একটা রহস্যের ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। জাতীয়তাবাদের পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সার্ভিস দিতে চাই।”

নিজে খেলোয়াড় ছিলেন, তাই ক্রীড়াবিদদের প্রতি দুর্বলতা আছে জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত দুজন সামরিক কর্মকর্তা বিএনএম গঠন করে, সাকিব আল হাসানকে আমার কাছে নিয়ে আসে। নির্বাচনের ৪-৫ মাস আগে আমার কাছ থেকে উৎসাহ না পেয়ে সাকিব চলে যায়।

“এখানে গোপন কিছু নাই। আমি সব সময় বলে এসেছি- মাই লাইফ ইজ এ ওপেন বুক। লজ্জিত হওয়ার কোনও কাজ করি না, গোপন কোনও কাজ করি না। রাজনীতি করি, নির্বাচনে দাঁড়াই। জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে- এটাই আমার রাজনৈতিক জীবন।”

শারীরিক কারণে রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন দাবি করে ৭৯ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন বলেন, “যখনই এই গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে মেজর হাফিজ দল ত্যাগ করতে পারেন। এটি বিএনপির অভ্যন্তরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কয়েকজন এমপি আমার সাথে যোগাযোগ করেছে তারা নতুনভাবে রাজনীতি করতে চান… আমি তাদের নিরস্ত করেছি।”

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভারতে অবস্থারত সালাহউদ্দিন আহমেদ ওই সময়ে তার সাথে যোগাযোগ করে ‘প্রকৃত বিষয়’ জানতে চাইলে তাদেরকেও বিষয়টি ‘পরিষ্কার’ করেন বলে জানান হাফিজ।

‘আমি বলেছি, এগুলো সরকারি প্রোপাগান্ডা… আমি বিএনপি ছেড়ে কোথাও যাব না। এই বয়সে তো আমার কোনও রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস নাই। দুই বার মন্ত্রী হয়েছি। আর কত? ছয় বার এমপি হয়েছি জনগণের ভোটে, গুড এনাফ। আমার তো নতুন দলে যোগদানের দরকার নাই, আমার কিংস পার্টি খোঁজার দরকার নাই।”

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘ক্রীড়াঙ্গনে একসময় আমি ভালো ক্রীড়াবিদ ছিলাম, নামকরা ক্রীড়াবিদ ছিলাম, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ছিলাম, একমাত্র বাঙালি ছিলাম পাকিস্তানের জাতীয় দলে। ক্রীড়াবিদদের প্রতি দুর্বলতা আছে।

“সাকিব আল হাসানের মতো নন্দিত ক্রীড়াবিদ, তার দোষক্রটি থাকতে পারে। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ইনকমপেয়ারেবল ইন বাংলাদেশ। রাজনীতি করুক, যাই করুক… এদেরকে হতাশ করে, তারা খেলাধুলা ছেড়ে দিক- এই ধরনের পরিস্থিতিতে এসব জায়গায় ডোন্ট পুশ দেম টু দ্যাট এক্সটেন্ড।”

‘এসব মতলবি নিউজ বিব্রত করে’

ছয় মাস আগের ঘটনা নিয়ে এখন প্রতিবেদন করার কী উদ্দেশ্য- সে প্রশ্নও সংবাদ সম্মেলনে রাখেন বিএনপির প্রবীণ এই নেতা।

বিএনএমে যোগদান নিয়ে সাকিব আল হাসানের এই ছবিও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

তিনি বলেন, ‘ছয় মাস আগের পুরনো কথা কী উদ্দেশ্যে এখন নিয়ে এসেছেন এবং সাকিব আল হাসানের মতো নন্দিত ক্রীড়াবিদ এবং আমার মতো একজন বয়স্ক রাজনীতিবিদ, যার দুর্নীতির কোনও ইতিহাস নাই, ঢাকা শহরে কোনও বাড়ি নাই, পিতার দেওয়া বাড়িতে থাকি। আমার বিরুদ্ধে দুদকের কোনও মামলাও নাই।

“সাকিব আল হাসান দল করবেন, রাজনীতি করবেন- এটা তার বিষয়। সেটি তিনিই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার সঙ্গে আমাকে যুক্ত করার কোনও প্রয়োজন নাই।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমার সর্বশেষ কাজটা আপনারা দেখেন। কী করেছি, কী অপরাধ করেছি আমি? আমি কি বিএনএমে যোগ দিয়েছি, দল ভেঙেছি?

“আমি তো দেশেই ছিলাম না। দুই মাস আগে আমার উদ্দেশ্য, আমার পরিকল্পনা- জনসমক্ষে প্রকাশ করে গিয়েছি। তারপরে এসব মতলবি নিউজ আমাকে বিব্রত করে, দেশের তরুণ সমাজকে বিব্রত করে।”

‘৩২ বছর বিএনপি করি, কেন ছাড়ব’

৩২ বছর পর বিএনপি কেন ছাড়বেন সে প্রশ্ন রেখে দলটির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “৩২ বছর দল করার পর দল ছাড়া কি এতো সোজা নাকি? কেন ছাড়ব? একটা অজানা অচেনা দলে যাব? আপনারা অনেক রাজনীতিবিদের ইন্টারভিউ নেন। আমি দুই নম্বরি লোক না, দুই নম্বরি কথাও বলি নাই।”

“আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনও দুর্নীতিতে কখনও জড়াইনি।”

বিএনপি ও দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার সম্পর্ক কখনও ‘অসৌজন্যমূলক কথা’ বলেননি বলেও দাবি করেন মেজর হাফিজ। জানান, প্রয়োজন মনে হলে পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “যেহেতু আমার দলে কাউন্সিল হয় না, সেজন্য মাঝে-মাঝে পরামর্শ দিয়েছি… পত্রিকায় সেগুলো উঠেছে। কিন্তু তার মানে এই না যে, আমার দল সম্পর্কে, আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে কোনও অসৌজন্যমূলক কথা বলেছি।”

‘প্লিজ লিভ মি অ্যালোন’

গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে হাফিজ উদ্দিন বলেন, যেসব ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের মনোযোগ দেওয়া উচিত, যা জাতীয় জীবনকে প্রভাবিত করে সেসব সংবাদের প্রতি তারা মনোযোগ দিলে দেশবাসী রক্ষা পাবে, দেশও রক্ষা পাবে।

“আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মাথা উঁচু করে সারাজীবন চলেছি। এখন শেষ বয়সে মর্যাদার সাথে বসবাস করতে চাই। জাতীয়তাবাদের একজন পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে জাতীয়তাবাদী দলকে সার্ভিস দিতে চাই এবং সমাজে মর্যাদার সাথে বসবাস করতে চাই।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

তিনি বলেন, “আমি আশা করব, আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের বিরূপ প্রচারণা করবেন না… প্লিজ লিভ মি অ্যালোন। আমি কোনও বিরাট রাজনীতিবিদ না। নির্বাচন দিলে এলাকায় গিয়ে ভোটে দাঁড়াই।

“আপনারা কেউ আমার এলাকা ভোলার লালমোহন ও তজুমদ্দিন ভিজিট করে দেখতে পারেন। সেখানে জনগণ এসব ভুয়া মিথ্যা প্রচারণায় কান দেয় না। তবে আমার দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।”

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিএনপি শোকজ করেছিল হাফিজ উদ্দিনকে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিসে বলা হয়, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে দলকে বিভক্ত করে মহাসচিব হওয়া, বিভিন্ন সময়ে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সেটা করতে অপরাগতা প্রকাশ করা, বিশেষ করে কৃষক দলের মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তা করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে দলের সিনিয়র নেতাদের অসম্মান করে বক্তব্য দিয়েছেন।

পরবর্তীতে দলের অনেক সিনিয়র নেতাও দাবি করেন, মেজর হাফিজ দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য সেসময় বলেছিলেন, হাফিজ ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় দল ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ কারণে তাকে দলে রাখা হলেও স্থায়ী কমিটির সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়নি। এরই মধ্যে সম্প্রতি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে ‘নানা ধরনের কটূক্তি করায়’ তার ওপর ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তারা দলের হাইকমান্ডকে বিষয়টি অবহিত করে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ করেছেন।

এরকম নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মেজর হাফিজ তেমন কোনও মন্তব্য না করলেও গত বছরের নভেম্বরে নিজ বাসায় ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, বিএনপিতে সত্য কথা বলার মতো লোক নেই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে মেজর হাফিজ বলেন, দলের সংস্কার করুন। এভাবে রাজনৈতিক দল চলে না।

তিনি আরও বলেছিলেন, “৩১ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে আছি। অনেক ষড়যন্ত্র, ভুল–বোঝাবুঝি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। খালেদা জিয়া যত দিন সুস্থ ছিলেন, কোনও সমস্যা ছিল না।”

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো নিয়ে গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন, সরকার বিএনপিকে ভেঙে নির্বাচনে আনার জন্য অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। মেজর হাফিজ সাহেবকে দিয়েও চেষ্টা করেছিল।

মঈন খান আরও বলেন, “সরকার যে অপচেষ্টা করেছিল সেটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সেটি প্রমাণিত হয়েছে। সরকার এই নির্বাচনের আগে একটি প্রকল্প নিয়েছিল, তারপর সে প্রকল্পে ফেল করলে আরও একটি প্রকল্প নিয়েছিল। হাফিজ সাহেবকে নিয়ে গণমাধ্যমে যেটি এসেছে, সেটি সরকারের ব্যর্থ প্রকল্পের বহিঃপ্রকাশ।”

তবে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পদাক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন, সাকিব আল হাসান নির্বাচনের আগে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনএমে যোগ দিয়েছিলেন কিনা সে বিষয়ে তার কিছু জানা ছিল না। বিষয়টি তিনি জেনেছেন গণমাধ্যমে।

‘কাউকে খেজুরের বদলে বরই খাওয়ার উপদেশ দেইনি’

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও সমালোচনা করেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী হাফিজ। শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ইফতারে খেজুরের পরিবর্তে বরই খাওয়ার যে পরামর্শ দিয়েছেন সে প্রসঙ্গও টানেন তিনি।

দেশের বর্তমান অবস্থা কী- এ প্রশ্ন রেখে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊধর্বমূল্যের কারণে জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। আমিও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমাদের সময়ে দ্রব্যমূল্য এর চাইতে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ছিল।

“সিন্ডিকেটকে আমরা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। জনগণ এভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েনি। আমরা মন্ত্রী হিসেবে কাউকে খেজুরের বদলে বরই খাওয়ার উপদেশ দেইনি।”

কিছু দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী ও ব্যাংক লুটেরার কারণে অর্থনীতি পর্যদুস্ত, জনজীবনে ‍দুর্বিসহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে অভিযোগ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “সংবাদপত্রসমূহ সেইদিকে মনোযোগ দেবেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরবেন …এটাই আমরা আশা করি।

“সুইস ব্যাংকে কাদের একাউন্ট আছে তাদের নাম তো দেখি না এসব পত্র-পত্রিকায়, যারা ব্যাংক লুট করে ব্যাংকসমূহকে অকার্যকর করে দিয়েছে- তাদের নামও দেখি না। যারা কানাডা, আমেরিকা, মালয়েশিয়াতে- তাদের নিয়েও কোনও আর্টিকেল দেখি না।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist