Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

রাখাইনের পোন্নাগুন শহর আরাকান আর্মির দখলে

জান্তা বাহিনীর ঘাঁটি দখলের পর জব্দ করা সামরিক যানের সামনে দাঁড়িয়ে আরাকান আর্মির সদস্যরা। ছবি : ইরাবতী
জান্তা বাহিনীর ঘাঁটি দখলের পর জব্দ করা সামরিক যানের সামনে দাঁড়িয়ে আরাকান আর্মির সদস্যরা। ছবি : ইরাবতী

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পোন্নাগুন শহরে জান্তার শেষ ঘাঁটিও দখল করেছে আরাকান আর্মি (এএ)। রাজ্যের রাজধানী সিত্তের নিকটবর্তী শহরটিকে মুক্ত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে সশস্ত্র সংগঠনটি।

এএ বলছে, পোন্নাগুনে জান্তার লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের সদরদপ্তরে হামলায় জান্তার অনেক সৈন্য নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন কর্নেল ও একজন মেজর রয়েছেন।

তারা হলেন, কর্নেল ম্যো মিন কো কো ও মেজর স্বা হ্তুয়ে। আরেকজন জান্তা বাহিনীর দ্বিতীয় ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়ো থু অং।

সিত্তে থেকে ৩৩ কিলোমিটার উত্তরের পোন্নাগুনের নিয়ন্ত্রণ এখন আরাকান আর্মির হাতে। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এনিয়ে দ্বিতীয় কোনও শহরের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিল সংগঠনটির যোদ্ধারা।

ফেব্রুয়ারি ২১ থেকে মার্চের ৪ তারিখ পর্যন্ত তুমুল লড়াইয়ের পর এএ যোদ্ধারা প্রথমে শহরের পুলিশ স্টেশন দখল করে। তখন ২৩ পুলিশ তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে জান্তা বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার মধ্যেও গত সোমবার এএ যোদ্ধারা ওই সদরদপ্তরটির দখল নেয়।

এএ যোদ্ধারা সদরদপ্তর দখলের সময় বেশ কয়েকজন সেনাসদস্যকে বন্দি ও প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এসময় যারা সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের ও তাদের পরিবারের কোনও ক্ষতি করেনি এএ যোদ্ধারা।

সদরদপ্তর দখলের আগেরদিন রবিবার জান্তা সেনাদের সাহায্যের জন্য অন্য শহর থেকে তিনটি গাড়ি যাচ্ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে এএ যোদ্ধাদের হামলার মুখে সেগুলো চলে যায়। একই সময়ে এএ যোদ্ধারা সেনাবাহিনীর দুটি আর্টিলারি বহনকারী যান ধ্বংস করে দেয়।

প্রসঙ্গত, রাখাইন রাজ্যের এখন কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরাকান আর্মির হাতে। জান্তা বাহিনী তাদের সর্বশক্তি দিয়ে রাজ্যের রাজধানী সিত্তে রক্ষার চেষ্টা করছে।

এদিকে, কাচিন স্বাধীনতা বাহিনী (কেআইএ) ও মিত্রবাহিনী গত বৃহস্পতিবার সকালে চীন সীমান্তবর্তী ১০টির বেশি জান্তা ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে। এর মধ্যে লাইজা শহরে অবস্থিত কেআইএ সদর দপ্তরের কাছের ঘাঁটিগুলোও রয়েছে। কাচিন রাজ্যে যুদ্ধ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।

কেআইএ যোদ্ধারা লাইজার কাছে একটি পাহাড়ি ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। কেআইএ মুখপাত্র কর্নেল নও বু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরাবতীকে এ তথ্য জানান।

কৌশলগত কারণে লাইজা শহর বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শহরটির অবস্থান মাইতকিনা ও ভামো শহরের মাঝখানে চীনের সীমান্তের কাছে।

ক্যাচিন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফএস) ও কেআইএ যোদ্ধারা বৃহস্পতিবার ভামো বিমানবন্দরের রানওয়ে ও মাইতকিনায় জান্তার বিমানঘাঁটিতে রকেট হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist