Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

ওপারে বেড়েছে সংঘাত, এপারে উদ্বেগ

সীমান্ত এলাকায় সতর্ক রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা। ছবি - সকাল সন্ধ্যা
সীমান্ত এলাকায় সতর্ক রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা। ছবি - সকাল সন্ধ্যা
Picture of নুপা আলম, কক্সবাজার

নুপা আলম, কক্সবাজার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাত আবারও বেড়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা গোলাগুলির শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে টানা কয়েকদিন ধরে শান্ত থাকা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তেও নতুন করে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে ওই এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমারে সংঘাত আবারও বেড়ে যাওয়ায় সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সালাম জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়ার পূর্বেপাশে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পর পর কয়েকটি মর্টার শেলের বিস্ফোরণ হয়। এতে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে শাহপরীর দ্বীপ। এছাড়া রবিবার ভোররাত পর্যন্ত থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়।

তিনি সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “গত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার সীমান্তে কোনও ধরনের গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। টানা তিনদিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার বিকাল ও শনিবার ভোররাতে এবং শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে আবারও গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে। এতে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্কে দেখা দিয়েছে।”

আব্দুস সালাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাবরাং ইউনিয়নের বিপরীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মংডু শহরের ফাদন চা, নুরুল্লাহপাড়া, কাদির বিল ও শায়রাপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ চলছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে রাতভর ৪০/৪৫টি মর্টার শেল ও থেমে থেমে গুলি বর্ষণ হয়েছে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, “টানা কয়েকদিন শান্ত ছিল সীমান্ত। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত উনচিপ্রাং, কাঞ্জরপাড়া ও খারাংখালী সীমান্তে নাফ নদীর ওপাড়ে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনেছেন স্থানীয় লোকজন। তারা বিষয়টি আমাকে জানালে আমিও ইউএনওকে অবহিত করেছি।”

মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কড়া পাহারায় এখন বিজিবি সদস্যরা। সম্প্রতি তোলা ছবি – সকাল সন্ধ্যা

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন, “শনিবার দিনভর হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে কাঞ্জরপাড়া, খারাংখালী ও উনচিপ্রাং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে থেমে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ আসে। এতে আতঙ্কে রাত কেটেছে সীমান্তবাসীর।”

তবে রবিবার ভোর থেকে হোয়াইক্যং সীমান্তের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শাহপরীর দ্বীপ বাজারপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল গনি ও জাফর আলম বলেন, শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওপারে মিয়ানমার থেকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। এতে মানুষের আতঙ্ক অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে সন্ধ্যার পর থেকে একের পর বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে শাহপরীর দ্বীপ। এতে করে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ আবারও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, “গত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। এ সময়ে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।”

এরপর শুক্রবার রাতে কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “এরপর শনিবার দিনভর সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত হোয়াইক্যং এবং শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে।”

ইউএনও আদনান বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তর সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে বসবাসরত মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ছোট ছোট দলে আসা এসব রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ইতোমধ্যে রুখে দিয়েছে বিজিবি।”

এদিকে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও রবিবার ভোররাত থেকে এই সীমান্ত এলাকায় আবারও ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “ঘুমধুম সীমান্তের পরিস্থিতি বেশ কয়েকদিন ধরে শান্ত থাকলেও রবিবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে থেমে থেমে এসব গুলির শব্দ আসছে। ওখানে কী হচ্ছে তা পরিষ্কারভাবে বলা যাচ্ছে না। ফলে সীমান্তের মানুষের মনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।”

মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে গোলা এসে পড়ে বাংলাদেশে দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এছাড়া রাখাইন প্রদেশে বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মির হামলায় টিকতে না পেরে প্রাণ বাঁচাতে বিজিপির সদস্যসহ ৩৩০ জন আশ্রয় নেন বাংলাদেশে। পরে তাদেরকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি।

সীমান্তে চলমান সংঘাতে জেরে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তবর্তী পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকারিয়া সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি মাথায় এনে মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় উপজেলা পর্যায়ে স্কুল গুলো খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ বিষয়ে আজ-কালের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত