Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বোচ্চ ১০% কোটা থাকতে পারে : নাহিদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলাম।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলাম।
Picture of অনিক রায়

অনিক রায়

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল নয়, সংস্কার চান বলে জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম, যিনি চলমান আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গতবারের আন্দোলনেও কোটা সংস্কার চাওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি কোটা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

কোটাবিরোধী আন্দোলন এবং এনিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলার মধ্যে সকাল সন্ধ্যাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাহিদ বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ থাকতে পারে।

কোটা সংস্কারের জন্য একটি কমিশন গঠন করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সেই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে কোটা সংস্কার করতে হবে।

তার আগে ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল রাখার দাবিও তিনি জানিয়েছেন। তার মতে, বিষয়টি নিয়ে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেই মাঠের আন্দোলন শিথিল হয়ে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালে হাইকোর্টের রায়ের পর তা স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষ এরই মধ্যে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে। তাতে বুধবার রায়ের ওপর স্থিতাবস্থাও এসেছে।

তার একদিন আগে মঙ্গলবার সকাল সন্ধ্যাকে সাক্ষাৎকার দেন নাহিদ।

ছয় বছর আগে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে কোটা সংস্কার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।

সেই আন্দোলনে ভর করে নুরুল হক নুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হন। তারপর জাতীয় রাজনীতিতে আসা নুর রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ গঠন করে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়।

তবে এবারের আন্দোলনে সামনের কাতারে রয়েছে ‘ছাত্রশক্তি’ নামের যে সংগঠন, সেই সংগঠনের সদস্য সচিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ।

এই সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের এক সময়ের নেতা, নুর নেতৃত্বাধীন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন।

এবার আন্দোলন হচ্ছে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে। এর কয়েকজন সমন্বয়কের একজন হলেন নাহিদ।

চলমান আন্দোলন নিয়ে নাহিদ বলেন, “গতবারের সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আন্দোলনের ফলে হয়েছিল। সংস্কার চাওয়া হলেও বাতিল কেন করা হয়েছিল? সরকার যে ত্রুটিপূর্ণ পরিপত্র গতবার জারি করেছিল, সেই ব্যাপারে তার (সরকার) তো কথা বলতে হবে।”

চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে এখন শিক্ষার্থীরা। ছবি : হারুন অর রশীদ

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষণ করা হতো। এরমধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ শতাংশ পদ। এছাড়া নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ কোটা ছিল।

২০১৮ সালের আন্দোলনের মুখে সরকার কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে একটি কমিটি করে।

ওই কমিটি সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনও কোটা না রেখে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়ম চালু করতে ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ জমা দেয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর ওই বছরের ৪ অক্টোবর কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি হয়।

ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে আবেদন করেন। তার শুনানি শেষে গত ৫ জুন ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করে হাইকোর্ট রায় দেয়।

বর্তমান আন্দোলন কোটা বাতিলের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য হচ্ছে দাবি করে নাহিদ বলেন, “আমরা কোটা বাতিল চাচ্ছি না। আমরা সংস্কারই চাচ্ছি। আমরা মনে করি, ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করাটাই বুমেরাং ছিল। বাতিল করার পরই হাইকোর্ট এটাকে অবৈধ ঘোষণার সুযোগ পেয়েছে। এবার যেহেতু আবার এই সুযোগ পাওয়া গেছে, ফলে এটা সংস্কার হোক।

“একটি কমিশন গঠন করে কোটার একটি যৌক্তিক সংস্কারের মাধ্যমে এটিকে সংশোধন করা হয়। কমিশন গঠন একটি প্রক্রিয়ার বিষয়, সময়ের ব্যাপার। এই সময়টুকুতে আমরা চাই, ২০১৮ এর যেই পরিপত্র তা যেন বহাল থাকে।”

কেন কমিশন গঠনের কথা বলছেন- জানতে চাইলে নাহিদ বলেন, “আমরা কমিশন গঠন করার কথা বলছি এর কারণ কমিশন গঠন হলে একটি যথাযথ গবেষণা করা যাবে। সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানো যাবে।

“একটি পরিপূর্ণ রিপোর্ট আসলে আমরা বলতে পারব বাংলাদেশে কারা আসলেই কোটার হকদার। কমিশন গঠন করা হলেই এসব তথ্য জানা যাবে। তখন কোন কোন অনগ্রসর গোষ্ঠীকে কতটুকু কোটা দিতে হবে, তা সহজেই নির্ধারণ করা যাবে।”

তবে কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশের মধ্যে রাখাটা জরুরি বলে মনে করেন নাহিদ।

শাহবাগে কোটাবিরোধীদের বিক্ষোভ হচ্ছে প্রতিদিনই।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা জুলাইয়ের শুরু থেকে প্রায় প্রতিদিন রাজপথে নামছে। তাতে জনদুর্ভোগও তৈরি হচ্ছে।

বিষয়টি আদালতে থাকার মধ্যে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করলে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর সমন্বয়ক নাহিদ বলেন, “এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করেছিল। রাষ্ট্রের আরেক বিভাগ বিচার বিভাগ তা বাতিল করেছে।

“ফলে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রের দুই বিভাগের মধ্যে সম্বন্বয় নেই। এর ফলে ভুক্তভোগী হচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীরা। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকার আপিল করেছে বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের উপরে। এটিকে সরকার অনেক বড় বিষয় বলে দেখাচ্ছে।”

কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে আপিলে যাওয়ার যে কথা সরকার বলছে, তার প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ বলেন, “সরকারের কাছেও আমাদের প্রশ্ন আছে। ৫ জুন থেকে এতদিন যাওয়ার পর এতদিন কেন সময় লাগল সিদ্ধান্ত নিতে? সরকারের উচিৎ ছিল তড়িঘড়ি করে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া। যেহেতু এটি একটি সেনসিটিভ বিষয় শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ বা রাজনৈতিক বক্তব্য আমরা পাইনি।”

তাদের আন্দোলন আদালতের বিরুদ্ধে নয় দাবি করে নাহিদ বলেন, “আমরা কিন্তু এখন আদালতের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি না। কারণ, আমরা সংস্কারের কথা বলছি। এটা বিচার বিভাগ পারবে না। আমরা সরকারের কাছে আন্দোলন করছি। যেন তারা দ্রুত কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে একটি নতুন পরিপত্র জারি করে।”

আন্দোলন যেভাবে হচ্ছে

সারাদেশে একটি সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান নাহিদ।

গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কর্মসূচিতে নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, “সারা বাংলাদেশে আন্দোলন সমন্বয় করার জন্য আমরা একটি কমিটি করেছি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জেলায় যারা আন্দোলন করছিল, তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা একটি সমন্বয় কমিটি করেছিলাম। আমরা ফরমালি সবাইকে এই কমিটির কথা জানিয়েছি। আরও যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা জেলায় আন্দোলন হচ্ছে তাদের সাথেও কথা হচ্ছে। তাদেরও এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সবাইকে সাথে নিয়েই আন্দোলনটি সামনে পরিচালিত হবে।”  

চলমান আন্দোলনে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে নাহিদ বলেন, “আন্দোলনে ছাত্রলীগের স্পষ্ট কোনও ভূমিকা আসলে নেই। তাদের বিভিন্ন নেতা বিভিন্ন রকমের কথা বলছে। কেউ আন্দোলনের পক্ষে বলছে, আবার কেউ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে কথা বলছে। কিন্তু ছাত্রলীগের যারা সাধারণ কর্মী, যারা হলে থাকে- তারা কিন্তু এই আন্দোলনে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করছে।”

তবে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে পরোক্ষ বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমরা বেশ কিছু ঘটনা পেয়েছি, যেখানে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। হল গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের রুমে রুমে গিয়ে বলা হয়েছে, যেন তারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ না করে। আমরা যখন প্রোগ্রাম রাখি তখন তারাও একটি সাংগঠনিক প্রোগ্রাম রাখে। আমাদের একজন সমন্বয়ককে হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। এরকমের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা পেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের বিপক্ষে কোনও অবস্থান আমরা দেখিনি।”

২০১৮ সালের আন্দোলন এবং এবারের আন্দোলনে কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে বলে মনে করেন নাহিদ।

তিনি বলেন, “গতবারের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরাই একত্রিত হয়ে জনমত গঠন করে সুসংগঠিত হয়ে করেছিল। গত আন্দোলন নির্বাচনের আগের বছর ছিল। ফলে অনেক কৌশলের মধ্য দিয়ে আন্দোলন হয়েছিল। এবার আমরা যারা আন্দোলন করছি, আমাদের কিন্তু জনমত গঠন করতে হয়নি। এবার আগে থেকেই এটার জনমত আছে। এজন্য এত দ্রুত সময়ে আন্দোলন ছড়িয়ে গেছে।”

সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখলেই মাঠের আন্দোলন শিথিল হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সরকারের পদক্ষেপ বা ইতিবাচক মনোভাব দেখতে চাই। একই সঙ্গে আমরা জানি, এটা সময়ের বিষয়। যদি ইতিবাচকতা দেখে আমরা যদি বুঝি, এটা সমাধান হবে- তাহলে আমরা মাঠের যে কঠোর আন্দোলন, সেটাকে শিথিল করে নিয়ে আসব। আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি এই আস্থাটা রাখতে চাই।”

আন্দোলনকারীরা বলছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তৃতীয় প্রজন্মের জন্য কোটা রাখার পক্ষপাতি নন তারা।

‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এক জিনিস নয়’

ডানপন্থীদের ইন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য বানানো হচ্ছে-এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ বলেন, “আমরা কিন্তু সামগ্রিকভাবে কোটা পরিবর্তনের কথা বলছি। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাদ দিলেও আরও ২৬ শতাংশ কোটা রয়েছে। পরের শ্রেণীগুলোতে পোষ্য কোটার মতো আরও অনেক কোটা রয়েছে। আমরা কিন্তু সবগুলোর কথাই বলছি।

“যেমন ধরেন আমরা নারী কোটার কথা বলছি। গত ৫০ বছরে নারী কোটা ছিল ১০ শতাংশ। কিন্তু গত ৫০ বছরে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে। বর্তমানে ১০ শতাংশ থাকা উচিৎ কি না- তা এখন পুনর্বিবেচনা করার কথা আমরা বলছি।”

আন্দোলনকারী নারী শিক্ষার্থীরা নারী কোটারও বিরোধিতা করছেন।

‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এক জিনিস নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা কোটাটা ৩০ শতাংশ অনেক বেশি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অনুপাতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জনসংখ্যা তো এত না। এজন্য এটি সবার আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

“এখানে আমরা বলতে চাই- মুক্তিযোদ্ধার কোটা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ কিন্তু এক জিনিস না। মুক্তিযোদ্ধা কোটা তো আর মুক্তিযোদ্ধারা পাচ্ছেন না। এটা মূলত একটি পোষ্য কোটায় পরিণত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের তৃতীয় প্রজন্ম এটি পাচ্ছে। তৃতীয় প্রজন্মের পাওয়ার তো কোনও যৌক্তিকতা নেই। যুদ্ধে তো তাদের কোনও ভূমিকা নেই।”

নাহিদ আরও বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরোধিতা করাকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বিরোধিতা করা হচ্ছে বলে অনেকে বলছেন, এটাকে আমরা ভুল বক্তব্য মনে করি। যেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিট ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই কিন্তু আমাদের আন্দোলন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে যে এক ধরনের বংশগত বিষয় হিসেবে দেখানো হচ্ছে, আমরা তার বিরুদ্ধে।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর সমন্বয়ক মনে করেন, শুধু মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক- বিষয়টি ঠিক না। এর ফলে সমাজে প্রথম শ্রেণির নাগরিক, দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক তৈরি হচ্ছে।

নাহিদ বলেন, “এভাবে বরং মুক্তিযুদ্ধকে সাধারণ জনগণের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে যে বিতর্ক তার জন্য কিন্তু আসলে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারদের অসম্মানিত করা হচ্ছে। আমরা আসলে তাও চাই না। আমরা মনে করি, মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকতে পারে দ্বিতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত। কিন্তু এরপর তৃতীয় প্রজন্মে এটা থাকা উচিৎ না।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত