Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরে হামলা, নিহত ৮

গোয়াদর বন্দর ৬১ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পের অংশ।
গোয়াদর বন্দর ৬১ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পের অংশ।
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের বন্দর শহর গোয়াদরে একটি বড় হামলা প্রতিহত করেছে।

বুধবার গোয়াদর বন্দর কর্তৃপক্ষের কমপ্লেক্সে প্রবেশের চেষ্টার সময় আট বন্দুকধারী পাকিস্তানের পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের গুলিতে নিহত হয়।

বন্দুক ও বোমায় সজ্জিত হয়ে তারা বন্দরের বাইরে অবস্থিত কমপ্লেক্সটিতে হামলা চালায়। সেখানে সরকারি দপ্তর, গোয়েন্দা সংস্থা ও আধাসামরিক বাহিনীর অফিস রয়েছে।

গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দরটি বহু বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) কেন্দ্রবিন্দু। সিপিইসি পাকিস্তানের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অবকাঠামো ও বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর একটি। এটি চীনের বিশ্বব্যাপী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভেরও অংশ।

কয়েক দশক ধরে চলা বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ সত্ত্বেও চীন খনিজসমৃদ্ধ বেলুচিস্তানে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে।

সাঈদ আহমেদ উমরানি নামে পাকিস্তানের একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা গোয়াদার বন্দর কমপ্লেক্সে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার লড়াইয়ের পর তাদের হত্যা করে।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, জঙ্গিরা বন্দুক হামলা শুরুর ও কমপ্লেক্সে প্রবেশের আগে বেশ কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণও ঘটায়।

উমরানি বলেন, সন্ত্রাসীদের হামলায় অন্তত একজন সৈন্য নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

গোয়াদর শহরের একজন প্রত্যক্ষদর্শী আল জাজিরাকে বলেছেন, স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল ৪টার দিকে এই হামলা শুরু হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে এক পোস্টে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি লিখেছেন, “নিরাপত্তা বাহিনী আট জঙ্গিকে হত্যা করেছে। বার্তাটি জোরালো ও স্পষ্ট। যারা সহিংসতার পথ বেছে নেবে রাষ্ট্র তাদের প্রতি কোনও করুণা দেখাবে না।”

হামলাকারীরা বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সদস্য ছিল। বিএলএর সামরিক শাখা মজিদ ব্রিগেড এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

বিএলএ এক বিবৃতিতে বলেছে, কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার অফিসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিএলএ এর আগেও এই অঞ্চলে এবং অন্যত্র পাকিস্তানি ও চীনা স্বার্থের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।

বেলুচিস্তানের খনিজ ও আঞ্চলিক সম্পদের বড় অংশ প্রদেশটির নিজের উন্নয়নে ব্যবহারের দাবিতে কয়েক দশক ধরে লড়াই করছে বিএলএ। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার তা মানতে নারাজ।

তেল, কয়লা, সোনা, তামা ও গ্যাসের মজুদ সহ বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বেলুচিস্তান পাকিস্তানের দরিদ্রতম প্রদেশ। প্রদেশটির জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটি।

পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের নভেম্বরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করার পর থেকে পাকিস্তানে বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর দুটি গাড়িতে বেলুচদের হামলায় ১৪ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিহত হয়।

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের একটি নিরাপত্তা প্রতিবেদন মতে, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানে ৯৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ৮৭ জন নিহত এবং ১১৮ জন আহত হয়।

তথ্যসূত্র: দ্য ডন, রয়টার্স, আল জাজিরা

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত