Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

মিয়ানমারে সংঘাত : ঘুম নেই ঘুমধুমে

মিয়ানমারে সংঘাতের জেরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অন্তত ৫০ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে। সীমান্তের ওপার থেকে আসছে টানা বিস্ফোরণের শব্দ।

মিয়ানমারের সংঘাতের গুলি, মর্টার শেল এসে পড়েছে সীমান্তের এপারেও। এতে এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, পুঁড়েছে বসত ঘর। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবারও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সীমান্তবর্তী পাঁচটি প্রাথমিক স্কুল ও একটি মাদ্রাসা। সব মিলে চরম আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সীমান্তে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আজিজ জানিয়েছেন, মিয়ানমারের বিস্ফোরণের শব্দ আবার আসা শুরু করে শনিবার বিকালে। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায়ও ওপার থেকে বিস্ফোরণে শব্দ এসেছে।

তিনি জানান, সংঘর্ষের শব্দ আসছে তুমব্রু সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) একটি ফাঁড়ি ঘিরে। সেখানে মিয়ানমারের বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তুমুল সংঘর্ষ হচ্ছে। গোলা-গুলি, মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে, যা মাঝে-মধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে এপারে চলে আসছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, সীমান্তের গোলাগুলির ঘটনায় ঘুমধুম সীমান্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে আছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সংযুক্ত মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তের লোকজনকে সতর্ক ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কিছু সদস্যের পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে বলেও জানান বান্দরবানের জেলা প্রশাসক।

বিজিবির কক্সবাজারস্থ ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল আশরোকি মিয়ানমারের সীমান্তরাক্ষী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য পালিয়ে আসার কথা জানালেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি।

তিনি বলেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সঙ্গে রাত থেকে তুমুল যুদ্ধের মধ্যে কয়েকজন বিজিপি সদস্য প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেছে। এদের বিজিবির ঘুমধুম সীমান্ত বিওপিতে রাখা হয়েছে। বিজিপি সদস্যদের অস্ত্র ও গুলি বিজিবির কাছে জমা রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে বিজিপির সংঘাত চলছে। সংঘাতের এক পর্যায়ে ১৪ জনের মতো বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্যরা।

গুলিবিদ্ধ এক বাংলাদেশি, পুড়েছে বসত ঘর

মিয়ানমারের সংঘাতে ছোড়া গুলিতে বান্দরবানের ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তার ডান হাতে গুলি লেগেছে। রবিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ প্রবীর চন্দ্র ধর ঘুমধুম ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের তুমব্রু হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার সৈকত শাহিন বলেন, “একজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।”

ঘুমধুম ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, শনিবার রাত থেকে তুমুল সংঘর্ষ হচ্ছে ওপারে। ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় একাধিক গুলি, মর্টার শেল এসে পড়েছে। এতে কমপক্ষে তিনটি বসত ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতে সংঘর্ষের মধ্যে বাইশফাঁড়ি এলাকার প্রবাসী নুরুল কবীরের বাড়িতে গোলার আগুন এসে পড়ে। ঘরটি পুড়ে গেছে। এর আগে শনিবার বিকালে একটি গুলি অটোরিকশায় এসে লাগে।

তিনি বলেন, “ঘুমধুমের পরিবেশ থমথমে, আতঙ্কে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়েছে।”

ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (আইসি) মাহাফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া বলেন, “রাতভর গোলাগুলি চলেছে ওপারে। গোলাগুলির শব্দে মানুষের মনে ভয়-আতঙ্ক তো হবেই। তবে যেকোনও পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের নিরাপত্তা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।”

আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

মিয়ানমারে সংঘাতের জেরে সীমান্তঘেঁষা এলাকার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ত্রিরতন চাকমা জানান, শনিবার রাত থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমারের ভেতরের গোলাগুলির কারণে ঘুমধুম সীমান্ত এলাকার বাইশপাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাজাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কুল তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রবিবার একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফরিদুল আলম হোসাইনি জানান, সীমান্তের ১০০ গজ দূরত্বে থাকা মিসকাতুন নবী দাখিল মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে এর আগে ২৯ জানুয়ারি একদিন এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ছিল।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist