Beta
রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

সমাজে প্রভাব ফেলে এমন ভিডিও দেবেন না : মুশতাক-তিশা দম্পতিকে আদালত

ss-mustak tisha-14-03-24

সমাজে প্রভাব পড়ে এমন কোনও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না দিতে আলোচিত দম্পতি খন্দকার মুশতাক আহমেদ ও তার স্ত্রী সিনথিয়া ইসলাম তিশাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক শওকত আলীর আদালত এ আদেশ দেয়।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী তিশাকে প্রলোভন ও জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ ও কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীকে অব্যাহতির সুপারিশ করে পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছিল বাদী পক্ষ। সেই বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার। এ কারণে এদিন সকালে আদালতে হাজির হন মুশতাক-তিশা দম্পতি।

তিশার পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে’ বিয়ে করেছেন মুশতাক। আদালতে বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন ওমর ফারুক ফারুকী আর মুশতাক আহমেদের পক্ষে ছিলেন খোন্দকার হাসান শাহরিয়ার। 

মামলার শুনানির শুরুতে বাদী পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী নারাজি আবেদনের বিষয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় আসামি মুশতাক আহমেদ বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।

এই আইনজীবী বলেন, কাপল (যুগল) হিসেবে তারা সমাজে খারাপ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খারাপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে। অনেকেই তাকে ‘সুগার ড্যাডি’ বলে আখ্যায়িত করে। অলরেডি বিভিন্ন মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে খারাপ নজির সৃষ্টি হয়েছে বলে আদালতের কাছে অভিযোগ উত্থাপন করেন তিনি।

আসামি বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে জোর করে বিয়ে করেছেন অভিযোগ তুলে বাদীর এ আইনজীবী বলেন, তারা এখন যে সব কাজকার্ম করছেন তাতে সমাজে যাতে তাদেরকে নিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি না হয় সেজন্য আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবী খোন্দকার হাসান শাহরিয়ার বাদীর আইনজীবীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বাদীকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে, এটা সত্য না। বাদীকে কোনও ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেওয়াও বন্ধ করেছেন।”

এ সময় মামলায় স্থায়ী জামিন প্রার্থনা করে এ আইনজীবী বলেন, আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে তারা আদালতে হাজির হয়েছেন।

দুই পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে আদালত বলে, “মৌখিকভাবে বলা হচ্ছে, এরপর যদি বাদীকে কোনও ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়, আপনার (মুশতাক) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন না দেখা যায়, আপনারা সফল কাপল। সমাজের কেউ প্রভাবিত হয়, সেই ধরনের কোনও ভিডিও যেন দেখা না যায়।”

তখন আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, “স্যার আপনার নির্দেশ অনুযায়ী কোনও প্রকার ভিডিওবার্তা আসামিরা দেননি। এমনকি টিকটকও করেন না তারা।”

তখন বিচারক বলেন, “টিকটক করলে সমস্যা নেই। সমাজে খারাপ প্রভাব পড়ে এমন ভিডিও না করলেই হবে।”

পরে আদালত দুই আসামির স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়।

২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী সিনথিয়া ইসলাম তিশাকে বিয়ে করেন মুশতাক আহমেদ। বয়সের ব্যাপক ব্যবধান থাকায় বিয়ের পরপরই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে খুব আলোচনা চলে।

তিশাকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গত বছরের ১ আগস্ট কলেজের গভর্নিং বডির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ ও অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীরের বিরুদ্ধে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৮-এ মামলা করেন তার বাবা সাইফুল ইসলাম।

পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত করে একই বছরের ১৪ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন গুলশান থানার এসআই সোহেল রানা। পুলিশের এ তদন্তের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন মামলার বাদী। নারাজি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য ১৪ মার্চ দিন ঠিক করে দেয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist