Beta
শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪

টেকনাফের ওপারে আবার গোলাগুলির শব্দ, সীমান্তে পড়ে আছে লাশ

মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থায় আছে বিজিবি। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তে নাফ নদীর ওপারে শুক্রবার সারাদিন ও রাতে কোনও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। তবে শনিবার ভোরে আবার শোনা গেছে গুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের বিকট আওয়াজ। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল।

এদিকে, কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে একজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ বলছে, বিজিবির অনুমতি না থাকায় সীমান্তে গিয়ে লাশ উদ্ধার করতে পারছেন না তারা।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারি জানান, শনিবার ভোরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল, উনচিপ্রাং, কানজর পাড়া সীমান্তের নাফনদীর ওপারে গুলি, মর্টার শেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। যতদূর জানা গেছে, শনিবার ভোরে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কুমিরখালী এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে গুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি গুলি সীমান্তের এপারে লম্বাবিল ও উনচিপ্রাং এলাকায়ও এসে পড়েছে।

তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এটা বন্ধ ছিল। শনিবার ভোরে পর পর শব্দ শোনা গেছে। এখন বিচ্ছিন্নভাবে শব্দ শোনা যাচ্ছে।”

তবে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী।

উখিয়া সীমান্তে মরদেহ পড়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ওসি মো. শামীম হোসেন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, সীমান্তে একজনের মরদেহ পড়ে আছে। বিজিবি সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। তাই লাশ উদ্ধার করা যায়নি।

ঘুমধুম সীমান্তে অবিস্ফোরিত ‘রকেট’ আতঙ্ক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে নতুন করে গোলাগুলির শব্দ শোনা না যায়নি। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে এই সীমান্তে গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে গুলির শব্দ শোনা না গেলেও সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে দেখা দিয়েছে অবিস্ফোরিত ‘রকেট’ আতঙ্ক। এই সীমান্ত এলাকায় শনিবার সকালেও অবিস্ফোরিত দুটি রকেট পাওয়া গেছে।

ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় শনিবার সকালেও অবিস্ফোরিত দুটি রকেট পাওয়া গেছে। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

ঘুমধুমের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, ঘুমধুম সীমান্তে একের পর এক অবিস্ফোরিত রকেট পাওয়া যাচ্ছে। শনিবার সকালেও দুটি অবিস্ফোরিত রকেট পাওয়া গেছে, যা লাল পতাকা দিয়ে ঘিরে রেখেছে বিজিবি। এর আগে আরও দুটি অবিস্ফোরিত রকেট পাওয়া গিয়েছিল, যা পরে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

তিনি বলেন, বান্দরবানের ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডের ক্ষেত-খামার, কৃষি জমিতে মিলছে মিয়ানমার থেকে ছোড়া এসব রকেট। অবিস্ফোরিত এসব গোলা নিয়ে খেলা করছে সীমান্তের বাসিন্দা ও শিশুরা। এতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শনিবার সকালে কৃষি জমিতে কাজ করতে গিয়ে রকেট লঞ্চারের গোলা পাওয়া রাজিয়া বলেন, “কৃষি জমিতে কাজ করছিলাম। তখন দেখি শিশুরা লম্বা লোহার রড়ের মতো একটি জিনিস নিয়ে খেলছে। তখন তাদের কাছ থেকে এটি নিয়ে বাসায় চলে আসি। পরে স্বামী বলে এটি অস্ত্র। তার পরপরই বিজিবিকে এটি হস্তান্তর করি।”

সীমান্তের বাসিন্দা আব্দু রশিদ বলেন, “গোলাগুলো কত মারাত্মক তা কেউ জানে না। মূলত এটা যে বিস্ফোরক তাও জানে না সীমান্তের অনেক বাসিন্দা ও শিশু।”

মিয়ানমার থেকে আসা গুলি ও মর্টার শেলের গোলার আঘাতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি এক নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে অন্তত আটজন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist