Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

মঈন খানকে ধরে নিল পুলিশ, পরে ছেড়েও দিল

মঈন
বিএনপির কালো পতাকা মিছিল থেকে মঈন খানকে আটক করা হয়েছিল বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি, নেতাকর্মীদের নামে ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ও সংসদ বাতিলসহ এক দফা দাবি আদায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কালো পতাকা মিছিল পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানের সামনে মিছিল থেকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খানকে আটক করা হয়। অবশ্য বিকাল ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার অভিযোগ করেন, আব্দুল মঈন খানসহ তার পিএস বাহাউদ্দিন ভূঁইয়া মিল্টন ও মনিরুজ্জামান নামে বিএনপির এক কর্মীসহ তিনজনকে আটক করে উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

তবে মঈন খানকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে সকাল সন্ধ্যাকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহজাহান।

তিনি বলেন, “আমরা তাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। সেইসঙ্গে কালো পতাকা মিছিল থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম।”

কিছুক্ষণ পরই মঈন খানকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার শাহজাহান।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি আবুল হাসান জানিয়েছেন, মঈন খানকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় এদিন কালো পতাকা মিছিল করেন বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর এলাকায় মিছিল করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ ২৭ জন নেতাকর্মী। 

দয়াগঞ্জে বিকালে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিল হয়। এতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কি থেকে কালো পতাকা মিছিল শুরু হয়। পল্টন মোড়ে যাওয়ার পথে আল রাজী টাওয়ারের সামনে পুলিশ বাধা দেয়।সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে কর্মসূচি সমাপ্ত করে গণফোরাম ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি।

গ্রেপ্তারের ভয়ে কর্মসূচি করেননি নেতাকর্মী : গয়েশ্বর 

মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পীরজঙ্গী শাহ মাজারের সামনে কালো পতাকা মিছিল হওয়ার কথা ছিল বিএনপির। দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে কর্মসূচির প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সেখানে যান। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে চলে যান তিনি।

এসময় গয়েশ্বর বলেন, “ইতোমধ্যে আপনারা শুনেছেন উত্তরা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে আটক করেছে। আর এখানে আমাদের নেতাকর্মীরা দাঁড়াতে পারে নাই। এখানে আসার পরে সার্বিক যে পরিস্থিতি বুঝছি, অযথা আমার কর্মী গ্রেপ্তার হবে। আমার কর্মীরা একত্রিত হতে পারছে না। আজকে এই পুলিশি তাণ্ডব ও বাধার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।” 

তিনি বলেন, “মিটিং ও মিছিল করা সাংবিধানিক অধিকার। আমরা যথাসময়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছি। এরপরেও আজিমপুর থেকে প্রায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

এর আগে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গয়েশ্বর। দ্বাদশ সংসদের অধিবেশন শুরুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দেশের জনগণ তো এই সরকারের বিরুদ্ধে লাল পতাকা ও কালো পতাকা প্রদর্শন করছে। তারা কিন্তু এই সরকারের পক্ষে কিছু বলছে না। সুতরাং লাজ লজ্জা ভয়- এই তিন নয় যাদের তারাই সংসদে বসতে পারে।”

গণঅধিকার পরিষদের মিছিলে হামলার অভিযোগ 

সংসদ অভিমুখে গণঅধিকার পরিষদের কালো পতাকা মিছিল ছিল বিকালে। ৪টার দিকে বিজয়নগর আল রাজি ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু করলে পুলিশ ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। 

সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুলহক নুর বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে হামলা করছে। আজকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ হামলা করেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক করেছে।

তিনি বলেন, “আজকে একটা অবৈধ সংসদের অধিবেশন বসেছে। এই সংসদে কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি।”  

সারাদেশে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

বিকেল ৫টার দিকে কাকরাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ৩৫ জন নেতাকর্মীর মিছিল হয়। মিছিল শেষে সন্ধ্যায় নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেন রিজভী।

তিনি অভিযোগ করেন, কালো পতাকা মিছিলকে কেন্দ্র করে সারাদেশে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। 

পুলিশের সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “তাদের কারণেই ভালো মানুষগুলো জেলে, কারাগারে। আর কুখ্যাত খুনি, সন্ত্রাসীরা বাইরে। পুলিশই আবার এমপিদের নির্বাচিত করে।” 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খানকে পুলিশ টেনে-হেঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়- অভিযোগ করে রিজভী বলেন, “তার মতো ভদ্র মানুষকে কীভাবে এমন করে হেনস্থা করে? তাহলে কীভাবে এ দেশে ভদ্র লোক থাকবে?” 

তিনি বলেন, “সংসদ অধিবেশনের নামে সরকার তামাশা ও নাটকের আয়োজন করে। ডামি নির্বাচন করে সরকার আরও বেশি ভয়ের মধ্যে আছে। কালো পতাকা মিছিলেই কি সরকারের এতো ভয়?”

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ হার্টের রোগী জানিয়ে রিজভী বলেন, “তাকে টেনে-হেঁচড়ে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ। এ দেশে কি নারীরাও নিরাপদ নয়?”

কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমকে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরদিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘বিএনপির পুরো কেন্দ্রীয় কার্যালয় কালো পতাকা দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরর এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, “রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুলিশ দিয়ে আছেন। এরও কিন্তু শেষ আছে। আপনাদের পতন হবেই।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist