Beta
মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪
Beta
মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

এবার আমরা উদার হব না : ওবায়দুল কাদের

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

মিয়ানমারে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি ঘিরে দেশটিতে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের জন্য এবার আর সীমান্ত খুলে দেওয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবার আর বাংলাদেশ উদারতা দেখাবে না।

ঢাকায় সেতু ভবনে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “এবার আমরা উদার হব না। গতবার উদার হয়ে সীমান্ত খুলে দেওয়ায় (মিয়ানমারের) মানুষগুলো এসেছে। তখন যেরকম সহযোগিতা আমরা পেয়েছি, তা এখন পাচ্ছি না। যারা বাংলাদেশে এসেছেন তারা আমাদের জন্য বোঝা হয়ে গেছেন। আর কয়দিন এই বোঝা সইব? ফলে, নতুন করে সীমান্ত খোলার কোনও সুযোগ নেই।”

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), সেনাবাহিনী, পুলিশ, ইমিগ্রেশন সদস্য ও অন্যান্য সংস্থার ৩২৭ জন সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বিজিবি তাদেরকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয় এবং আহতদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “যে অফিসাররা পালিয়ে এসেছেন, তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে। আমরা তাদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলেছি। তাকে জানিয়ে দিয়েছি– তাদের লোকজনকে নিয়ে যেতে। তারা কথা দিয়েছে খুব শিগগিরই তাদের নিয়ে যাবেন।”

মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতিতে চীন ও ভারতের ভূমিকা রাখা জরুরি– এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এখানকার পরিস্থিতিতে চীন খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সাথে কথা হয়েছে, আমরা তাদের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছি। চীনের পরই গুরুত্বপূর্ণ ভারত। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন ভারতে। সেখানে তিনি কথা বলছেন।”

মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে ওপার থেকে একের পর এক গোলা এসে পড়ছে বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্তের ভেতরে। তাতে দুজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। পরিস্থিতি এমন যে সীমান্তের কয়েকশ পরিবারকে বাড়ি থেকে সরিয়ে আনতে হচ্ছে।

মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল উড়ে আসার ঘটনাকে ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জলাঞ্জলি’ বলে মঙ্গলবার মন্তব্য করেছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, মিয়ানমারের ছোড়া মর্টারের গোলায় বাংলাদেশে মানুষ নিহত হলেও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিবাদ জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “মিয়ানমার বিষয়ে আমরা কী করব? এটা ওদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা রাষ্ট্রদূতকে ডেকেছি, আমাদের কথা জানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এসব বিএনপির চোখে পড়ে না।”

হতাশা থেকেই বিএনপি ‘আবোল-তাবোল বকছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বিএনপি নিয়ে কেন প্রশ্ন করেন আপনারা। বিএনপি নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। ওদের নিয়ে হাসা যেতে পারে, কিন্তু সিরিয়াস হওয়ার কিছু নেই। তাদের আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে, তারা নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে। তাদের কর্মীরা হতাশায় নিমজ্জিত। হতাশা কাটানোর জন্য বিরোধিতার নামে বিরোধিতা করছে বিএনপি। এটা তার করতে হবেই, বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা।”

সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পে ঋণ দেবে বিশ্ব ব্যাংক

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক ঋণ সহায়তা দেবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বিশ্ব ব্যাংক।

ওবায়দুল কাদের জানান, বুধবার সকালে বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেতু ভবনে তার সঙ্গে দেখা করতে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “প্রতিনিধি দলের সাথে কথা হয়েছে। আমরা সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প হাতে নিয়েছি তাদের সাথে। এটা আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করছি। আমরা সড়কে মানুষের নিরাপত্তা ঠিক রাখতে পারছি না। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, ফ্লাই ওভারসহ অনেক সেতু-রাস্তা করেছি। যতই এগুলো করি না কেন, রাস্তায় মানুষকে নিরাপত্তা না দিতে পারলে এগুলোর কোনও সুফল নেই।”

তিনি জানান, চার হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। বাকিটা অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে হাইওয়ে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, হাইওয়ের জন্য বিশেষ হাসপাতালসহ বাংলাদেশের তিন হাসপাতালকে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বিশেষায়িত করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, টাঙ্গাইল জেলা হাসপাতাল ও মুগদা হাসপাতালকে ঠিক করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০২৩ সালের ১ মে থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে সময়মতো কাজ শুরু করা যায়নি।

কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, “যতটা দ্রুত কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। এ নিয়ে আমি খুশি না। তাই আমি নিজেই এখন তত্ত্বাবধান করছি। আমি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বলেছি– সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে সভা করতে, আমিও থাকব। এ কাজ সময়মত শেষ করতে হবে।”

পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রকল্প বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে শুরু হলেও পরে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।

সড়ক নিরাপত্তার নতুন প্রকল্পে এরকম কিছু হওয়ার সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “এখনও তো কাজই শুরু হয় নাই, দুর্নীতির কথা এখন না বললেও হয়। কেউ যদি দুর্নীতি করে এবং তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই তার বিচার করব। আপনি তো নিশ্চয় চাইবেন না দুর্নীতি যে করে সে বিচার ছাড়া পার পেয়ে যাক।”

তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি রাখার জন্য তাদের বলেছেন বলেও জানান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত