Beta
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪

সেই মনিকা লিউনস্কি

monica cover picture

ক্যামেরার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে মনিকা । পড়েছেন পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত নেমে আসা কালো পোশাক। কোমরে চামড়ার বেল্ট। পায়ে উঁচু হিলের পাম্প সু, যাতে চিতার গায়ের ছাপের নকশা। তার ঠিক পেছনে, অফিসের স্বচ্ছ কাচ ভেদ করে ধরা পড়েছে শহরের খোলা আকাশ। ভাবা যায় বয়স ৫১ ছুঁয়েছে!   

গোটা দৃশ্যটি চোখ বুজে ভাবলে ধরা পড়ে একজন আত্মবিশ্বাসী আর ক্ষমতায়িত নারীর ছবি। লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক ব্র্যান্ড রিফরমেশনের এক বিশেষ পোশাকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এভাবেই ক্যামেরায় পোজ দিয়েছেন মনিকা লিউনস্কি।

কিন্তু ক্যামেরায় ‘আত্মবিশ্বাসী’ ভঙ্গিতে ধরা দেওয়া মনিকার হালচাল কী সবসময় এমন ছিল? বিশেষত গত শতকের শেষে? 

সে গল্পে আমরা না-হয় পরেই যাবো। তার আগে নজর দেবো ব্র্যান্ড রিফরমেশনের এই ফটোশুটের পেছনের কাহিনীতে।   

ব্র্যান্ড রিফরমেশনের ‘ইউ হ্যাভ গট দ্য পাওয়ার’ সিরিজের পোশাকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন এক সময়ের আলোচিত, সমালোচিত এবং কোনও কোনও মহল থেকে নিন্দিত আমেরিকান নারী মনিকা। কালেকশনে রয়েছে অফিস উপযোগী পোশাক এবং ব্লেজার। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র এবং নাগরিকের ক্ষমতায়নকে উৎসাহিত করতেই এ ব্র্যান্ডটি বিশেষ স্লোগান নিয়ে প্রচারে নেমেছে।      

এই বিশেষ পোশাকের কালেকশন নিয়ে ব্র্যান্ডটি তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, “আমাদের কাজে আমরা অগ্রাধিকার দিই মানুষ আর সারা বিশ্বকে। যার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোট।”

রিফরমেশনের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মনিকাও দিয়েছেন বিবৃতি। তিনি বলেছেন, “ভোট দেওয়ার মানে হল আমাদের কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরা। এটি গণতন্ত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক।” 

লিউনস্কি যুক্ত করেন, “তবে ভোটদাতাদের হতাশা এবং উদাসীনতা ভোটের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ফলে। ফলে, বিশেষত এই বছর আমরা বেশ ঝুঁকিতে আছি।”

এতো কথার পেছনের ঘটনাটি হলো, রিফরমেশনের এই বিশেষ কালেকশন থেকে বিক্রির অর্থ দান করা হবে ভোটার অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘ভোট ডট ওআরজি’-কে। 

এবার ফিরে যাই ১৯৯৫ সালে। মনিকা লিউনস্কির গল্পে। সে বছর ২১ বছরের তরুণী লিউনস্কি হোয়াইট হাউজে যোগ দেন একজন সামার ইন্টার্ন হিসেবে। পরে অবশ্য তাকে সেখান থেকে বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় পেন্টাগনে। লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সের ছাত্রীর সময়গুলো সেখানে ভালোই যাচ্ছিল। এমন সময় তিনি সে সময়ের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন পরিণয়ে। 

কিন্তু বিপত্তি বাঁধে পেন্টাগনের কলিগ লিন্ডা ট্রিপকে তিনি এই রোমান্সের কথা মুখ ফসকে বলে ফেলায়। এটুকুতেও কেলেঙ্কারী হয় তো থামানো যেত। গোলটা আসলে বাধলো ক্লিনটনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কথাও লিন্ডাকে তিনি বলে ফেলেছিলেন। আর এ কথা মনিকার অজ্ঞাতে রেকর্ড করে নেন লিন্ডা। শুধু রেকর্ড করেই ক্ষান্ত হননি। এই ঘটনা ছড়িয়ে দিলেন হোয়াইট হাউজে। নড়েচরে বসলো কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনা গড়ালো এমনকি আদালত পর্যন্ত। 

আর রেকর্ড? ওটা লিন্ডা তুলে দিলেন আইনজীবী কেনেথ স্টারের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই ঘটনাটির নাম ‘মনিকাগেইট’ কেলেঙ্কারি। 

এমন ঘটনার পর ক্লিনটন পুনরায় প্রেসিডেন্ট হলেও কেমন ছিল মনিকা লিউনস্কির দিনগুলো? 

জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সাথে জড়িয়ে এমন ‘কেলেঙ্কারি’ মিডিয়াতে রটে যাবার পর তিনি একরকম একঘরে জীবন কাটিয়েছেন। কারণ মিডিয়ার বদৌলতে রাতারাতি তিনি একজন ঘৃণ্য ব্যক্তিতে পরিণত হন। নিয়মিত শিকার হতে থাকেন নারী বিদ্বেষ, মৃত্যু হুমকিসহ বহু অপবাদ আর লাঞ্ছনার। 

২০১৫ সালে টেড টক-এ তিনি বলেছিলেন, “সকলে খুব সহজেই ভুলে গেল যে আমিও একজন সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ, যার আর সবার মতোই একটি স্বাভাবিক জীবন ছিল।”

অবশ্য সময়ের পরিক্রমায় ঘুরে দাঁড়িয়েছেন লিউনস্কি। আজ তিনি (হ্যারাসমেন্ট) হয়রানি বিষয়ে একজন উদ্যমী পাবলিক স্পিকার। একইসাথে অ্যান্টি-বুলিং সংগঠন বাইস্টেন্ডার রেভ্যুল্যুশনের কৌশলগত উপদেষ্টা।

এতো কিছুর পরেও ‘কলঙ্ক’ কি ছেড়ে গেছে মনিকা লিউনস্কিকে?

লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ারকে গত বছর তিনি বলেন, “অপবাদ একবার গায়ে লেগে গেলে তার থেকে তো কোন মুক্তি নেই। ফলে একসময় আমি বুঝে যাই যে, আমার উপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা এইসব অপবাদের সাথে যুঝেই আমাকে চলতে হবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist