Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

বিজিপিসহ মিয়ানমারের ৩৩০ নাগরিককে হস্তান্তর

বিজিপির প্রতিনিধিদলের কাছে মিয়ানমারের ৩৩০ নাগরিককের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
বিজিপির প্রতিনিধিদলের কাছে মিয়ানমারের ৩৩০ নাগরিককের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
Picture of আঞ্চলিক প্রতিবেদক, কক্সবাজার

আঞ্চলিক প্রতিবেদক, কক্সবাজার

বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সদস্যসহ দেশটির ৩৩০ জন নাগরিককে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের ইনানীতে নৌবাহিনীর জেটিতে আসা প্রতিনিধিদলের কাছে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ৩৩০ জনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

তিনি জানান, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুলিশ কর্নেল মিও থুরা নউংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যসহ ৩৩০ জন নাগরিককে সকাল ১১টার দিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বিজিবিপ্রধান জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মিয়ানমারের ১৬৫ নাগরিককে নিয়ে ইনানী জেটি থেকে কর্ণফুলি জাহাজ রওয়ানা হয়েছে। এদের মিয়ানমারের জাহাজে তুলে দেওয়ার পর কর্ণফুলি জাহাজ ফিরে আসে এবং বিকাল চারটার দিকে বাকি ১৬৫ জনকেও মিয়ানমারের জাহাজে তুলে দিতে রওনা হয়।

বিজিবির কড়া পাহারায় বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ানমারের নাগরিকদের কক্সবাজারের ইনানীতে নৌ-বাহিনীর জেটিতে আনা হয়। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তের ওপারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সংঘর্ষ শুরু হলে গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিপি সদস্যসহ মিয়ানমারের নাগরিকেরা বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে। কয়েক দফায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যসহ ৩৩০ জন সীমান্তে পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে।

বিজিবি জানায়, পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে ৩০২ জন বিজিপি সদস্য, চারজন বিজিপি পরিবারের সদস্য, দুইজন সেনা সদস্য, ১৮ জন ইমিগ্রেশন সদস্য ও চারজন বেসামরিক নাগরিক। এদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিরস্ত্র করার পাশাপাশি সবাইকে বিজিবি হেফাজতে রাখা হয়। পাশাপাশি তাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়।

এর ধারাবাহিকতায় নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ানমারের নৌ বাহিনীর একটি জাহাজ বাংলাদেশের সীমানায় এসে গভীর সাগরে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ও কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের বিজিবির কড়া পাহারায় কক্সবাজারের ইনানীতে নৌ-বাহিনীর জেটিতে আনা হয়।

পরে নাগরিকদের বুঝে নিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জাহাজে করে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুলিশ কর্নেল মিও থুরা নউংয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিজিপি প্রতিনিধিদল সকালে কক্সবাজারের ইনানীতে নৌবাহিনীর জেটিতে আসেন। তাদের কাছেই পরে বুঝিয়ে দেওয়া হয় মিয়ানমারের ৩৩০ নাগরিককে।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার বিষয়ক পরিচালক মো. রাকিবুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব মো. রাশেদ হোসেন চৌধুরী ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ অং কিয়াও মোয়ে এ সময় ইনানীতে নৌ-বাহিনীর জেটিতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত