Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

দেশের প্রতি ৯৯০ জনের জন্য হাসপাতালে একটি শয্যা

সংসদ
ফাইল ছবি

দেশের প্রতি ৯৯০ জন মানুষের জন্য রয়েছে একটি মাত্র হাসপাতালের শয্যা। আর এ সংখ্যা কেবল সরকারি হাসপাতালের নয়, বরং সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ‍মিলিয়ে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৭ আসনের স্বতন্ত্র এমপি এ বি এম আনিছুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

তিনি বলেন, দেশে প্রতি ৫০ জনের বিপরীতে সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা শূন্য দশমিক ০২১১টি।

সরকারি হাসপাতালগুলোয় পর্যায়ক্রমে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “২০২২ সালের হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী দেশে সরকারি শয্যা সংখ্যা ৭১ হাজার ৬৬০টি এবং বেসরকারি শয্যা সংখ্যা ৯৯ হাজার ৯৭৫টি। সব মিলিয়ে মোট শয্যা সংখ্যা ১ লাখ ৭১৬৭৫টি। সে হিসেবে মোট সংখ্যা অনুযায়ী প্রতি ৯৯০ জন লোকের বিপরীতে একটি শয্যা রয়েছে।”

এসময় অবৈধ ক্লিনিক বন্ধের বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা যদি তার সঙ্গে থাকেন তাহলে অবশ্যই তিনি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করতে পারবেন। এজন্য এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় যেসব ক্লিনিক বা ডায়গনস্টিক সেন্টার আছে সেগুলোতে সব সুযোগ সুবিধা আছে কি না, লাইসেন্স আছে কি না, এসব দেখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

ব্যক্তিগতভাবে তিনি সব হাসপাতাল বন্ধের পক্ষে নন জানিয়ে সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আছে এমন হাসপাতালগুলো থাকবে।

এইচ এম বদিউজ্জামানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি সব বিভাগে গিয়ে হাসপাতালগুলোতে কী কী সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে ব্যবস্থা করবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকা, চট্টগ্রামের মত শহরে রোগীর ভিড় হবে না, মাটিতে শুয়ে থাকতে হবে না।
 
সরকারি হাসপাতালে স্নাতক ফার্মাসিস্ট পাঁচজন

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালে স্নাতক ডিগ্রি পাওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা ২৯ হাজার ৫৬১জন। স্নাতক নার্সের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৫০ জন, যার মধ্যে বিএসসি ইন নার্সিং পাস করা ৩ হাজার ৯০৪, বিএসসি ইন পাবলিক হেলথ নার্সিং (পোস্ট বেসিক) ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৫৯৭ জন এবং বিএসসি ইন নার্সিং (পোস্ট বেসিক) ১ হাজার ১৪৯ জন। স্নাতক ফার্মাসিস্ট রয়েছেন মাত্র পাঁচজন।

স্বতন্ত্র এমপি মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সামন্ত লাল সেন বলেন, ওষুধের দেশীয় মোট চাহিদার ৯৮ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সারাদেশের ১৪ হাজার ২৯২ টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ২৭৫ টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান দেশের ৪২৯ টি কার্যকরী উপজেলা হাসপাতালের মধ্যে ৩৮৩ টিতে এক্সরে মেশিন রয়েছে। যার মধ্যে ৫৩ অচল।

সরকার দলীয় এমপি তৌহিদুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, “করোনারি স্টেন্ট (রিং) এবং মেকানিক্যাল ভাল্ব হাইটেক পণ্য, করোনারি স্টেন্টের প্ল্যান্ট তৈরি করতে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত এ ধরনের প্রকল্প করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। প্রকল্প অনুমোদনের আবেদনও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে জমা হয়নি।”

বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ও স্বল্পমূল্যে দেশের জনসাধারনের হৃদরোগের চিকিৎসা নিশ্চিতকরণে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে ক্যাথ ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের চিন্তা করে সরকার স্টেন্ট আমদানির উপর সব ধরনের ভ্যাট, ট্যাক্স বাদ দিয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist