Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

লেবার পার্টির জয়ের আভাসের মধ্যে যুক্তরাজ্যে ভোট

লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার হিচিনে প্রচারাভিযানের সময় মিড বেডফোর্ডশায়ার থেকে দলের প্রার্থী মাহবিশ মির্জার সঙ্গে। ছবি: রয়টার্স।
লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার হিচিনে প্রচারাভিযানের সময় মিড বেডফোর্ডশায়ার থেকে দলের প্রার্থী মাহবিশ মির্জার সঙ্গে। ছবি: রয়টার্স।
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। জনমত জরিপগুলো আভাস দিচ্ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ১৪ বছর পর দেশটিতে লেবার পার্টি ক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। নির্বাচনে এবার ভোটার রয়েছে ৪ কোটি ৬৫ লাখ জন।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের ৬৫০ আসনের সদস্যদের নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছেন দেশটির ভোটাররা। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল থেকে নির্বাচিত হবেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী।

এবার সরকারের মেয়াদ শেষের ছয় মাস আগেই সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকার প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল সরকারের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক গত ২২ মে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

এই নির্বাচনে প্রধান লড়াই হবে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি এবং বিরোধী দল লেবার পার্টির মধ্যে। নতুন নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর পরিচালিত জরিপগুলো থেকে দেখা যাচ্ছিল, লেবার পার্টি জনপ্রিয়তায় অনেক এগিয়ে রয়েছে।

তবে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, রক্ষণশীলদের সমর্থন কিছুটা বেড়েছে। তবে লেবারদের সমর্থনও কমেনি।

উপরের সারিতে বাম থেকে: গ্রিন পার্টির সহ-নেতা কার্লা ডেনার, লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার এবং স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা জন সুইনি। নিচের সারিতে বাম থেকে: লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি, রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং রিফর্ম ইউকের কট্টর ডান নেতা নাইজেল ফারাজ।

এর আগে ১৮ জুন পর্যন্ত জরিপ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ২০ শতাংশ বলেছিলেন তারা রক্ষণশীলদেরকে ভোট দিতে চান। তবে ভোটের আগের পর্যন্ত সেই সমর্থন কিছুটা বেড়ে কম-বেশি ২১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৮ জুন পর্যন্ত পরিচালিত জনমত জরিপগুলোতে লেবারদের সমর্থন ছিল ৩৬ শতাংশ, যা এখন কম-বেশি ৩৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

রিফর্ম ইউকে পার্টি ১৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে জরিপে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্রচারের মাঝামাঝি সময়ে তাদের সমর্থনে যে উত্থান দেখা গিয়েছিল, তা শেষ দুই সপ্তাহে থমকে গেছে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা যেখান থেকে প্রচার শুরু করেছিল, তার কিছুটা ওপরে আছে (১১ শতাংশ)। গ্রিনস (৭ শতাংশ), এসএনপি (৩ শতাংশ) এবং প্লেইড সিমরু পার্টির (১ শতাংশের কম) সমর্থন স্থিতিশীল রয়েছে।

সর্বশেষ জনমত জরিপে বিভিন্ন দলের অবস্থান।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুটি প্রধান জরিপ বলছে, বড় কোনও বিপর্যয় না ঘটলে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি যুক্তরাজ্যের বৃহস্পতিবারের সাধারণ নির্বাচনে বিশাল ব্যাবধানে বিজয়ের পথে রয়েছে।

বুধবার ইউগভ এর চূড়ান্ত জরিপে, ৩৯ শতাংশ ভোট নিয়ে হাউস অফ কমন্সের ৬৫০ আসনের মধ্যে ৪৩১টিতে জয়ের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির এক ‘ঐতিহাসিক নির্বাচনী বিজয়’ এর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ইউগভ বলেছে, “লেবাররা জয়ের জন্য প্রস্তুত এবং বড় জয়ের জন্যই প্রস্তুত।

“এই নির্বাচনটি এমন হবে, যা আমরা আগে আর কখনও দেখিনি। লেবাররা ১৯৩৫ সালের পর থেকে তাদের সবচেয়ে খারাপ ফলাফলকে শুধু একটি নির্বাচনী চক্রের মধ্যেই সম্ভাব্য রেকর্ড-ভঙ্গকারী বিজয়ের মাধ্যমে উল্টে দিতে চলেছে।”

২০২০ সাল থেকে লেবারদের জনপ্রিয়তা বাড়ার প্রবণতা।

এর আগে মঙ্গলবার জরিপ সংস্থা সার্ভেশনের জরিপের ফলাফলেও ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, লেবারদের এবার ১৯৯৭ সালের চেয়েও বেশি আসনে জয় ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত। ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে লেবার নেতা টনি ব্লেয়ার বিশাল বিজয়ের মধ্য দিয়ে রক্ষণশীলদের টানা ১৮ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন।

সার্ভেশনের জরিপ বলছে, লেবাররা এবার মোট ৪২ শতাংশ ভোট এবং ৪৪৮টি আসনে জয় পেতে পারে।

তবে এবার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত এবং গভীরভাবে বিভক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ঘেরা একটি দেশের উত্তরাধিকারী হতে চলেছেন।

ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়া ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও জননীতির অধ্যাপক টবি জেমস আল জাজিরাকে বলেছেন, “আগত সরকার অনেক গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।

“পূর্বাভাস অনুযায়ী লেবাররা যদি ভূমিধস বিজয় পায়, তাহলে টনি ব্লেয়ারের ১৯৯৭ সালের বিজয়ের সঙ্গে এর তুলনা করা হবে।”

তিনি বলেন, “কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ব্লেয়ারের সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ অর্থনীতি আরও ভালো হচ্ছিল। আর এবার তার উল্টোটা ঘটছে। প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে এসেছে। রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতির পরে জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গেছে।

“বড় সরকারি ঋণ রয়েছে। ফলে নগদ টাকার অভাবে জনসাধারণের পরিষেবাগুলোর ব্যয়ভার মেটানোও কঠিন হবে।”

যুক্তরাজ্যে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে, যাতে ভোট পড়েছিল ৬৭. ৩ শতাংশ, যা ২০১৭ সালের ৬৮. ৮ শতাংশের চেয়ে কম। ১৯৯৭ সালে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি মানুষ ভোট দিয়েছে— ৭১.৪ শতাংশ। তবে ১৯৯২ সালের নির্বাচনে আরও বেশি ভোট পড়েছিল— ৭৭.৭ শতাংশ। সেই নির্বাচনে কনজারভেটিভ নেতা জন মেজর জিতেছিলেন।

তথ্যসূত্র : বিবিসি, আল জাজিরা

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত