Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪
Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

তরুণদের সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করল মিয়ানমারের জান্তা

মিয়ানমারের জান্তা সরকার শনিবার তরুণদের বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগদানের ঘোষণা দেয়। ছবি : এএফপি
মিয়ানমারের জান্তা সরকার শনিবার তরুণদের বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগদানের ঘোষণা দেয়। ছবি : এএফপি
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। সীমান্তসহ কয়েক অঞ্চলে তারা বিদ্রোহীদের হাতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জান্তা সরকার মিয়ানমারের তরুণদের বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগদানের আইন কার্যকর করেছে।   

জান্তা সরকার শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পিপলস মিলিটারি সার্ভিস ল’য়ের আওতায় মিয়ানমারের সব তরুণ-তরুণীকে বাধ্যতামূলক মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাতমাদোতে সামরিক সেবা দিতে হবে।

ঠিক কোন বয়সের তরুণ-তরুণীরা এই আইনের আওতায় পড়বে, তাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ ও ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী নারীদের অবশ্যই দুই বছরের জন্য সেনাবাহিনী যোগ দিতে হবে। পাশাপাশি ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের (যেমন চিকিৎসক) অবশ্যই তিন বছর সামরিক সেবা দিতে হবে। মিয়ানমারে চলমান জরুরি অবস্থার মধ্যে এই সেবার সময়কাল পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে। 

চলতি মাসের ১০ তারিখ থেকে আইনটি কার্যকর করা হবে বলেও জানিয়েছে জান্তা সরকার।

সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের আইন মিয়ানমারে ২০১০ সালে প্রথম পাস হয়েছিল। তবে সে সময় এটি কার্যকর করা হয়নি। আইনটি এখন এমন সময় কার্যকর করা হচ্ছে যখন মিয়ানমারের পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্যাপক বেসামাল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের এই পদক্ষেপ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তারা মনে করছেন, বিদ্রোহ দমাতে তাতমাদো আরও সেনা নিয়োগে মরিয়া। কখনো যুদ্ধ করেনি এমন ব্যক্তিদেরও তারা এখন সম্মুখ সমরে ঠেলে দিচ্ছে।       

জান্তা সরকারের মুখপাত্র জো মিন তুন এক অডিও বার্তায় বলেছেন, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে যুক্ত করা যায় এমন জাতীয় সামরিক সেবা ব্যবস্থা দরকার।          

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর তাদের যাত্রাপথ তেমন একটা মসৃণ ছিল না। জান্তা সরকার উৎখাত করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে রাজপথে নামে লাখো জনতা। তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালোনো হয়। গ্রেপ্তার হয় অনেকে। 

স্থানীয় এক পর্যবেক্ষক দলের তথ্যমতে, জান্তা সরকারের বিরোধিতা করায় সাড়ে চার হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি।

মিয়ানমারের সাধারণ জনগণের অসহযোগ আন্দোলন দমাতে সফল হলেও দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় অনেকটাই ব্যর্থ জান্তা সরকার। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্রোহীদের কাছে অপমানজনকভাবে পরাজিত হয় তারা। 

২০২৩ সালের শেষের দিকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যপথের অনেকাংশ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় বিদ্রোহীরা।

গত মাসে আরাকান আর্মি দাবি করে, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্যের পালেতোয়া শহর থেকে জান্তা বাহিনীকে তারা হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে পালেতোয়ায় শেষ সেনা চৌকিও তারা জান্তামুক্ত করেছে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট প্রেসিডেন্ট মিন্ট সোয়ে সতর্ক করে বলেন, জান্তা সরকার বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দেশ টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত