Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

বাংলাদেশের একটা খারাপ বছরে উদ্বিগ্ন নন শান্ত

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন শান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন শান্ত।

গত দুই বছরে টি-টোয়েন্টিতে ১৩টি ওপেনিং জুটি খেলেছে বাংলাদেশের। সিলেটে সর্বশেষবার ওপেন করেছেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় ম্যাচ ছাড়া সফল ছিলেন না এই দুজন।

এরপরও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে জানিয়েছিলেন, জুনে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে লিটন-সৌম্যই ইনিংস ওপেন করতে পারেন বাংলাদেশের। অথচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেভাবে সফল নন সৌম্য। তার তিনটি ইনিংস ১১, ২৬ ও ১২। উইকেট কেবল ১টি। তবে তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, শুধু সৌম্যর ব্যাটিং নন-চান সেরা বোলিং আর ফিল্ডিংও।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগামীকাল (বুধবার) তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি মাঠে গড়ানোর আগে আজ (মঙ্গলবার) সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বললেন, ‘‘ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- সবকিছুতে ওর কাছে শতভাগ চাই। শেষ সিরিজে সে অনেকদিন পর ফিরে আসলো, তিনটা ম্যাচে। তিনটা ম্যাচই খেলেছে। এর মধ্যে একটা বড় ইনিংসও ছিল। অবশ্যই ধারাবাহিকতার প্রয়োজন আছে। সব ব্যাটারেরই আছে। আলাদাভাবে সৌম্যের একার প্রয়োজন আছে সেটা বলব না। প্রত্যেক ব্যাটারের এই জায়গায় উন্নতির দরকার আছে।’’

টি-টোয়েন্টির মত ওয়ানডেও কি ওপেন করবেন সৌম্য? তানজিদ হাসান তামিম ফেরায় লিটন দাসের সঙ্গে তার ওপেন করার সম্ভাবনাই বেশি।

এ নিয়ে ধোঁয়াশা রাখলেন শান্ত, ‘‘সৌম্য নিজে সেটা নিয়ে কাজ করছে। প্রত্যেক ব্যাটারই কাজ করছে। শেষ ইনিংসের কথা যদি বলি, ওরকম একটা সময়ে, ওরকম একটা কন্ডিশনে এমন একটা ইনিংস খেলা আমাদের দলের জন্য বড় ব্যাপার। আশা করি, এই সিরিজে ও যদি সুযোগ পায়, তাহলে যেখানে ব্যাটিং করার সেখানে থেকে দলের জন্য বড় কিছু করবে।’’

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বারবার ব্যাটিং অর্ডার বদলে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা তিন টি-টোয়েন্টিতে একই একাদশ খেলিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজেও কি এমন কিছুই হবে? শান্ত বললেন, ‘‘‘গত সিরিজে খুব একটা অদলবদল হয়নি। এখন সাকিব ভাই নেই। দলের কম্বিনেশনে একটু এদিক–সেদিক করতে হয়। উনি থাকলে দল করাটা সহজ। এসব মাথায় রেখেই ব্যাটিং অর্ডার সাজাব। তবে আশা করব ব্যাটিং অর্ডারে খুব বেশি নাড়াচাড়া হবে না।’’

তাহলে সেরা একাদশ কেমন হতে পারে বাংলাদেশের। শান্ত বললেন, ‘‘সবারই সুযোগ আছে। যে ১৫ জন দলে আছে সবারই সুযোগ আছে কালকে খেলার। কালকে আমরা সিদ্ধান্তটা নিব যে কে খেলবে। কোন ১১ জন দলের জন্য বেটার হবে। সবারই সুযোগ আছে। সাথে রিয়াদ ভাই আমাদের দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। গত সিরিজে তিনি ইনজুরির জন্য খেলেননি। এটা ভালো দিক আমাদের দলের জন্য। বেস্ট পসিবল যে ১১ জন তারাই খেলবে।’’

 টি-টোয়েন্টি সিরিজে দর্শক হয়নি সেভাবে। ওয়ানডেতে কি হবে? চট্টগ্রামে টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয়নি মোটেও। উল্টো হারের পর সমালোচনায় জর্জরিত হতে হয় বাংলাদেশকে। এ নিয়ে শান্ত জানালেন, ‘‘এক ম্যাচ ভালো খেললে আমাদের সব কিছু ঠিক হয়ে যায়। আবার এক ম্যাচ খারাপ খেললে আমরা অনেক খারাপ দল হয়ে যাই। এটা আমাদের অতীতে হয়ে আসছে। রমজান শুরু হচ্ছে, এটার কারণেও হতে পারে। তবে এটা নিয়ে বেশি চিন্তিত না।’’

শান্ত অবশ্য প্রশংসাই করলেন দর্শকদের, ‘‘আমাদের সমর্থকরা সবসময় মাঠে আসেন, খেলা দেখেন, দলকে সমর্থন করেন। মাঝেমধ্যে আবেগে যেসব কথাবার্তা বলেন এগুলো আমাদের কারণেই বলেন। কারণ, তারা আশা করেন আমরা আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। তাই আমরাও আমাদের দিক থেকে শতভাগ চেষ্টা করি তাদের কীভাবে ভালো ফিডব্যাক দিতে পারি।’’

জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। এটা বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে কিনা? শান্ত বললেন, ‘খুব একটা প্রভাব ফেলে না। কারণ এই জিনিসটা আমরা সবাই মানিয়ে নিয়েছি। গত চার-পাঁচ বছর ক্রিকেট এভাবেই এগোচ্ছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সিরিজ থাকে বা প্রস্তুতির সুযোগ থাকে, সময়ও থাকে। মানসিকভাবে সবাই ফিট হতে পারে। সবাই এভাবেই খেলছে।’

ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভরাডুবিই হয়েছিল বাংলাদেশের। তাছাড়া ২০২৩ সালের পর ৩২ ম্যাচ জিতেছে কেবল ১১টি। একটা বছর খারাপ যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন নন শান্ত, ‘‘২০১৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। কাজেই একটা বছর খারাপ যেতেই পারে। কিন্তু দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এই বছরটা ভালোভাবে ফেরাটা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত।’’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist