Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

নগদের বিজ্ঞাপনে অনুমতি নেননি মিরাজরা

ppppppppppppp

আশির দশকে ক্রিকেটের সেরকম কোনও অবস্থা ছিল না। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা ফুটবলে ক্ষয় রোগ ধরলে ক্রিকেট গুটি গুটি পায়ে এগোতে থাকে সামনের দিকে। এখন নিঃসন্দেহে খেলাটি এক নম্বরে। তাকে কারণে অকারণে মানুষ ভালবেসেছে। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অমন সাফল্য না থাকলেও ক্রিকেটকে আলিঙ্গন করে নিয়েছে এদেশের মানুষ। তবে তামিম-মিরাজ-মুশফিকদের বিপণন নাটকে মানুষ বিভ্রান্ত, বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। মানুষের অভিব্যক্তিগুলোই নাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। তাদের চোখে তামিমদের এই খেলা “ক্রিকেটঘাতী”। তাই ক্রিকেট ও তার অনুরাগীদের সম্মান ও আবেগ অক্ষুণ্ণ রাখতে বিসিবি এখনই রাশ টেনে ধরতে চায়।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ চলায় এখন বিসিবির কেউ প্রকাশ্যে কথা বলছেন না এই ইস্যুতে। তবে ক্রিকেটারদের এই কাণ্ড দেখে পরিচালকরা বেজায় ক্ষুব্ধ। বুধবার ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান হতাশা প্রকাশ করে তামিম-মিরাজদের মতো তারকা ক্রিকেটারদের আচরণ দেখে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বোর্ড পরিচালক প্রশ্ন তুলেছেন, “ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের সঙ্গে তারা যে তামাশা করেছে, এখন তাদের কোনো কথা কী মানুষ বিশ্বাস করবে? তারা ক্রিকেট প্রেমীদের বিশ্বাস ও আবেগের জায়গায় ধাক্কা দিয়েছে। এজন্য কোনও সচেতন মানুষ যদি আদালতে যায় …। তাই বোর্ডকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।”

মঙ্গলবার রাতে তামিম-মিরাজের ফোনকল নাটকে বিভ্রান্তিতে পড়েছিল ক্রিকেটপ্রেমীরা। ক্রিকেটে আবার কী হতে যাচ্ছে, এ নিয়েই ছিল তাদের টেনশন। বুধবার সন্ধ্যায় চার তারকা (তামিম, মিরাজ, মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক) মিলে ফেইসবুক লাইভে এসে ফোনকল নাটকের অবসান ঘটিয়ে নগদের বিজ্ঞাপনের সত্যিটা সামনে নিয়ে আসেন। তখনই মানুষের চাপা টেনশন রূপ নেয় রাগ-ক্ষোভে। ফেইসবুক লাইভে তাদের বিরূপ মন্তব্যে সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। এটা অনেকের চোখে আবার প্রতারণাও।

বিসিবি’র এক দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, “বিসিবির তরফ থেকে অবশ্যই এর ব্যাখ্যা চাওয়া হবে ওই ক্রিকেটারদের কাছে। তারা কোনোভাবে এই কাজ করতে পারে না। প্রথমত  তাদের মধ্যে ক’জন নগদের সঙ্গে চুক্তির আগে বিসিবির অনুমতি নিয়েছে, সেটা দেখা হবে। এরপর তারা চুক্তি করলেও বিজ্ঞাপনের নামে ক্রিকেট ও ক্রিকেটানুরাগীদের অসম্মান করার মতো কোনো কর্মকাণ্ড করতে পারে না।”

এরপর তিনি যোগ করেন, “এখন সিরিজ চলায় আমরা কেউ কথা বলছি না এ ব্যাপারে। সিরিজ শেষ হলে বোর্ড একটা ব্যবস্থা নেবে। কারণ এভাবে চললে খেলাটাকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। ”

চার ক্রিকেটারের মধ্যে তামিম ইকবাল বাদে বাকি তিনজনই আছেন বোর্ডের বেতন কাঠামোর চুক্তির মধ্যে। তাই বিজ্ঞাপনী চুক্তি করতে হলে তাদের অবশ্যই বিসিবির অনুমতি নিতে হবে। নগদের সঙ্গে চুক্তি করার আগে মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী মিরাজ বিসিবির অনুমতি নিয়েছেন কিনা সেটাই হলো প্রশ্ন।

সত্যি বললে, কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি নেয় না বিসিবির। বিসিবির সঙ্গে চুক্তিতে থাকা মিরাজরাও নেননি। যে যার যার মতো করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের চুক্তি করেন। এবার অনুমতির প্রসঙ্গ বড় হয়ে উঠার কারণ তামিম-মিরাজদের ফোনকল নাটক যা মানুষের ক্রীড়াবেগকে দারুণভাবে আঘাত করেছে। তাই বিসিবির কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হচ্ছে মিরাজ-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist