Beta
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

এডেন সাগরে আক্রান্ত জাহাজে কোনও বাংলাদেশি নেই

বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের হামলা থামছে না। শুক্রবারও তারা এডেন উপসাগরে মার্লিন লুয়ান্ডা নামের জাহাজে হামলা চালায়।


এডেন সাগরে ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের হামলার শিকার জাহাজে নাবিকদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন বলে বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে খবর এলেও তা ঠিক নয় বলে জানিয়েছে জাহাজটির মালিক কর্তৃপক্ষ।

মার্লিন লুয়ান্ডা নামের তেলবাহী এই জাহাজটির মালিক সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি ‘ট্রাফিগুরা’।

শুক্রবার এডেন উপ সাগরে ইয়েমেনি হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পড়ে জাহাজটি। তা নিয়ে বিবিসির পাশাপাশি এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, জাহাজটিতে ২২ জন ভারতীয় এবং একজন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে শুক্রবারই ট্রাফিগুরার মিডিয়া শাখাকে ই মেইল করা হয় সকাল সন্ধ্যার পক্ষ থেকে। তার জবাবে ট্রাফিগুরার মিডিয়া সার্ভিসের প্রধান ভিক্টোরিয়া লিখেছেন, জাহাজে মোট ২৭ জন নাবিক রয়েছেন। এরমধ্যে ২৫ জন ভারতীয় এবং দুজন শ্রীলঙ্কার।

ট্রাফিগুরার পক্ষ থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, হামলার পর একটি নিরাপদ বন্দরে নোঙর করছে জাহাজটি। নাবিকদের সবাই নিরাপদে রয়েছেন।

ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজের একটি অংশে আগুন ধরলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে ট্রাফিগুরা জানিয়েছে। হামলার পর ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের রণতরীর সহায়তা পাওয়ার কথাও জানিয়েছে কোম্পানিটি।

‘মার্লিন লুয়ান্ডা’ মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ। এটি সেই দেশে নিবন্ধিত হলেও পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ছিল ব্রিটিশ কম্পানি ‘ওশানিক্স সার্ভিসেস লিমিটেড’।

গাজা যুদ্ধের পর থেকে ইয়েমেনি হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে এশিয়া-ইউরোপের সংক্ষিপ্ত নৌপথ এডেন উপ সাগর এড়িয়ে চলতে হচ্ছে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে।

‘মার্লিন লুয়ান্ডা’য় আক্রমণের পর হুতিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ইয়েমেনে হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই আক্রমণ।

জাহাজটি তেল নিয়ে গ্রিসের একটি বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর যাচ্ছিল। মাঝপথেই এডেন উপসাগরে হামলার শিকার হলো।

‘ট্রাফিগুরা’ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এই রুটে এখন থেকে আর কোনও জাহাজ তারা চালাবে না।

‘সার্ভার ডাউন’

হামলার পর জাহাজে বাংলাদেশি নাবিক থাকার খবর এলে শনিবার সকাল সন্ধ্যার পক্ষ থেকে সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা, শিপিং লাইন এবং বিদেশি শিপিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে নিশ্চিত কিছু জানা যাচ্ছিল না।

জাহাজে নাবিক নিবন্ধনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিপিং মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী সকাল সন্ধ্যাকে বলেছিলেন, “শনিবার সরকারি অফিস বন্ধ। রবিবার আপনাকে জানাতে পারব।”

রবিবার সকালে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “ক্রু নিবন্ধনকারী অনলাইন সফটওয়্যারের সার্ভার ডাউন থাকায় আমরা জানতে পারছি না। এই সফটওয়্যার দিয়েই নাবিকরা দেশ-বিদেশে জাহাজে উঠেন এবং নামেন, যাকে সাইন অন-সাইন অফ বলা হয়। তবে শুনেছি নাবিকরা নিরাপদে আছেন।”

এই তথ্যটি জেনে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি নাবিকদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী।

তিনি সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “এটা আমাদের জন্য খু্বই দুর্ভাগ্যের বিষয়। একজন নাবিক বিদেশে কোনও জাহাজে উঠলে বা সাইন অন করলে এই সফটওয়্যারেই নিবন্ধন করেন। ফলে আমাদের ডিটেইলস জানার সুযোগ থাকে।

“সাইন অন যদি ঠিক সময়ে করতে না পারেন, সেই দেশে জাহাজে উঠতে ঝামেলায় পড়তে পারেন বাংলাদেশি নাবিকরা। অনেক বছর ধরেই আমরা এটি সমাধানের দাবি জানাচ্ছি, কিন্তু কোনও সুফল নেই।”

আনাম আরও বলেন, “আজকে যদি বার্গেইনিং এজেন্ট বা সিবিএ থাকতে, তাহলে আমরা নাবিকের সুখ-দুঃখ জানতে পারতাম। সেটিও করা হচ্ছে না।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist