Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

৬ দলের জোট, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শেহবাজ

লাহোরে শুক্রবার দলের কার্যালয়ে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফ। ছবি: রয়টার্স
লাহোরে শুক্রবার দলের কার্যালয়ে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফ। ছবি: রয়টার্স
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে বেশ জল্পনা-কল্পনা চলছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে। সরকার গঠন ও ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করে নির্বাচনে দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।

শোনা যাচ্ছিল, পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফ বা পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে হঠাৎ মঙ্গলবার রাতে ঘোষণা আসে, নওয়াজ বা বিলাওয়াল এদের কেউই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন না। বরং নওয়াজের ছোট ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছে পিএমএল-এন ও পিপিপি। নওয়াজ শরিফ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তার ছোট ভাইকে মনোনীত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

একই সঙ্গে ভোটপরবর্তী অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে জোট সরকার গঠনেও সম্মত হয়েছে পাকিস্তানের এই দুই দল। শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে এই জোটে থাকছে পিএমএল-এন, পিপিপি, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি), পাকিস্তান মুসলিম লিগ-কায়েদ ই আজম গ্রুপ (পিএমএল-কিউ), ইস্তেহকাম-ই-পাকিস্তান পার্টি (আইপিপি) ও বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি)।

পাকিস্তানের এই ৬ দল ৮ ফেব্রুয়ারির জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে যত আসনে জয়ী হয়েছে, তা যোগ করলে দাঁড়াচ্ছে ১৫২। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সংরক্ষিত আসনের (নারী ৬০ আসন ও সংখ্যালঘু ১০ আসন) ভাগ। কেন্দ্রে সরকার গঠন করতে গেলে সর্বনিম্ন ১৬৯ আসনের দরকার পড়ে। স্পষ্টতই পাকিস্তানে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ভোটপরবর্তী প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সক্ষম হয়েছেন পিএমএল-এন ও পিপিপির নেতারা। 

এখন দেখার বিষয়, এই জোট পাকিস্তানের ৩৩৬ সদস্যের জাতীয় পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বসতে পারবে কি না। এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে তাদের প্রয়োজন পড়বে ২২৪টি আসনের।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তাদের সমর্থনপুষ্ট নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মজলিস-ই-ওয়াহদাতুল মুসলিমিনে (এমডব্লিউএম) যোগ দেবেন। সেক্ষেত্রে পিটিআই নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ভাগ পাবেন।

দলীয়ভাবে নির্বাচনে দাঁড়াতে না পেরে পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীরা ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার পরও সংরক্ষিত আসনের বাধ্যবাধকতার কারণে সরকার গঠনে পিছিয়ে পড়ে। পাকিস্তানের সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলই কেবল সংরক্ষিত আসনের বরাদ্দ পাবে।    

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেনজির ভুট্টোর ছেলে ও পিপিপি নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। সেখানে তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পিপিপির নির্বাচিত নেতারা কোনও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন না। তবে তারা কেন্দ্রে পিএমএল-এনের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন।

পিপিপি নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।

বিলাওয়ালের সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টাখানেক পর বৈঠকে বসেন পিএমএল-এন, পিপিপি, এমকিউএম-পি ও পিএমএল-কিউয়ের নেতারা। বৈঠক শেষের পরপরই জোট সরকার গঠনের ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বিলাওয়াল বলেছিলেন, “পিটিআই, পিএমএল-এন বা পিপিপি কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। আমরা যদি এখন পিএমএল-এনকে সমর্থন না দিই, তাহলে আমাদের পুনর্নির্বাচন করতে হবে, যা করার সামর্থ্য দেশের নেই।”

পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থিতা বিলাওয়াল ছেড়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায়ও তার দল থাকছে না। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, তাদের কি সরকারের কোথাও দেখা যাবে না? এই প্রশ্নের জবাব সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।

তিনি বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট, জাতীয় পরিষদের স্পিকার, পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের চেয়ারম্যান, ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়া চার প্রদেশের (পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান ও সিন্ধ) গভর্নরসহ শীর্ষ সাংবিধানিক পদে তাদের দেখা যাবে।

“প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার বা মন্ত্রিসভায় না থাকার বিনিময়ে শীর্ষ সাংবিধানিক পদে পিপিপিকে স্থান দেওয়ার বিষয়ে আলোচনারত দলগুলোর সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয়েছে।”       

৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে জাতীয় ও চার প্রাদেশিক পরিষদে ভোট হয়। জাতীয় পরিষদের ২৬৬ আসনের মধ্যে ২৬৫ আসনে ভোট হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলে দেখা যায়, কোনও দল জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। যার অর্থ, জোট সরকারই গড়তে হবে পাকিস্তানের রাজনীতিকদের।           

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত