Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

বাবার খুনের বিচার পায়নি, এখন সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে ৫ মেয়ে

সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ নিশাত সেলিমের স্ত্রী ও পাঁচ মেয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ নিশাত সেলিমের স্ত্রী ও পাঁচ মেয়ে।

দশ বছর আগে রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন বাবা, সেই খুনের বিচার এখনও পাননি; এর মধ্যে পারিবারিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন পাঁচ মেয়ে।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ইউসুফ আলী সেলিমের (নিশাত সেলিম) পাঁচ মেয়ে অভিযোগ তুলেছেন, বাবার সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করতে চাইছেন চাচারা।

তাদের অভিযোগ শুনে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, নিশাত সেলিমের মেয়েদের সঙ্গে এমনটা ঘটলে তা হবে দুঃখজনক।

তবে ভাতিজিদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নিশাত সেলিমের ভাই।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই খুন হন নিশাত সেলিম। লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়ি তিতারকান্দিতে জাকাতের শাড়ি বিতরণের পর মোটরসাইকেলে নোয়াখালী শহরে ফেরার পথে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

ব্যবসায়ী পরিবারের বড় সন্তান নিশাত সেলিম নোয়াখালী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতিও ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। তাকে হত্যার জন্য তখন বিএনপিকে দায়ী করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

পারিবারিক ব্যবসার পুরোটাই দেখাশোনা করতেন পরিবারের বড় সন্তান সেলিম। তার মধ্যে রয়েছে ঢাকায় ট্যানারি, মাইজদীতে বিভিন্ন মার্কেট এবং পরিবহন ব্যবসা।

এই সম্পত্তি কোটি কোটি টাকার বলে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন নিশাত সেলিমের মেয়েরা। তারা বলেন, তাদের বাবা না থাকায় এখন চাচা ইউনুস আলী মিলন, ইয়াকুব আলী লিটন, ইকবাল হোসেন স্বপন ও ফুপু হাসিনা আক্তার সুমি সেই সম্পত্তিতে তাদের ভাগ দিতে চাইছেন না।

জেলা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান নিশাত সেলিমের তৃতীয় মেয়ে নাহিদ সাহেলা আলী। উপস্থিত ছিলেন অন্য মেয়ে নাহিদ সালমা আলী, নাহিদ সায়মা আলী, নাহিদ সুমাইয়া আলী ও নাহিদ সাহেবা আলী। তাদের মা কোহিনুর বেগমও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

সাহেলা আলী বলেন, মাইজদী, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকায় তার বাবার রেখে যাওয়া একক এবং যৌথ মালিকানার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন চাচারা ও ফুপু। ঢাকার হাজারীবাগে কে টি লেদার ও নিশাত ট্যানারি নামের দুটি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে বায়না করে পরবর্তীকালে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রি ছাড়াই দখল হস্তান্তর করে আত্মসাৎ করেছেন তারা।

সাহেলা বলেন, “ঢাকার হেমায়েতপুরে আমার বাবার একটি ট্যানারি আছে, যা আমার ছোট চাচা ইকবাল হোসেন স্বপন ও তার শ্যালক টিটুসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র ব্যবসা ও ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।”

বাবার মৃত্যুর পর চাচা ইউনুস আলী মিলন ও ইয়াকুব আলী লিটন মাইজদী পুরানো বাসস্ট্যান্ডের নিশাত প্লাজা মার্কেটের নিচ তলা দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ নিশাত সেলিমের মেয়েদের। তারা বলেন, এর বাইরে লক্ষ্মীপুরের তিতিরকান্দি, ফাজিলপুর ও কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন স্থানে নিশাত সেলিমের সম্পত্তি গত ১০ বছর ধরে দখল করে রেখেছে তার ভাই-বোন।

সাহেলা অভিযোগ করেন, বর্তমানে তাদের পাঁচ বোন ও মাকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

পারিবারিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নিশাত সেলিমের মেয়েরা।

বিষয়টি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্লাহ খান সোহেল সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “ইউসুফ আলী সেলিম সাহেবের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও কন্যারা তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পাক, আমরা এমনটাই কামনা করি। এর কোনও ব্যত্যয় ঘটলে তা হবে দুঃখজনক।”

“তবে বিষয়টি যেহেতু আইনি, তাই তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হবে, সেটাই চাই,” যোগ করেন তিনি।

ভাতিজিদের অভিযোগের বিষয়ে ইউনুস আলী মিলন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। সেলিম ভাইয়ের মেয়েরা তাদের পাওনা নিচ্ছে। যখন যেখানে জমি বিক্রি হচ্ছে, তাদেরকে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপরও তারা কেন এসব অভিযোগ তুলছে, আমরা বুঝতে পারছি না।”

মামলা এখনও ঝুলছে

২০১৪ সালে নিশাত সেলিম হত্যাকাণ্ডের পর তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম যে মামলা করেছেন, তা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।

ঘটনার পর কোহিনুর বেগম ২৭ জনকে আসামি করে সুধারাম থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলার ৪২ আসামির বিচার হচ্ছে অতিরিক্ত জেলা জজ প্রথম আদালতে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই আসামির বিচার হচ্ছে শিশু আদালতে। দুটি আদালতে মামলাটিতে এখনও সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এরমধ্যে একজন সাক্ষী খুনও হয়েছেন। আসামিদের মধ্যে ১৭ জন এখনও পলাতক।

অতিরিক্ত জেলা জজ প্রথম আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট দেবব্রত চক্রবর্তী সকাল সন্ধ্যাকে জানান, এ পর্যন্ত মামলার বাদী কোহিনূর বেগমসহ দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

মামলার অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বেশিরভাগ সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। অনেকে আসামি পক্ষের শিখিয়ে দেওয়া সাক্ষ্য দিতে চায়। সব মিলিয়ে মামলাটি পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ নিশাত সেলিমের স্ত্রী ও পাঁচ মেয়ে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist